Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রিটেনে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি কি কি ?

সুত্র - যুবরাজ শাহাদাত

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক ♦

যুক্তরাজ্য বা ব্রিটেনের সম্পর্ক ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে ৪০ বছর আগের। অনেক জল্পনা কল্পনার পরে ব্রিটেনে ব্রেক্সিট চুক্তির বাস্তবায়ন দেখতে পেয়েছে। অফিসিয়ালি তারা ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সালে ইউ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। যাবার আগে ব্রিটেনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে ইমিগ্রেশন আইন কানুনে। বলা চলে অনেকটা শিথিল হয়েছে আগের তুলনায়। বিশেষ করে যারা দক্ষ তাদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে ব্রিটেনে প্রবেশের পথ। স্টুডেন্টস এবং জেনারেল ওয়ার্ক ভিসা – টায়ার -২ উভয়ক্ষেত্রে এখন পয়েন্ট ভিত্তিক প্রক্রিয়ায় আপনাকে আসতে হবে।
ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। হোম অফিস ঘোষনা করেছে স্টুডেন্ট ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা। তাদের এই নতুন নিয়মে ওয়ার্ক পারমিট এবং স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ে শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
গত ৫ ই  অক্টোবর থেকে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ১লা জানুয়ারি ২০২১ থেকে ব্রিটেনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রেও শর্ত শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এর ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কাজের জন্য আসতে আগ্রহীদের যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পথে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এই ব্যবস্থা চালু হলে অনেক বাংলাদেশী যুক্তরাজ্যে আসার জন্য আবেদন করবেন।
এদিকে এ খবর বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসী অধ্যূষিত সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অনেকটা উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গেছে।
আজকে যে টপিকস নিয়ে ইউকেতে ওয়ার্ক ভিসা পেতে করনীয় কি এই বিষয়ে বা যা জানা জরুরি !
এখন আসই কাজের কথায় … কি কি যোগ্যতা থাকলে আপনি ইউকেতে জেনারেল ওয়ার্ক ভিসা – টায়ার -২ এর অধীনে ইউকে যেতে পারবেন ? স্পন্সর কে কি কি জিনিস  মাথায় রাখতে হবে ?
প্রথমতঃ  যে প্রতিষ্ঠান আপনাকে হায়ার করবে তাকে ইউকে ইমিগ্রেশন লিস্টেড স্পন্সর হতে হবে অর্থাৎ ওই প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর লাইসেন্স থাকতে থাকতে হবে।
২য়তঃ ওই বাক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মীকে হায়ার করতে পারবেন এবং তাকে নির্ধারিত স্কিল অনুযায়ী বেতন দিতে পারবেন সেটার সখ্যতা থাকতে হবে। এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকের নামে কোন প্রকার অভিবাসন আইন লঙগণের অভিযোগ থাকা যাবে না।
৩য়তঃ আপনি যে প্রতিষ্ঠান যে থেকে জব অফার নিবেন সেটা পুরাতন এবং প্রতিষ্ঠিত বিজনেস হতে হবে।
এখন আসি আবেদনকারীর কি কি যোগ্যতা লাগবে টিয়ার-২ এর অধীনে আবেদন করতে হলে ?
বর্তমান ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম অনুযায়ী শিক্ষা কিংবা চাকুরীর ভিসায় প্রবেশ করতে হলে একজন আবেদনকারীকে অবশ্যই ৭০ পয়েন্ট পেতে হবে। এই ৭০ পয়েন্ট আপনি ফুলফিল করতে পারবে ব্রিটেনে ভিসা নিয়ে প্রবেশে আপনার কোন বাধা নেই। আসুন জানি আবেদনকারী কিভাবে ৭০ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে ? এখানে আরেকটি বিষয় টিয়ার-২ এর অধীনে জব ভিসার আসতে হলে ৭০ পয়েন্টের মধ্যে ৫০ পয়েন্ট বাধ্যতামূলক যা আপনাকে পেতেই হবে, বাকি ২০ পয়েন্ট পাবার ওয়ে গুলো কহব সজ্জ সেটা নিয়ে আলাপ করছি ।
আপনি যদি স্পন্সরড লাইসেন্স হোল্ডার থেকে জব অফার পেলে আপনি পাবেন ২০ পয়েন্ট ।
RQF LEVEL- 3 অর্থাৎ আপনি যদি A লেভেল সম পরিমাণ শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পূর্ণ হন তাহলে পাবেন আর ২০ পয়েন্ট।
আপনার যদি ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি লেভেল ইউরোপিয়ান ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী বি-1 হয়ে থাকে তাহলে আপনি পাবেন আর ১০ পয়েন্ট।  এই হলও mandatory ৫০ পয়েন্ট যা আপনাকে পেতেই হবে।
মোট ৭০ পয়েন্টের ৫০ পেতে পারেন উপরোক্ত যোগ্যতা গুলো থাকলে এখন অপশনাল ২০ পয়েন্ট পেতে হলে যা করনীয়ঃ
আপনার মালিক বা প্রতিষ্ঠান যদি আপনাকে ২৫৬০০ পাউন্ডের সেলারির জব অফার করে আপনি পাবেন ২০ পয়েন্ট।
আপনি যদি নিউ এন্ট্রি হিসাবে অর্থাৎ আপনার বয়স ২৬ এর নিচে এবং আপনি স্নাতক সম্পূর্ণ করেছেন, প্রফেশনাল স্কিল নিয়ে জব করছে তাহলে তাহলে আপনি পাবেন ২০ পয়েন্ট।
২০২০ সালের অভিবাসন আইনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন গুলোর মধ্যে এটি হচ্ছে একটি। বর্তমান টিয়ার-২ এর ভিসা পদ্দতি আগের থেকে অনেক সহজতর করা হয়েছে।  কি কি পরিবর্তন আনা হয়েছে ২০২০ সালের টিয়ার-২ ভিসার সেটা সংক্ষেপে আলাপ করি ।।
আগে যেখানে ৩০ হাজার পাউন্ডের জব অফার বাধ্যতামূলক ছিল একজন আবেদনকারীকে ব্রিটেনে টিয়ার-২ এর অধীনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সেটা ২০২০ সালে পরিবর্তন করে ২৫৬০০ পাউন্ড  করা হয়েছে।
আগে যেখানে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা RQF-6 অর্থাৎ আবেদনকারীকে স্নাতক সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ছিল সেটা কমিয়ে RQF-3 অর্থাৎ A-Level  এর সম পরিমাণ শিক্ষাগত যোগ্যতা হলেই এখন আবেদন করতে পারবে।
আগে যেখানে কারি শিল্পের জন্য রেসিডেন্স লেবার মার্কেট টেস্ট বাধ্যতামূলক ছিল সেটা বর্তমানে তুলে নেয়া হয়েছে অর্থাৎ কেউ যদি রেস্টুরেন্টের , কাটারিং সেক্টরে অভিজ্ঞ সেফ হিসাবে আসতে চায় তাহলে মালিক পক্ষের পূর্বের ন্যায় জব সেন্টারে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার দরকার নেই । বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ইউরোপের বাহির থেকে কাউকে হায়ার করতে পারবে। এখানে আর কথা আছে রেসুরেন্ট সেক্টরের জবের জন্য সেলারি মিনিমাম ২০ হাজার পাউন্ড হলে ই আপনাকে মালিক পক্ষ জব অফার দিতে পারবে।
অপর দিকে যারা হাই স্কিল মাইগ্রান্ট যেমন আইটি স্পেশালিষ্ট, ডাক্তার, নার্স তাদেরকে নির্ধারিত স্কেল অনুযায়ী সেলারি নির্ধারণ করতে হবে। যেমন একজন আইটি অফিসারের জন্য কেউ জব অফার দিলে তাকে বাৎসরিক ৪৬০০০ পাউন্ড সেলারির অফার দিতে হবে।
আগের নিয়নে লন্ডনের ভেতরে থাকা অবস্থা ভিসার ক্যাটাগরি ভিন্ন থাকলে সহজে টিয়ার-২ তে সুইচ করা যেত না কিন্তু বর্তমান নিয়মে আপনি যেকোনো ভিসার ক্যাটাগরি থেকে তিয়ার-২ এর অধীনে অর্থাৎ জব  ভিসায় ট্রান্সফার করতে পারবেন ।
এই ছিল ইউকের টিয়ার-২ অর্থাৎ জব ভিসার সারমর্ম ।

সুত্র লিংক- lifesineurope.com/ব্রিটেনে-ওয়ার্ক-পারমিট

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »