Ultimate magazine theme for WordPress.

ইউরোপে মানুষের খাদ্য হিসেবে অনুমোদন পেল কালো গুবরেপোকার লার্ভা

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

কালো গুবরেপোকার লার্ভা বা শুককীট মানুষের খাদ্য হিসেবে নিরাপদ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা।  ফলে শিগগিরই ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট বা স্ট্রিটফুডের দোকানে ফিঙ্গারফুড, স্মুদি, বিস্কুট, পাস্তা ও বার্গারে এই পোকার লার্ভা পরিবেশন করা শুরু হতে পারে।

খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুবরেপোকার শুককীট দিয়ে তৈরি খাবারগুলো বেশ সুস্বাদু। তবে সেটি সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।  যেমন যাদের চিংড়ি এবং ছারপোকায় অ্যালার্জি আছে তাদের এই প্রজাতির পোকার লার্ভাযুক্ত খাদ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেটি কোনো রেসিপির অংশ হিসেবে গুঁড়া আকারে হোক বা চকোলেটে চুবানো মুচমুচে নাস্তা হিসেবে খাওয়া হোক, অ্যালার্জিতে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি খুব একটা উপভোগ্য হবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফ্রান্সের প্রথম পোকামাকড় দিয়ে খাদ্যপ্রস্তুতকারী সংস্থা মাইক্রোনিউট্রিসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থা সেটি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন সুপারশপের তাক এবং রান্নাঘরের শেলফে এই হলুদ শুককীট যাতে স্থান করে নিতে পারে সেদিকে নজর দিচ্ছে সংস্থা।

এই লার্ভার মূল উপাদান আমিষ, চর্বি এবং ফাইবার।  এটিকেই ভবিষ্যতে খাদ্যের টেকসই ও কম কার্বন-নিঃসরণকারী উত্স হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।  খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন প্রজাতির পোকার শুককীট ভালোমতো শুকানো হলে খেতে চিনাবাদামের মতো সুস্বাদু।

খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এরমোলাওস ভার্ভারিস বলেন, মানুষের খাদ্য হিসেবে কোনো পোকা নিরাপদ কিনা সংস্থার কাছে সেটি যাচাইয়ের এটিই প্রথম ঘটনা।  এর ফলে ইউরোপজুড়ে এটি অনুমোদনের পথ প্রশস্ত হতে পারে।

আজকাল পোকামাকড়কে অন্যতম সম্ভাবনাময় খাদ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।  এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও দাঁড়িয়ে গেছে যারা বিভিন্ন রেসিপি সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনুমোদন না থাকার কারণে তাদের উপস্থিতি খুব একটা টের পাওয়া যায় না।  উচ্চ-আমিষযুক্ত এই খাবারের বড় বাণিজ্য সম্ভাবনাও রয়েছে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং স্পেনে পোকামাকড় দিয়ে তৈরি খাবার বিক্রি নিষিদ্ধ।

যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ড এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি আইন অনুমোদনের চিন্তাভাবনা শুরু করেছিল। ওই আইন অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের আগে খাদ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি এমন খাবার বাজারে চালু করতে হলে ব্রাসেলসের নতুন খাদ্য (নভেল ফুড) কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

ব্রিটিশ, ডাচ, বেলজিয়াম, ডেনিশ এবং ফিনিশ নিয়ন্ত্রকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ইইউয়ের ওই আইন পশুখাদ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।  তবে ২০১৮ সালে ইইউয়ের একটি নতুন আইনে এ ব্যাপারটি আরেকটু স্পষ্ট করার প্রয়াস ছিল।   সেখানে বলা হয়েছিল, পোকামাকড়ভিত্তিক খাবারের জন্য নতুন খাদ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, কালো গুবরেপোকার লার্ভা সংগ্রহের প্রক্রিয়া হলো, প্রথমে প্রাপ্তবয়স্ক পোকা থেকে ডিম আলাদা করে লার্ভাগুলোকে বেড়ে উঠতে দেয়া হয়।  এরপর সেগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে পাঁচ মিনিট ফুটন্ত পানিতে সিদ্ধ করা হয়।  পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে শুঁটকি করা, প্যাকেজিং এবং গুদামজাতকরণ।  এই শুকনো লার্ভা গুঁড়ো করে আটার মতোও বিক্রি হয়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »