Ultimate magazine theme for WordPress.

ইউরোপের যে কোন দেশের পাসপোর্ট যদি আপনার থাকে তাহলে নির্দ্বিধায় বসবাস করতে পারেন নরওয়েতে

প্রকৃতি ও সৈকত প্রেমীদের জন্যে লোফোতেন দ্বিপপুঞ্জ একটি আদর্শ গন্তব্য। নরওয়ের উত্তরাঞ্চলে একগুচ্ছ দ্বিপের সমন্বয়ে এই এলাকাটি পর্যটকদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। এই দীপপুঞ্জকে নরওয়ের সবচাইতে সুন্দর স্থান বলা হয়ে থাকে। এখানকার সচ্ছ পানি ও উষ্ণ আবহাওয়া পর্যটকদের জন্য দারুণ আকর্ষণীয়।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

নরওয়ে উত্তর ইউরোপের একটি রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যার সরকারি নাম নরওয়ে রাজ্য। স্ক্যানডেনেভিয়া তথা সারা দুনিয়ার টপ লিস্টেড দেশ সমূহের মধ্যে নরওয়ে সেরাদের সেরা । কেন সেরা বা ভাল তার বেশ কিছু কারণ রয়েছেন । শুধু ইনকামের জন্য সেরা তা না কিন্তু আছে শিক্ষা , স্বাস্থ্য, চাকুরী, পেনশনের সবচেয়ে ভাল সুবিধা । আর এই সুবিধাভোগ্যার জন্য আপনাকে অবশ্যই নরওয়ের সিটিজেন বা নরওয়ের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হোল্ডার হতে হবে । কিভাবে অন্য দেশের পাসপোর্ট নিয়ে ( ইতালি , স্পেন, পর্তুগাল , জার্মান ইত্যাদি সহ ইউরপিয়ন ইউনিয়ন ভুক্ত সকল দেশের ) নরওয়ে সেটেল হবেন তার আলোচনা করব বিস্তারিত এই পোস্টে । যেহেতু আজকের পোস্ট মূলত যাদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট আছে তাদের জন্য সেহেতু পোস্টের ছাত্র ভিসার বেপারে তেমন কোন কিছু নিয়ে আলোচনা আজকে আপাতত করছি না । সোজা চলে যাচ্ছি নির্ধারিত টপিকসে । যারা ইউরপিয়ান ইউনিয়ন ভুক্ত দেশ সমুহুহের পাসপোর্ট পেয়েছেন বা পাবেন তাদের জন্য কেন নরওয়ে সেটেলমেন্টের জন্য কেন বেস্ট তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরবো ।
ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এর দেশ সমুহুহের যেকোনো এক দেশের পাসপোর্ট হোল্ডার হলে আপনি পেয়ে যাবেন নরওয়ে স্থায়ী হবার গ্রিন চ্যানেল ।। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর মধ্যে বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ইতালিয়ান, স্প্যানিশ পর্তুগীজ পাসপোর্ট হোল্ডার নরওয়ে ডেনমার্ক সুইডেন, সুইজারল্যান্ড কিংবা ব্রিটেনে পারি জমান । আর শুধুমাত্র স্কান্ডেনেভিয়ান দেশ সমুহুহের ব্যাপারে অজ্ঞতার কারণে কিংবা অথেনটিক কোন তথ্য না জানার কারণে নরওয়ে বা সুইজারল্যান্ডের মত দেশে সেটেল হতে পারেন না বা চান না । আর একতা কারণ হচ্ছে নরওয়েতে বাংলাদেশি দের তেমন বড় কোন কমিউনিটি নেই । নরওয়েতে বৈধ স্থায়ী বাংলাদেশীদের সংখ্যা মাত্র ২০০০ হাজারের মত । আসাইলাম হিসাবে আছে আর ৩০০/৪০০ জনের মত । বেশিরভাগ বাংলাদেশী ইউরোপের পাসপোর্ট পাবার পর ব্রিটেনে পাড়ি জমান তার কারণ হল বিশাল বাংলাদেশী কমিউনিটি আছে আমাদের ইউকে তে । যারা মনে করেন বড় কমিউনিটি একটা সাপোর্ট হিসাবে কাজ করে আর আরেকটা বড় কারণ হল বাচ্চা কাচ্চা মানুষ করার জন্য ইসলামিক বহু স্কুল কলেজ আছে ইউকেতে । আসলে ইউকের ব্যাপারে এসব জিনিশ জানার কারণ হল হয়ত আগে আমাদের কোন ভাই ব্রাদার পাসপোর্ট নিয়ে সেটেল হয়েছেন তার থেকে শুনে সেও অনুপ্রাণিত হয়েছেন পাসপোর্ট পেলে ইউকে ই যাবেন । যারা জানেন না তাদের জন্য বলে রাখি ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্সের পড়ে সবচেয়ে বড় মুসলামান কমিউনিটি পাবেন নরওয়েতে । সোমালিয়ান , পাকিস্থানি, আফগানি, ইরাকি , ইরানি আর সিরিয়ার ইমিগ্রান্টসদের হাব হচ্ছে নরওয়ে , বর্তমানে নরওয়ে মোট জনসংখ্যা ৫০ লাখের মত আর এর ১৬/১৭ ভাগ ইমিগ্রান্টস ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোল্যান্ডের নাগরিক, সেকেন্ড পজিশনে আছে লিথুয়ানিয়ান আর থার্ড পজিশন আছে সুইডিশরা আর ৪র্থ পজিশনে জার্মানরা সবচেয়ে বেশি কাজের জন্য নরওয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন । যাইহোক উপরের কথা গুলোর মাধ্যমে জাস্ট নরওয়ের ইমিগ্রান্টদের ব্যাপারে কিছু ধারনা দিয়েছি মাত্র । এবার  আসুন মেইন পয়েন্টে।
একজন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পাসপোর্ট হোল্ডার কিভাবে নরওয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেন? তার জন্য কি কি করণীয় ? সেই  বিষয় গুলো স্টেপ বাই স্টেপ তুলে  ধরছি নিচে ।।

পর্ব-১

আপনাকে নরওয়ে যেতে হবে । প্রাথমিক অবস্থায় আপনাকে নরওয়ে কোন প্রকার রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই যদি না আপনি ৩ মাসের কম সময় অবস্থান করেন । আপনি যদি নরওয়েতে ৩ মাসের বেশি সময়ের জন্য কোন চাকুরী, পড়াশুনা কিংবা বসবাসের জন্য যান তাহলে কেবল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক । নরওয়ে সেটেলমেন্টের প্রথম ধাপ হল যেকোনো জব মেনেজ করা । যেহেতু আপনি ইউরোপের পাসপোর্ট নিয়ে যাবেন নরওয়ে সেই ক্ষেত্রে আপনার জন্য কোন রেস্ট্রিকশন নেই জবের ব্যাপারে । আপনি চাইলে স্কিল্ড জব আন্সকিল্ড জব যেকোনো টাই মেনেজ করে রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা শেষ করতে পারবেন । ২ ভাবে আপনি জব খুঁজতে পারবেন । এক নিজে বা  কারো মাধ্যমে, ২য়ত নরওয়েজীয়ান অফিসিয়াল ওয়েবের মাধ্যমে । অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যত ধরনের জব ভেকেন্সি থাকে তার লিস্ট আপলোড করে দেয়া হয় প্রতিদিন । আপনি আপনার স্কিল অনুযায়ী জব  আবেদন করতে পারবেন । এটা সকল জব সেকারদের জন্য উন্মুক্ত । চাইলে আপনি সিভি আপলোড করতে পারেন কিংবা জব লিস্টের দেয়া তথ্যও অনুযায়ী সরাসরি নিজে আবেদন করতে পারবেন ।তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হল এটা – https://www.nav.no/workinnorway/

পর্ব-২
আপনি যেকোনো জবে জয়েন করার পর আপনার মেইন কাজ হল মালিকের কাজ থেকে জব অফার লেটার বা জব কন্ট্রাক্ট নিয়ে নেয়া । রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনার জব কন্ট্রাক্ট (ফুল টাইম বাধ্যতামূলক । আপনি যদি একের অধিক জায়গায় জব করেন তা হলেও চলবে । শুধু  মাথায় রাখবেন আপনার ৮ ঘণ্টার দৈনিক সপ্তাহ এ ৪০ ঘণ্টার জবের কনফার্ম জব অফার লাগবে হউক  সেটা এক মালিকের বা দুই মালিকের ।

পর্ব-৩

ট্যাক্স কার্ডের আবেদন । সেটা আপনার মালিক বা কোম্পানি আপনার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবে চাইলে আপনি নিজে জব কন্ট্রাক্ট নিয়ে সাথে পাসপোর্ট না ন্যাশনাল আইডি কার্ড সাথে সহ নিকটস্থ যেকোনো ট্যাক্স অফিসে জমা দিতে পারবেন । ট্যাক্স অফিসে যেয়ে যে ফরম ফিলাপ করবেন সেটা – RF-1209 Tax detuction Card for foreign Citizen নামে পরিচিত । আর এফ ১২০৯ বললে ডেস্ক থেকে আপনাকে সেটা দেয়া হবে বিনামূল্যে। ট্যাক্স ডিডাকশন কার্ডের আবেদনের পর আপনাকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে আপনার বাসায় চিঠির মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবে । নরওয়েজীয়ান ট্যাক্স কার্ড আপনার মেইন আইডেন্টিফিকেশান নাম্বার হিসাবেও ব্যাবহার করা হয় । ট্যাক্স কার্ড সম্পর্কে বা নরওয়েজীয়ান ট্যাক্স সম্পর্কে জানতে পারবেন বিস্তারিত এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে – https://www.skatteetaten.no/en/ ট্যাক্স কার্ড হাতে পেলে আপনাকে পুলিশ স্টেশনে যেয়ে রেজিস্ট্রাশনের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে ।

পর্ব-৪

পুলিশের সাথে রেজিস্ট্রেশন । সেটাও দুইভাবে করা যাবে । অনলাইনে নরওয়েজীয়ান ডিরেকটর অফ ইমিগ্রেশনের এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে – https://selfservice.udi.no/en-gb অথবা সরাসরি পুলিশ স্টেশনে যেয়ে বা পুলিশের ওয়েবসাইটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে – https://www.politiet.no ।

রেজিস্ট্রেশন শেষে পুলিশ আপনাকে একটা রেজিস্ট্রাশন সার্টিফিকেট দিবে যাহা প্রমাণ করবে আপনি নরওয়েতে জব/স্টাডি/ বিজনেস এর কারনে থাকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন । রেজিস্ট্রেশন বাবদ কোন ফী দিতে হবে না । এটা সম্পূর্ণ ফ্রি ।। আপনার কাজ শেষ ।। যারা মূলত জব এর জন্য যাবেন কাজ মেনেজ করে ও পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন . কোথায় গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবেন তার ঠিকানা আমি নিচে দিয়ে দিচ্ছি . একই অফিসে ট্যাক্স , ফরেইনার রেজিস্ট্রেশন, ইমিগ্রেশন পুলিশ, সোশ্যাল সিকিউরিটির মত সব কিছুর ফেসিলিটি ওই অফিসে পাবেন .

সুত্র – ভয়েজ অফ নিউ জার্সি

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »