Ultimate magazine theme for WordPress.

মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম ১০০ দিন কেন গুরুত্বপূর্ণ

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পরে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন নাগরিককে ১০০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বেশিরভাগ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো পুনরায় খুলে দেয়ার ও একটি বৃহত্তর উদ্দীপনা প্যাকেজ পাস করারও আশা প্রকাশ করেছেন।

ইতিমধ্যে বাইডেন এমন একটি আইন প্রস্তাব করেছেন যা, লাখ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে নাগরিকত্বের অর্জনের সুযোগ করে দেবে। চার বছর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার প্রথম ১০০ দিনের জন্য একটি সমান উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘ফেডারাল হিয়ারিং’ স্থগিত করা। এই পরিকল্পনার আওতায় তিনি সংবিধানে একটি সংশোধনীর মাধ্যমে সিনেটরদের জন্য দুই মেয়াদে এবং কংগ্রেসম্যানদের জন্য তিন মেয়াদের বেশি নির্বাচন নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বেশিরভাগ প্রেসিডেন্টই প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে দারুণ কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তবে কেন এই সময়সীমা ১০০ দিনে নির্দিষ্ট এবং কখন থেকে এটি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে?

ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন যিনি ‘প্রথম ১০০ দিন’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৩৩ সালের ২৪ জুলাই তিনি রেডিওতে দেয়া ভাষণে এর উল্লেখ করেন। তবে তারও প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। আমেরিকা তখন হতাশার চতুর্থ বছর পার করছিল। অভিষেক ভাষণে রুজভেল্ট বলেছিলেন, ‘এই দেশ পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করে এবং সেটি এখনই।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ‘কংগ্রেস যদি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তবে তিনি জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিস্তৃত কার্যনির্বাহী ততটাই শক্তি দাবি করবেন, যতটা শক্তি বিদেশী শত্রু দ্বারা আক্রমনের শিকার হলে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেয়া হয়।’

রুজভেল্ট বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস ছিলেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদির পরেই শুরু হওয়া কংগ্রেসনাল অধিবেশনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ১৫ টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছিলেন। যে কোনও প্রেসিডেন্টের জন্যই তার এই সাফল্যে ঈর্ষনীয়। অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে, রুজভেল্টের আইন আমেরিকার জন্য ব্যপক উন্নয়ন এনে দিয়েছিল। তিনি বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ ব্যাংকিং পৃথকীকরণ, কর্মীদের জন্য ত্রাণ কর্মসূচি (সিভিলিয়ান কনজারভেশন কর্পস) প্রণয়ন, স্টক মার্কেটকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ফেডারেল সরকারকে ক্ষমতা প্রদান এবং টেনেসি ভ্যালি কর্তৃপক্ষ তৈরি করেছিলেন, যারা এখন আজ আমেরিকার বৃহত্তম পাবলিক পাওয়ার সংস্থা। সব মিলিয়ে রুজভেল্ট তার প্রথম ১০০ দিনে ৭৬টি আইন পাস করিয়েছিলেন। এ দিক থেকে তার একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার কাছাকাছি আসতে পেরেছিলেন হ্যারি ট্রুম্যান। তিনি একই সময়ে ৫৩টি আইন পাশ করিয়েছিলেন। রুজভেল্ট ৯৯টি কার্যনির্বাহী আদেশও জারি করেছিলেন যা এখনও রেকর্ড।

রুজভেল্টের সময় থেকে আইন আরও জটিল হয়ে উঠায় এবং রাজনীতিতে পক্ষপাতিত্ব আরও গভীরভাবে প্রবেশ করায়, তার রেকর্ডটি ভাঙার সম্ভাবনা খুবই কম। বারাক ওবামার জন্য তার স্বাক্ষরিত প্রথম আইনটি পাস করতে পুরো বছর লেগেছে। জর্জ ডব্লু বুশও অফিসে প্রবেশের ঠিক এক বছরের মাথায় তার শিক্ষা-সংস্কার বিল আইন পাস করাতে সক্ষম হন।

তবে বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ‘১০০ দিন’ ব্যবহার করে জনগণকে তাদের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেন। এই ফ্রেমিং রাজনীতির একটি সাধারণ নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচারণার সময় দেয়া উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকর করার সেরা সময় মেয়াদ শুরু হওয়ার পরেই, যখন অনুমোদনের রেটিং সর্বাধিক থাকে।

বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করার পরে প্রথম কয়েকদিনেই ট্রাম্পের চেয়েও বেশি নির্বাহী আদেশে সাক্ষর করেছেন। নতুন আইন প্রণয়নের চেয়ে এগুলো কার্যকর করা সহজ, যেখানে কেবল প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। এগুলোর বেশিরভাগই মহামারী-সম্পর্কিত এবং অবিতর্কিত বিষয়। এগুলো বেশিরভাগই ট্রাম্পই করে যেতে পারতেন। তবে শীঘ্রই তিনি তার স্বাক্ষরিত প্রথম আইনটি পাস করানোর জন্য জটিলতার মুখোমুখি হবেন। সেটি হচ্ছে বিশাল আকারের একটি কোভিড-রিলিফ বিল, তারসাথে সম্ভবত একটি বৃহত্তর অবকাঠামো প্যাকেজও রয়েছে। তিনি এজন্য হয়তো তার প্রশাসনের প্রথম ১০১তম দিন, আগামী ৩০ এপ্রিল অবধি অপেক্ষা করতে পারেন। সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »