Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলিয়ানরা সৌন্দর্য বাড়াতে এই লকডাউনে প্লাস্টিক সার্জারির দিকে ঝুঁকেছে।

ঘরবন্দি থাকায় ভিডিও কনফারেন্সে অথবা আয়নার সামনেও নিজের উপস্থিতি বেড়েছে। আর এতেই নিজেদের সৌন্দর্য বাড়াতে প্ররোচিত হয়েছেন অনেক ব্রাজিলিয়ান।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

নিজেকে দেখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো আয়না। এ কারণে বলা হয়, আয়না কখনো মিথ্যা বলে না। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আয়নার জায়গা কিছুটা হলেও এখন মোবাইল বা ভিডিও প্রযুক্তির দখলে। আর নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে লকডাউনে ঘরবন্দি থাকা মানুষের মধ্যে একটি

উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এ দুটোর মুখোমুখি হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে। এতে নিজেকে দেখার যেন বাড়তি সময় পেয়েছে কর্মব্যস্ত থাকা মানুষগুলো। তবে দক্ষিণ ও লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের অনেকেই এ লকডাউনে নিজেদের রূপচর্চায় ব্যয় করেছে। এমনকি সৌন্দর্য বাড়াতে প্লাস্টিক সার্জারি করা লোকের সংখ্যাও দেশটিতে এবার বেশ বেড়েছে।

তথ্য বলছে, লকডাউনের কারণে অনেক ব্রাজিলিয়ান সৌন্দর্য বাড়াতে প্লাস্টিক সার্জারির দিকে

ঝুঁকেছে। এর পেছনে যদিও অনেক যুক্তিও দেখাচ্ছে নার্সিসিস্ট বা আত্মপ্রেমী এসব মানুষ। এর অন্যতম কারণে হলো, লকডাউনের কারণে এবার অনেকেই ভ্রমণ করতে পারেনি। আবার হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা বাইরে গিয়ে খাওয়াও এক রকম বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে তাদের কাছে বাড়তি অর্থ জমা পড়েছে। অন্যদিকে ঘরবন্দি থাকায় ভিডিও কনফারেন্সে অথবা আয়নার সামনেও নিজের উপস্থিতি বেড়েছে। আর এতেই নিজেদের সৌন্দর্য বাড়াতে প্ররোচিত হয়েছেন অনেক ব্রাজিলিয়ান।

এদেরই একজন একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি রেজিয়ানে ডি অলিভেইরে সউসা। ৩৮ বছর বয়সী এ নারী বাসায় থাকায় ব্যক্তিগত সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। সাও পাওলোর এ বাসিন্দা জানান, ছয় মাস ধরে কসমেটিক স্কিন, ব্রেস্ট রিডাকশন সার্জারি, শরীরের অপ্রত্যাশিত মেদ কমানো এবং চেহারার সৌন্দর্য বাড়ানোর মতো চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। বাসা থেকে প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ করতে থাকায় ব্যক্তিগত সৌন্দর্য বাড়ানোর এসব সার্জারিতে তিনি বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলেও জানান।

তার ভাষায়, যখন আমরা বাসায় থাকি, তখন আয়নার সামনে নিজেকে দেখার জন্য অধিক সময় পাই। কারণ এ সময় আমাদের কর্মচাঞ্চল্য জীবন নেই যে হুটহাট করে কোথাও বেরিয়ে পড়ব।

ব্যক্তিগত সৌন্দর্য বাড়াতে সাও পাওলোর একটি ক্লিনিক থেকে লিপ প্লাম্পিং অ্যাসিড ইনজেকশন নিচ্ছেন অলিভেইরে সউসা। এজন্য তার ব্যয় করতে হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ রিয়েল বা ৭৩০ ডলারের মতো, যা ব্রাজিলের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরির চার গুণ। এমন ইনজেকশন নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য অঙ্গের মতো ঠোঁটও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের সময় আমরা একে অন্যের দিকে বেশ লক্ষ রাখি।

মহামারীর এই মন্দা সময়েও প্লাস্টিক সার্জারি করার মতো এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতা কতটা বেড়েছে, সেটি উঠে এসেছে অলিভেইরে সউসার চিকিৎসক সিনটিয়া রিইওসের কথায়। তিনি বলেন, চলতি বছরে কসমেটিক অপারেশনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেড়েছে। মহামারীর আগের তুলনায় এ লকডাউনকালে এটির সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার কাজের চাপ এতটা বেড়েছে যে তিনি কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং আরো তিনজন কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। আর মহামারীর মধ্যে সৌন্দর্যচর্চায় মানুষের কৃপণতা না থাকায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতেও ভুল করেননি এ চিকিৎসক। সব মিলিয়ে এ ব্যবসা আপাতত চাঙ্গা ভাব দেখছেন তিনি।

রিইওসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ফেসিয়াল নয়, বরং মুখে মাস্ক পরে থাকার জন্য অনেকে কানেরও কসমেটিক সার্জারি করছেন। এটি সাধারণত আট থেকে নয় বছরে শিশুদের করা হলেও এ বছর অনেক প্রাপ্ত বয়সীও এ সার্জারিতে ঝুঁকছেন।

সূত্র: এএফপি

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »