Ultimate magazine theme for WordPress.

অস্ট্রেলিয়ান পার্টনার ভিসার নিয়ম পরিবর্তনের আহ্বান

করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে পার্টনার ভিসার আবেদনকারীকে যেন অফশোরে যেতে না হয় সেজন্য নিয়ম পরিবর্তন করার দাবি উঠেছে। এতে সমর্থন দিচ্ছেন একজন লেবার এমপি।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

অস্ট্রেলিয়ান অফশোর পার্টনার ভিসার নিয়ম পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন দম্পতিরা।

পার্টনার ভিসার দুটি স্ট্রিম রয়েছে: অনশোর এবং অফশোর। অস্ট্রেলিয়ার মাইগ্রেশন আইন অনুসারে অস্ট্রেলিয়ার কোনো নাগরিকের পার্টনার (সঙ্গী/সঙ্গিনী) যদি অফশোরে (অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে) পার্টনার ভিসার জন্য আবেদন করেন তাহলে তার ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ে অবশ্যই তাকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অফশোরে থাকতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ান অফশোর পার্টনার ভিসার নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়টিকে সমর্থন করছেন লেবার এমপি জুলিয়ান হিল। মাইগ্রেশন আইনগুলোতে পরিবর্তন আনার জন্য, মানুষের ভোগান্তি লাঘব করার জন্য, আগামী সপ্তাহে তিনি ফেডারাল পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করতে যাচ্ছেন।

যেসব অফশোর আবেদনকারী ইতোমধ্যে অন্য কোনো ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন তাদেরকে কোভিড-১৯ এর এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়টিতে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে যেতে হবে পার্টনার ভিসা ইস্যু হওয়ার জন্য। ভিসা ইস্যুর পর তাদেরকে পুনরায় অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসতে হবে।

কোভিড-১৯ এর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ অনেক কঠিন হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিট প্রাপ্তি, টিকিটের চড়া মূল্য, বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন, ইন্টারন্যাশনাল অ্যারাইভাল ক্যাপ, ইত্যাদি বিষয়ের কারণে এখন অস্ট্রেলিয়া থেকে বাইরে যাওয়া কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা অনেক ঝামেলাপূর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া, কোভিডে-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তো রয়েছেই।

জোহান এবং কেন্টলি আর্ল্যান্ডসন সিডনিতে বাস করেন। গত বছরের এপ্রিলে তারা প্রাথমিক ভিসা-আবেদন জমা দিয়েছেন। ফিলিপিন্সের নাগরিক কেন্টলি ছয় বছর বয়সী মেয়ে জোহানাকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমানে টুরিস্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। তাদের আরেক সন্তান অ্যানির বয়স এখন দু’বছর। সে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক জোহানের লিউকেমিয়া হয়েছে। ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে তার সঙ্গিনী ও পরিবারের বাকিদেরকে নিয়ে তিনি এখন অফশোরে যেতে পারবেন না। এসবিএস নিউজকে তিনি বলেন,

“আমার এ রকম অবস্থায় আমি তাদের সঙ্গে যেতে পারবো না। এত কম রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে এই মুহূর্তে বিমান-ভ্রমণ করা আমার জন্য খুবই বিপদজনক।”

“অতএব, এখন এক মাকে তার দুই শিশু সন্তান নিয়ে নিজেদেরকেই এর জন্য চেষ্টা করতে হবে … দেশ ছেড়ে যেতে হবে এবং যেখানেই তারা যাক না কেন, কোয়ারেন্টিন করতে হবে। আর, ফিরে আসার পরও আবার কোয়ারেন্টিন করতে হবে।”

অনশোরের মতো পার্টনার ভিসার অফশোর আবেদনের ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ অর্থ (৭,৭১৫ ডলার) ফিজ লাগে। তবে, অফশোর আবেদনকারীদের কোনো কাজের অনুমতি নেই, ব্রিজিং ভিসাও নেই। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়টিতে তাদেরকে হোম কান্ট্রিতে অবস্থান করতে হয়। তবে, এই সময়টিতে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে তারা স্বল্প সময়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসতে পারেন।

কেন্টলি বলেন, এজন্য তিনি এখানে কাজ করতে পারেন না এবং ফলে তার পরিবারকে সহায়তা করতেও পারেন না। এ অবস্থায় তাদের মেয়ে জোহানা অস্ট্রেলিয়ার প্রাইমারি স্কুলে যেতে পারছে না।

তিনি বলেন, তাদের অবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

“এটি (ভিসা মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি) আমার জন্য অনেক। বিশেষত, আমার স্বামীর এখন যে অবস্থা। আমি তাকে সাহায্য করতে চাই।”

“আমি আমার পরিবারকে সাহায্য করতে চাই। আমি এর অংশ হতে চাই। আমি একটি পরিবার গড়তে চাই।”

বৈশ্বিক মহামারীর মাঝে কমন সেন্স

এ পরিস্থিতিতে, অনশোরে থাকা অবস্থায় সাবক্লাস-৩০৯ পার্টনার (প্রভিশনাল) ভিসা সাময়িকভাবে মঞ্জুর করার আহ্বান জানিয়ে একটি বিল উত্থাপন করতে উদ্বুধ্ধ হন লেবার এমপি জুলিয়ান হিল।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণ এবং সীমান্ত নিষেধাজ্ঞাগুলোর কারণে মানুষ সমস্যায় নিপতিত হচ্ছে।

“আমার বিলে এটাই বলা হয়েছে যে, অস্ট্রেলিয়ানদের পার্টনাররা যারা ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, তারা যেন এখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে থাকতে পারেন। পার্টনার ভিসা মঞ্জুর করার জন্য তাদেরকে জোর করে ব্যয়বহুল ভ্রমণে বিদেশে পাঠানো, পরে তাদের এখানে ফেরত আসা ও কোয়ারেন্টিন প্লেসের অপচয় করা যেন না হয়।”

“বৈশ্বিক মহামারীর মাঝে এটি কমনসেন্সের বিষয়।”

ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্সের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, তারা এই “বিষয়টি নিয়ে সচেতন। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর ফলে প্রভাবিত ভিসাধারীদের জন্য বিভিন্ন বিকল্পের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, যার মধ্যে প্রসপেক্টিভ ম্যারিজ এবং পার্টনার ভিসা আবেদনকারীরাও রয়েছেন।”

তারা বলেন,

“এই বৈশ্বিক মহামারীর মাঝেও ডিপার্টমেন্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চালিয়ে যাচ্ছে।”

“অনশোর পার্টনার ভিসার আবেদনকারীরা ব্রিজিং ভিসার জন্য উপযুক্ততা লাভ করতে পারেন। এভাবে, তাদের ভিসার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের পার্টনারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন।”

স্বাস্থ্য ও বিমান ভ্রমণের ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে উদ্বেগ ছাড়াও হোটেলে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থার উপরেও চাপ বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রায় ৩৬,০০০ অস্ট্রেলিয়ান এখন দেশে ফিরতে চাচ্ছেন।

মিস্টার হিল বলেন,

“বৈশ্বিক মহামারীর সময়টিতে এটা খুবই হাস্যকর পরিস্থিতি যে, আপনি কোনো দম্পতিকে, যারা এখন অস্ট্রেলিয়াতেই রয়েছেন, তাদেরকে বলছেন, (ভিসা ইস্যুর জন্য) তোমাদের একজনকে এখন (অস্ট্রেলিয়ার) বাইরে যেতে হবে।”

সিস্টেম পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন আবেদনকারীরা

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্সের হাতে ৯৬,০০০ এরও বেশি পার্টনার ভিসার আবেদন ছিল। এর আগের অর্থ-বছরে ছিল ৮৮,০০০ আবেদন।

ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স ওয়েবসাইট বলছে, সাবক্লাস ৩০৯ পার্টনার ভিসার শতকরা ৯০ ভাগ আবেদনের প্রক্রিয়াকরণ চূড়ান্ত করা হয় ২৩ মাসের মধ্যে।

অনশোর পার্টনার ভিসা আবেদনকারীরা ব্রিজিং ভিসা লাভের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হন। পার্টনার ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়টিতে তারা এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় বাস করতে পারেন। এটা অফশোরে আবেদনকারীদের জন্য সম্ভব হয় না।

পার্টনার ভিসা সিস্টেমে ন্যায্য পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন মেলবোর্নের নারী অ্যামেলিয়া এলিয়ট।

ফিলিপিন্স থেকে আগত তার স্বামী বোয়ি ডমিঙ্গো এখন পার্থে হোটেল কোয়ারেন্টিনে আছেন। মেলবোর্ন থেকে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন তিনি তার ভিসা মঞ্জুর হওয়ার জন্য।

অ্যামেলিয়া বলেন, বিমান ভাড়া, আবাসন এবং কোয়ারেন্টিনের জন্য ৬,০০০ ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে। তার স্বামীর ফ্লাইট উড্ডয়নের পর ৪০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তাদের ভিসা মঞ্জুর করা হয়। এই ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সময় লেগেছে ২৫ মাস।

তিনি বলেন,

“আর্থিক এবং আবেগগত সবকিছু নিয়ে নিয়েছে এটি।”

“এই প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছতা নেই। এটি মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়বহুল এবং সরকার পার্টনারদের প্রয়োজন সম্পর্কে শুনতে চায় না কিংবা কোনো উত্তরও দেয় না।”

বোয়ি বলেন, ভিসা হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। তবে, এই প্রক্রিয়ার কারণে তিনি অনেক “হতাশ”।

“এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে এটি কি হাস্যকর নয় যে, আপনি মানুষকে অস্ট্রেলিয়া থেকে ঠেলে বের করছেন এই জন্য যে, তারা যেন ভিসা পায়?”

“এটি হতাশাজনক। ডিপার্টমেন্ট যেখানে আমাকে অনশোর অবস্থায় ভিসা দিতে পারে সেখানে আমাকে কেন বাইরে যেতে হবে?”

এসব নিয়ম পরিবর্তনের আহ্বান সমর্থন করেন মাইগ্রেশন ইনস্টিটিউট অফ অস্ট্রেলিয়ার জর্জ লোম্বার্ড। তিনি বলেন,

“সরকার কতিপয় নিয়ম আঁকড়ে ধরে আছে, যেগুলো বছরের পর বছর ধরে চলছে এবং যেগুলোর কোনো সামাজিক-ন্যায়বিচারের ভিত্তি নেই। এটি কোনো অর্থ বহন করে না।”

“আমরা সুনিশ্চিতভাবে আশা করি, ডিপার্টমেন্ট কমন সেন্সের পরিচয় দিবে এবং মানুষের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দিবে।”

পরিবারগুলো এখন তাদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়ার আশা করছে।

জোহান বলেন,

“ভিসা ইস্যু হয়েছে এবং আমাদেরকে দেশ ছেড়ে যেতে হচ্ছে না, (এ রকম শুনলে) আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেষ করতে পারবো না। এর ফলে যে পরিবর্তন সূচিত হবে, এটি অনেক বড় স্বস্তির কারণ হবে।”

“শুধু আমার জন্যই নয়, আমাদের মতো অবস্থায় হাজার হাজার লোক আছেন। তারা সবাই এই একই ভিসার জন্য অপেক্ষা করছেন। এটি সবার জন্যই বড় ধরনের পার্থক্য গড়ে দিবে।”

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »