Ultimate magazine theme for WordPress.

ধর্ষকদের নপুংসক করার খসড়া আইনের অনুমোদন পাকিস্তানে

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

ক্রমে বাড়তে থাকা ধর্ষণের ঘটনা রোধে কঠোর শাস্তির বিধান করতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভা। এতে ধর্ষণের সংজ্ঞায় বদল আনার পাশাপাশি শাস্তি হিসেবে যুক্ত হয়েছে রাসায়নিকভাবে নপুংসক করে দেওয়া এবং মৃত্যুদণ্ডের বিধান। ধর্ষণবিরোধী দুটি মৌলিক আইনে সংশোধনী এনে এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়া সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের লাহোরে সাত বছরের এক মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা এবং সম্প্রতি লাহোরের রাজপথে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা দেশটিতে আলোড়ন তোলে। দাবি ওঠে যৌন নিপীড়নের শাস্তির কঠোরতা বাড়ানোর। উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাব প্রদেশের একটি সড়কে ডাকাতির সময় এক নারীকে তার সন্তানদের সামনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পাকিস্তান জুড়ে বিপুল প্রতিবাদ হয়েছে।

এসব ঘটনার জেরে মঙ্গলবার পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে ধর্ষণবিরোধী (তদন্ত ও বিচার) অর্ডিন্যান্স ২০২০ এবং পাকিস্তান পেনাল কোড (সংশোধনী) অর্ডিন্যান্স ২০২০। এসব সংশোধনী অনুমোদনকে বড় সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধর্ষণের সংজ্ঞায় বদল এনে এতে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ এবং ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ যোগ করা হয়েছে। খসড়া এই আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে চিকিৎসকদের বিতর্কিত ‘দুই আঙুল’ পরীক্ষা।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী শিবলী ফারাজ বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ধর্ষণবিরোধী অর্ডিন্যান্স অনুমোদন করেছে যাতে ধর্ষণের মৌলিক সংজ্ঞা বদল করা হয়েছে এবং সংঘব্ধ ধর্ষণের কঠোর শাস্তি ও মৃত্যুদণ্ডের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’ এক সপ্তাহের মধ্যে এসব অর্ডিন্যান্স চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানের মানবাধিকার মন্ত্রী ড. শিরীন মাজারি এক টুইট বার্তায় জানান, এবার বৈধ মামলা নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএলসি) এসব অর্ডিন্যান্স চূড়ান্ত করবে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি কার্যকর হবে। তিনি জানান, সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণের সংজ্ঞা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিশেষ আদালত, অ্যান্টি-রেপ ক্রাইসিস সেল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার শিকার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে এবং নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই আঙুল পরীক্ষা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »