Ultimate magazine theme for WordPress.

সন্তানহীন লোকের সম্পত্তির কত অংশ পাবে তার বোন?

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

লোকেরা তোমার কাছে কালালা সম্বন্ধে পরিষ্কারভাবে জানতে চায়। বলো, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালা সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। কোনো ব্যক্তি যদি সন্তানহীন অবস্থায় মারা যায় এবং তার একজন বোন থাকে তবে সে (বোন) তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে অর্ধেক পাবে এবং বোন যদি সন্তানহীনা অবস্থায় মারা যায়, তবে ভাই তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। মৃতের উত্তরাধিকারী যদি দু’বোন হয়, তার পরিত্যক্ত সম্পক্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি ভাই বোন কয়েকজন হয়, তবে পুরুষের অংশ নারীর দ্বিগুণ হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য আইন-কানুন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন; তোমরা পথভ্রষ্ট হবে এ আশঙ্কায়। আল্লাহ সবকিছু জ্ঞাত ও অবহিত।’ (সূরা আন নিসা : ১৭৬)

ভূমিকা : আয়াতটি সূরা নিসার অন্যান্য আয়াত নাজিলের বহু পরে নাজিল হয়েছে। হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনা থেকে মনে করা যায়, এ আয়াত কুরআনের সর্বশেষ আয়াত। এ বর্ণনা সহিহ প্রমাণিত না হলেও বস্তুতপক্ষে এতটুকু প্রমাণিত যে, এ আয়াত নবম হিজরিতে নাজিল হয়েছিল। সূরা নিসা আগে থেকেই একটি সম্পূর্ণ সূরা হিসেবে পঠিত হয়ে আসছিল। এ কারণে সূরার শুরুতে মিরাস-সংক্রান্ত আয়াতগুলোর ধারাবাহিকতার সাথে এ আয়াতকে শামিল করা হয়নি, বরং সূরার শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ‘কালালা’ সম্পর্কে আলোচনা-

কালালা শব্দের অর্থ কী, সে সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। কারো কারো মতে, ‘কালালা’ সে ব্যক্তি যারা কোনো সন্তান নেই এবং বাপ-দাদাও জীবিত নেই। কারো কারো মতে, ‘কালালা’ সেই ব্যক্তি যে নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেছে। সাধারণ ফিকহবিদরা এ ব্যাপারে হজরত আবুবকর রা:-এর মতকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, ‘কালালা’ হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার কোনো সন্তান নেই এবং বাপ-দাদাও জীবিত নেই। কুরআন থেকেও এ মতের সমর্থন পাওয়া যায়। কেননা, কুরআনে ‘কালালা’র বোনকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেকের অধিকারিণী করা হয়েছে। অথচ কারো পিতা জীবিত থাকলে সে বোন কোনো কিছুই পায় না।

আয়াতের আর্থসামাজিক তাৎপর্য-

সূরা নিসার ১১ ও ১২ আয়াতে মিরাসের বিস্তারিত বিধিবিধান বর্ণিত হয়েছে। এ আয়াত প্রসঙ্গে ফিকহবিদরা একমত হয়েছেন যে, এখানে সেসব ভাইবোনের মিরাসের কথা বলা হয়েছে যারা মা-বাপ উভয় দিক বা বাপের দিক দিয়ে ভাইবোন। এর অর্থ হলো, সূরা নিসার দ্বিতীয় রুকুতে যে ভাইবোনের মিরাসের উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হচ্ছেন কেবল মায়ের দিক দিয়ে ভাই বা বোন।

মিরাসি আইন ইসলামী বিধানের একটি মূল অংশ। এটি ইসলামী অর্থনীতির বণ্টন ব্যবস্থার অন্তর্ভূক্ত রাখাই সঙ্গত। ইসলাম ব্যাপক বণ্টনকে সমর্থন করেছে। মৃতের সম্পত্তির ব্যাপক বণ্টন হিংসা, বিদ্বেষ ও বঞ্চনার মনোভাব দূর করতে সাহায্য করে এবং তা সামাজিক সৌহার্দ্যরে ও শান্তির সহায়ক। ব্যাপক বণ্টন অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও কল্যাণকর। মিরাসি আইনের মাধ্যমে অনেক দরিদ্র আত্মীয়ের পুনর্বাসন হয়ে থাকে। যে সমাজে মিরাসি আইন যথাযথভাবে কার্যকর হবে, সমাজে সংশ্লিষ্ট লোকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিধান অনেক সহজ হয়ে আসে আর তারা সরকারের ওপর তেমন একটা বোঝা বলে প্রতীয়মান হয় না। সম্পদ সীমিত সংখ্যক উত্তরাধিকারীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে না কিছুসংখ্যককে বঞ্চিত করে।

এর ফলে সমাজের অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল হয়। অন্য দিকে ব্যাপকভাবে সম্পদ বণ্টনের ফলে সমাজে ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই পুঁজিহীন মানুষের সংখ্যা কম থাকে। তাতে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকাণ্ডে একটা সুস্থ ও প্রগতিশীল ধারা প্রবাহিত থাকে।

লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »