Ultimate magazine theme for WordPress.

রহস্যে ঘেরা দুর্গম কিছু দ্বীপ

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

ছোটবেলায় রহস্য উপন্যাস পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। জাহাজ ধ্বংসকবলিত হয়ে রবিনসন ক্রুসোর দুর্গম দ্বীপে আশ্রয় নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করা কিংবা তিন গোয়েন্দার সঙ্গে মানুষখেকো দ্বীপে রতœ অভিযানের মতো গল্প-উপন্যাসের পাতায় মোহাবিষ্ট হয়ে কতবারই না আমরা কল্পনায় সেসব অজানা দ্বীপরাজ্যে হারিয়ে যেতাম। সত্যিকার অর্থেই দ্বীপগুলো যেন সীমাহীন রহস্যের আধার। কোনো কোনো দ্বীপ শ্বাপদসংকুল, কোনোটায় এমন সব অধিবাসী রয়েছে যাদের মাঝে আজও সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি বিন্দুমাত্র। আবার এমন কিছু দ্বীপের খোঁজও পাওয়া গেছে, যা প্রাগৈতিহাসিক কাল ধরে রোমাঞ্চকর সব কাহিনী  সন্তর্পণে ধারণ করে চলেছে।

র‌্যামরি দ্বীপ

কল্পনা করুন, আপনি কোনো সেনাবাহিনীর সদস্য এবং আপনার দল দুর্গম প্রত্যন্ত দ্বীপের মাঝে শত্রুদ্বারা কোণঠাসা হয়ে আছে? দ্বীপের অপর প্রান্তে গিয়ে আপনাকে অন্য দলের সঙ্গে মিলিত হতে হবে। কিন্তু তার জন্য পাড়ি দিতে হবে রাক্ষুসে কুমিরেপূর্ণ ঘন জলের বন। এই পথ পাড়ি দিতে গড়িমসি করলেই শত্রুদল ধীরে ধীরে আপনার নাগাল পেয়ে যাবে। শত্রুর হাতে নিজেকে সঁপে দেবেন নাকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হবেন? ১৯৪৫ সালে র‌্যামরি দ্বীপে এমনই এক চরম সংকটময় সময় কাটাতে হয়েছিল জাপানি সেনাদের।

র‌্যামরি দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের তীরে মিয়ানমারে অবস্থিত এবং মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫০ মি. সরু খাল দ্বারা পৃথক। এর চারপাশে লবণাক্ত জলভূমি ও হিংস্র প্রাণীতেসমৃদ্ধ গহিন বন। পৃথিবীর ভয়ংকর দ্বীপগুলোর তালিকা করলে র‌্যামরির নাম চলে আসবে প্রথম সারিতেই। এর প্রধান কারণ ম্যানগ্রোভ জলে বাস করা বৃহদাকার কুমির যাকে সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত বললে কম হবে না। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সরীসৃপ ও মানুষখেকো বলে আলাদা কুখ্যাতি রয়েছে তাদের। র‌্যামরি দ্বীপের মাটিতে মিশে আছে করুণ ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ফোর্স তাদের একটি ঘাঁটি বানিয়েছিল র‌্যামরিতে জাপানিদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ করার জন্য। সহস্রাধিক ব্রিটিশ সেনা দ্বীপটিতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং ছয় সপ্তাহ ধরে তারা যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা যখন জাপানিদের ঘিরে ফেলে, তখন তাদের আত্মসমর্পণ ছাড়া উপায় ছিল না। তাই জাপানি সেনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আট মাইল দীর্ঘ জলপথ পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে অসংখ্য সেনা কুমিরের শিকারে পরিণত হয়।

পালমিরা দ্বীপ

ভুতুড়ে বাড়ি, প্রাসাদ কিংবা স্থানের কথা তো কমবেশি সবারই শোনা। এ নিয়ে মানুষের আগ্রহেরও শেষ নেই। কিন্তু যদি বলি আস্ত একটি দ্বীপই ভুতুড়ে? পালমিরা দ্বীপকে ভুতুড়ে দ্বীপ বললে একটুও বাড়িয়ে বলা হবে না। যদিও গঠনগত দিক থেকে একে পুরোপুরি দ্বীপ বলা চলে না। কিন্তু রহস্যময় প্রবাল প্রাচীরের বেষ্টনী কিংবা কোরালসমৃদ্ধ এই দ্বীপপুঞ্জ সাধারণ দ্বীপের মতো নয়। এখানকার অদ্ভুত সুন্দর ও শ্বাসসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রবালপ্রাচীর সামোয়া ও হাওয়াই দ্বীপের মাঝামাঝিতে অবস্থিত। দ্বীপজুড়ে রয়েছে সবুজের সমারোহ।

দীর্ঘ সময় ধরে এই দ্বীপ লোককথা ও কুসংস্কারের বিষয়বস্তু। পালমিরা দ্বীপের মূল কুখ্যাতি জাহাজ দুর্ঘটনা ও রহস্যজনকভাবে অসংখ্য জাহাজ উধাও হয়ে যাওয়ার কারণে। ১৭৯৮ সালে আমেরিকান ক্যাপ্টেন এডমন্ড ফ্যানিং তার জাহাজ বিটসি নিয়ে এশিয়া ভ্রমণে বের হন এবং পালমিরা আবিষ্কার করেন। যেসব জাহাজ এই দ্বীপের ক্রোশের শিকার হয়ে দুর্ভাগ্য বরণ করে, তার ভেতর একটি হলাে আমেরিকান শিপ এনজেলা। দ্বীপের কাছাকাছি এসে তা বিধ্বস্ত হলে কিছু নাবিক তীর পর্যন্ত কষ্ট করে একে টেনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু তাদের কারওই শেষ রক্ষা হয়নি। পরে জাহাজের ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে তাদের ছিন্নভিন্ন লাশও পাওয়া যায়। কিন্তু কে বা কারা এত নির্মমভাবে তাদের হত্যা করেছিল, তা জানা যায়নি। এ ছাড়া ইনকা সভ্যতার বিপুল সোনা ও রুপা লুট করে জাহাজ নিয়ে ফিরছিল স্প্যানিশ জলদস্যুর দল। কিন্তু পালমিরা দ্বীপের কাছে এসে তা ধ্বংস হয়। যারা এই দ্বীপের কবল থেকে বেঁচে ফিরতে পেরেছিল, তাদের মুখে মুখে পরে শোনা যায় দ্বীপের অদ্ভুত কিছু দৃশ্য যেমন ভাসমান আলো, ভূত কিংবা জলদানবের ব্যাপারে। এ ছাড়া এই দ্বীপে রয়েছে অগণিত হাঙর, যাদের মানুষখেকো বলে পরিচিতি আছে। পালমিরা দ্বীপের অদ্ভুত লোককথা কিংবা কিংবদন্তি শতাব্দীকাল ধরে একে অভিযাত্রী ও নাবিকদের কাছে রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে। ধারণা করা হয়, আজও এই দ্বীপ প্রাচীন ইনকদের গুপ্তধন তার গর্ভে লুকিয়ে রেখেছে।

কুইমাদে দ্য গ্রান্দে

ব্রাজিলের আটলান্টিক উপকূলে ও সাউপাউলো শহর থেকে প্রায় ৯৩ কিলোমিটার দূরে এই কুইমাদে দ্য গ্রান্দে দ্বীপটির অবস্থিত। যার প্রচলিত নাম হচ্ছে সাপের দ্বীপ। এই দ্বীপে মানুষের বসতি একেবারেই নেই এবং তা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত কারণে। গবেষকদের মতে, দ্বীপের প্রতি বর্গমিটার অন্তত পাঁচটি সাপ বাস করে। এই অসংখ্য সাপের খাদ্যের অন্যতম জোগান হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পরিযায়ী পাখি, যারা তাদের যাত্রাবিরতির স্থান হিসেবে কুইমাদে দ্য গ্রান্দে দ্বীপে আশ্রয় নেয়। ‘প্রতি বর্গমিটার এই পাঁচটি সাপ’ কথাটা ততটাও আতঙ্কের হতো না, যদি সাপগুলো বিষমুক্ত হতো। কুইমাদে দ্বীপজুড়ে গোল্ডেন লেন্সহেড নামে কিছু বিষাক্ত ভাইপার রয়েছে। পুরো ব্রাজিলে সর্পদংশনে যত মৃত্যু ঘটে, তার ৯৫ শতাংশই এই সাপের কারণে। গোল্ডেন লেন্সহেড সাপের উত্তম অভয়ারণ্য হচ্ছে কুইমাদে দ্বীপ। এরা প্রায় হাফ মিটার লম্বা এবং এদের বিষ এত দ্রুত কার্যকর, যা কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত স্থানের মাংস গলিয়ে ফেলে। এই সাপ এত বিপজ্জনক, এ জন্য কোনো জরুরি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়া ব্রাজিলিয়ান নৌবাহিনী দ্বীপে মানুষের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কুইমাদে গ্রান্দের উপকূলীয় শহরগুলোয় দুটো মৃত্যুর ঘটনা লোকমুখে অনেক শোনা যায়। একজন জেলে ভুল করে কলা সংগ্রহ করতে দ্বীপের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং বলাবাহুল্য সাপের কামড়ের শিকার হন। কোনো মতে নৌকায় ফিরে আসতে পারলেও পরে নৌকার গলুইয়ে তার শরীর রক্তের বন্যায় ভেসে গিয়েছিল। আরেকটা ঘটনা শেষ বাতিঘরের পরিচালকের। একরাতে বেশ কিছু সাপ জানালা দিয়ে তার ঘরে ঢুকে পড়ে এবং তাকে, তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে আক্রমণ করে। জীবন বাঁচাতে সবাই নৌকায় ছুটে পালাতে চেষ্টা করে কিন্তু সেখানে ক্রমাগত দংশনের শিকার হয়ে মারা যায় তারা। কোনো কোনো প্রাণীবিজ্ঞানীর মতে, সাপের সংখ্যা আসলে যা, তার চেয়ে কিছু বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। কিন্তু তাতে নিশ্চয়ই আতঙ্কের কারণ কমবে না।

আই আইল্যান্ড

আর্জেন্টিনার উত্তর-পূর্ব প্রান্তে পারানা ব-দ্বীপের জলভূমির মধ্যে এক মহাবিস্ময়কর ভাসমান দ্বীপ রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, তা নিজ অক্ষের ওপর ঘুরতে পারে। এই দ্বীপকে অনেকে তাই ভাসমান চোখ বলে। পুরো গোলাকার এই দ্বীপটি নিয়ে বর্তমানে বেশ কিছু ডকুমেন্টারি কাজ নির্মাণাধীন, যা হয়তো এই দ্বীপের অস্তিত্বের রহস্য পরে উন্মোচনে সহায়তা করবে। ২০১৬ সালের দিকে আর্জেন্টাইন ফিল্মমেকার এবং প্রোডিউসার সার্জিও নিউস্পিলাম অতিপ্রাকৃত, ভৌতিক ব্যাপার-স্যাপার ও ভিন গ্রহের প্রাণী এসব নিয়ে একটি মুভি বানানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজতে থাকেন এবং তখন এই দ্বীপ সম্পর্কে জানতে পারেন। অস্বাভাবিক গোলাকার এই দ্বীপের চারপাশে ঠিক একই রকম বৃত্তাকার পানির বলয়সহ দ্বীপের চারপাশে নিউস্পিলাম ও তার ক্রু ঘুরে দেখতে শুরু করলেন। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেন যে তারা আসলে খুব অদ্ভুত ও বিশেষ কোনো স্থানে পদার্পণ করেছেন। এ কারণে তারা তাদের মূল ফিল্ম প্রজেক্ট বাদ দিয়ে এই রহস্যময় দ্বীপ নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন। নিউস্পিলামের মতে, চোখ দ্বীপ হলো বৃত্তাকার একটি ভূমির চারপাশ ঘিরে একই আকৃতিতে ১৩০ গজ ব্যাসের পানির চ্যানেল, দুটো বৃত্তই এত বেশি সুগঠিত যে, প্রথম দেখায় এটা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বলে বিশ্বাস করা কঠিন। দ্বীপের ভূমি জলগুল্ম দিয়ে পূর্ণ এবং জাদুকরীভাবে তা ভাসতে পারে। যদিও এর কারণ সম্পর্কে কেউ সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তা ছাড়া এর পানি অত্যন্ত শীতল ও স্বচ্ছ, যা এই অঞ্চলের জন্য ভৌগোলিক দিক থেকে অস্বাভাবিক। নিউস্পিলাম পরে দুজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে এখানে উন্নত গবেষণার মাধ্যমে দ্বীপের রহস্য নিয়ে তার মতামত ব্যক্ত করেন। অনেক আগে থেকেই আর্জেন্টিনাতে মহাজাগতিক প্রাণী বা এলিয়েনের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে ভূতাত্ত্বিকরা আশঙ্কা করে এসেছেন। এ ধারণাকে আরও কয়েকধাপ উসকে দিয়েছে বিস্ময়কর চোখাকৃতির এই দ্বীপ। ইউএফও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, দ্বীপের ভাসমান জলভূমির নিচে এলিয়েনদের গোপন কোনো ক্যাম্প থাকতে পারে। কোনো কোনো বিজ্ঞানী অবশ্য এ ধারণা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেন, এই দ্বীপ তেমন বিশেষ কিছু নয়, শুধু প্রকৃতির হেঁয়ালিপনা ও বৈচিত্র্যময় রূপের কিছু নমুনা।

পোভেগ্লিয়া আইল্যান্ড

মৃত্যুর দ্বীপ অথবা অভিশপ্ত দ্বীপ বলে যদি কিছু থাকে তবে তার অপর নাম পোভেগ্লিয়া। এখানে যাওয়া যেমন কষ্টসাধ্য, এখান থেকে বেঁচে ফিরে আসা তার চেয়েও বেশি দুঃসাধ্য। পোভেগ্লিয়া দ্বীপ ইতালির উত্তর প্রান্তে ভেনিস ও লিডের মাঝামাঝি উপহ্রদের ওপর অবস্থিত। আকারে খুব ছোট, আধা মাইলের বেশি না হলেও এই দ্বীপ প্রাচীনকাল থেকে অসংখ্য অস্বাভাবিক মৃত্যু ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার জন্ম দিয়ে আসছে। তাই হয়তো এই বর্তমান বিশ্বাসয়নের যুগেও যেকোনো মানুষ পোভেগ্লিয়া আইল্যান্ডে স্বেচ্ছায় ভ্রমণে যেতে চাইবে না। ১৭৯৮ সালের ভেনিসে ভয়াবহ রোগ প্লেগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে, সেই সময় প্লেগ আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু নিশ্চিত ছিল এবং এর সংক্রামক রোগীদের মাধ্যমে যাতে আর কেউ আক্রান্ত হয়, তাই সরকার তাদের এই দ্বীপে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার প্লেগ রোগী পোভেগ্লিয়া দ্বীপে জীবনের শেষ দিনগুলো মানবেতরভাবে কাটিয়ে মারা যায়। মৃতদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। ধারণা করা হয়, দ্বীপের মাটির ৫০ শতাংশই নরকংকাল ও দেহাবশেষে পূর্ণ। ১৯২২ সালে ভেনেসিয়ান সরকার এখানে একটি মানসিক হাসপাতাল নির্মাণ করে। কিন্তু এখানকার রোগীরা খুবই অদ্ভুত আচরণ শুরু করে এবং ডাক্তার ও নার্সরা নিদারুণ ভৌতিক ঘটনার সম্মুখীন হতে থাকে। প্রধান ডাক্তার আত্মহত্যা করে এবং তিনি তার চিরকুটে লিখে যান যে হাসপাতালের ভুতুড়ে আত্মারা তার মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছিল। পরে হাসপাতালটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এখনো এই দ্বীপের আশপাশে মানুষ যেতে ভয় পায়। ইতালিয়ান সরকার এই দ্বীপে মানুষের প্রবেশে কঠোর নিষেধ আরোপ করেছে।

মিয়াকেজিমা আইল্যান্ড

টোকিও থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে, সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কোলঘেঁষে মিয়াকেজিমা দ্বীপ অবস্থিত। অবশ্য এই দ্বীপ জনমানবহীন নয় বিরূপ পরিবেশ সত্ত্বেও। তাই একে শহরও বলা চলে। মিয়াকেজিমা শহরের আকাশ-বাতাসে ভেসে রয়েছে ক্ষতিকর সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তা প্রতি মুহূর্তে বাতাসে মিশে যাচ্ছ। এখানকার ভারী জলবায়ু ও শীতল আবহাওয়া পরিবেশকে আরও বেশি গম্ভীর নি®প্রাণ করে তুলেছে। ছড়িয়ে যাওয়া এই সালফার ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে দ্বীপের অধিবাসীদের খাপ খাইয়ে নিয়েই টিকে থাকতে হয়। এখানে বাস করতে হলে সব সময় হাতে একটা গ্যাস মাস্ক রাখতে হবে। যখন দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়, শহরের মানুষজনকে দেখলে মনে হয় তারা অদ্ভুত দর্শন কোনো ভিন গ্রহের প্রাণী অথবা সবাই এক সাজে সেজে সেজেছে। এখানের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ২০ বছর অন্তর অন্তর থেমে থাকে। একটা সময় এমন অবস্থা হয়েছিল, প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টন সালফার দূষণ হচ্ছিল। ২০০০ সালে দ্বীপের অনেক অধিবাসীই দ্বীপ ছেড়ে চলে যায়। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার ভিডিও, হেলিকপ্টার ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আগ্নেয়গিরির গতিবিধি লক্ষ করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »