Ultimate magazine theme for WordPress.

ক্ষমতায় থাকতে সামরিক শাসন জারির চিন্তা ট্রাম্পের

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক ♦

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় থাকতে সর্বশেষ সামরিক শাসন জারির চিন্তাও রয়েছে তার।

যার ফলশ্রুতিতে নির্বাচন দিতে সামরিক আইন জারি করা যায় কি না, এ বিষয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে উপদেষ্টা ও প্রচারণা টিমের সদস্যদের এক বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। বেশির ভাগ উপদেষ্টা এবং কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চিন্তার কঠোর বিরোধিতা করেছেন। বৈঠক চলাকালে বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা বেরিয়ে যান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবেন কি না, সেটা স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি তার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন রক্ষণশীল নিউজম্যাক্স চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সামরিক শাসন জারি এবং সেনা মোতায়েনের পরামর্শ দেন।

শুক্রবার উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ধারণা তুলে ধরলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈঠকে উপস্থিত বেশির ভাগ উপদেষ্টা এই চিন্তার বিরোধিতা করেন। তবে ট্রাম্প এক টুইটার পোস্টে সামরিক আইন জারির এ রিপোর্টকে ‘ফেইক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ঐ বৈঠকে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী টিমের আইনজীবী সিডনি পাওয়েলকে বিশেষ কাউন্সেলর হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনারও বিরোধিতা করেন উপদেষ্টারা।

তারা বলেন, এখন পর্যন্ত ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও সিডনি পাওয়েল কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। তার করা বেশির ভাগ মামলা আদালতে খারিজ হয়েছে। হোয়াইট হাউজের কাউন্সেল প্যাট এ সিপোলনে এবং হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস এই ধারণার কড়া সমালোচনা করেন।

সিপোলনে ট্রাম্পকে বলেন, যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এর কোনো সাংবিধানিক হুকুম/কর্তৃত্ব নেই। হোয়াইট হাউজ এবং ট্রাম্পের প্রচারণা টিমের সদস্যরাও একই কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সিডনি পাওয়েলই সামনে এনেছেন। ট্রাম্প যা নিয়ে এখনো কথা বলছেন।

ট্রাম্প জানান, তিনি ইতিমধ্যে কাজ শুরুর জন্য পাওয়েলকে ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ দিয়েছেন। বৈঠকে এ বিষয়ে অন্য উপদেষ্টারা বিরোধিতা করলে পাওয়েল তাদেরকে ‘দায়িত্ব পরিত্যাগকারী’ বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে পাওয়েলের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গত ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ৭০ লাখের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ৩০৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি ভোট। কিন্তু সিডনি পাওয়েলের মতো পরামর্শক ও সমর্থকদের কারণে ট্রাম্প পরাজয় মেনে নিতে রাজি হননি।

অন্যদিকে বৈঠকে ভোটিং মেশিনগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশ জারির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি আলাদাভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরকে ভোটিং মেশিনগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলে আসছিল। কিন্তু এমন কিছু করার কর্তৃত্ব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের নেই বলে জুলিয়ানিকে জানানো হয়। খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি ফোনের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »