Ultimate magazine theme for WordPress.

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মত এমন আরও অজস্র রহস্যেঘেরা জায়গা আছে যা হয়তো আমরা জানিই না!

পৃথিবীর রহস্যময় ৮টি স্থান

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক♦

কত শত স্থানই তো রয়েছে পৃথিবীতে। কিন্তু সেগুলোর কয়টা সবার মনে দাগ কেটে যায়? সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট এই দুনিয়াটা রহস্যে ঘেরা। মানুষ আজকাল চাঁদে আর মঙ্গল গ্রহে ঘুরাঘুরি করার চেষ্টায় থাকলেও আমাদের এই পৃথিবীর অনেক রহস্যই উদঘাটিত হয়নি। যেমন বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল। আজ পর্যন্ত এই রহস্যের কুল কিনারা হয়নি। তাও, এই জায়গা নিয়ে অনেক বেশী লেখালেখি হবার কারনে হয়তো আমরা এটার নামটা অন্তত জানি। কিন্তু জানেন কি বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মত এমন আরও অজস্র রহস্যেঘেরা জায়গা আছে যা হয়তো আমরা জানিই না! আজ এরকমই কিছু জায়গার গল্প আপনাদের শোনাব যা হয়তো আগে কখনই শোনেননি বা দেখেন নি কিন্তু এগুলো বাস্তব।

শয়তানের সমুদ্র

Devil’s Sea বা শয়তানের সমুদ্র (Dragon’s Triangle) – শুনেছেন এর কথা? এর কাজ-কারবার অনেকটা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মত। জাপানের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত এই আজিব জায়গায় হাজার হাজার ঘটনা রেকর্ড করা হয় যার কোন ব্যাখ্যা নাই। এই জায়গায় জাহাজ, প্লেন এমনকি মানুষও নাকি হাওয়ায় গায়েব হয়ে গিয়েছে অনেকবার। জাপানিজ ফিশিং অথরিটি এই জায়গাকে বিপজ্জনক ঘোষনা করেছিল অনেক আগেই। ১৯৫২ সালে জাপানি সরকার ৩১ জন গবেষক সহ একটি জাহাজ পাঠিয়েছিল এই জায়গায় – আর বলাবাহুল্য সেই জাহাজ আর মানুষগুলোকে আর কখনো খুজে পাওয়া যায়নি। এই জায়গাকে সবাই “ভিনগ্রহবাসীর আস্তানা” বলে। আবার অনেকেই বলে আটলান্টিসের হারানো সভ্যতা।

মিশরের পিরামিড

আপনি যদি হিস্টোরি ভালোবাসেন তবে অবশ্যই পিরামিডগুলোর সামনে আপনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে চলে যাবেন যীশু খ্রীষ্টের জন্মেরও ৩১৫০ বছর আগে, শ্যামলা গাত্রবর্ণের রহস্যময় মানুষের মধ্যে কী এমন ছিল যা এত বিশাল জ্যামিতিক সূক্ষ্ম নির্ভুল মাপের পিরামিডগুলো বানাতে সক্ষম হয়েছিল? পাথরগুলোই বা কাটা হলো কীভাবে? আবার ভেতরেই বা কেন এত অভিশাপে মুড়ানো প্রতিটি ফারাও রাজার শয়নকক্ষ? প্রশ্নগুলোর উত্তর পাবেন অনেক, কিন্তু গোলকধাঁধা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই!

অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী ফারাওদের আজব সব সৃষ্টিকর্তার উপাসনা, আবার হায়ারোগ্লিফিকের রহস্যময় বার্তাগুলো আপনাকে চিন্তায় ফেলতে বেশ যথেষ্ট। শুধু তাই-ই নয়, রহস্যের ফাঁকে একটু বিনোদনও মন্দ নয়! নীল নদের তীরে বসে স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে প্রাচীন মিশরীয় রূপকথার গল্প আপনাকে মোটেও হতাশ করবে না। ফারাওদের ক্ষমতা আর রহস্যময় স্থাপত্যশৈলী আপনাকে নিয়ে যাবে ভাবনার দুনিয়ায়, আপনি প্রশ্ন করবেন নিজেকে, প্রশ্ন করবেন অদ্ভুত গড়নের ফারাওদের সুবিশাল মূর্তির সামনে। বলা হয়ে থাকে প্রাচীন মিশরীয়রা স্বাভাবিক মানুষদের চেয়ে আলাদা ছিল, সত্যিই তো! না হলে এত কিছু কীভাবে সম্ভব হতো! নাকি এর পেছনে হাত ছিল বহির্জাগতিক কোনো শক্তির? কে জানে! এত এত পুস্তক রচনা করলেন গবেষকরা! সবই সম্ভাবনা।

মাউন্ট রোরাইমা সমতল শীর্ষ বিশিষ্ট পর্বতমালা

এই পর্বতমালার স্থানীয় নাম টিপুই। ভেনিজুয়েলায় এটি অবস্থিত। খুবই দুর্গম আর মেঘে আবৃত-ভেজা রহস্যময় টিপুই। এমনকি শুকনো মরসুমে এটি মেঘে ঢাকা থাকে। ১৫৯৬ সালে প্রথম ‘মাউন্ট রোরাইমা’ প্রথম ভূ-বিজ্ঞানীদের নজর কাড়ে। ৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থান আর চারদিক ৪০০ মিটার লম্বা ক্লিফ দ্বারা বেষ্টিত এই পর্বতমালার অবস্থান তিন দেশের সীমান্তে ভেনিজুয়েলা, ব্রাজিল আর গায়ানা। কিন্তু একমাত্র ভেনিজুয়েলা সীমান্ত দিয়েই এই দুর্গম পর্বতে প্রবেশ করা যায়।

উডচেস্টার ম্যানশন

ইংল্যান্ডের গ্লস্টারশায়ারে অবস্থিত উডচেস্টার ম্যানশনটির ভৌতিক বাড়ি হিসেবে খ্যাতি আছে। দালানটির নির্মান কাজ শেষ হয়নি। গত ২০০ বছর আগে এটির কাজ করা হয়েছিল শেষ বারেব মত। গুজব আছে এখানে যারা কাজ করতে আসে তারা অনাক্ষাঙ্কিতভাবে মারা যায়। অদ্ভুত নাকের শব্দ পাওয়া যায়, নির্মান কাজের শব্দের মত শব্দ পাওয়া যায়।

বলিভিয়ার পুমা পুংকু

দক্ষিণ আমেরিকা বরাবরই প্রাচীন সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে। ইনকা সভ্যতার রহস্যের গন্ধ যেন পুরো লাতিন আমেরিকার মাটি জুড়েই পাওয়া যায়।

পুমা পুংকু শব্দের ‘পুমার দরজা’। গ্রানাইট পাথরের তৈরি এ প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের কোন কোন পাথর ২৫ ফুট লম্বা এবং ১৫০/২০০ পাউন্ড ভারী।

যদিও মূল কাঠামো কি ছিল সেটা এখন আর বোঝা যায়না। পাথরের ধারগুলো এতো সূক্ষ্ম আর মসৃণ যে আপনার চোখ নিমিষেই কপালে উঠে যাবে! বড় বড় পাথরগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যেন মনে হয় প্রচন্ড কোন শক্তি প্রাচীন এই স্থাপনাকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। খুবই সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় আপনাকে পুরো রহস্যের এক দশমাংশও বুঝাতে পারিনি। কিন্তু যদি রহস্যপ্রিয় হোন, H আকৃতির মসৃণ পাথরের ব্লকগুলো একবার ছুঁয়ে দেখতে চান তাহলে পুমা পুংকু আপনাকে উত্তরবিহীন প্রশ্নের সাগরে ভাসাতে যাচ্ছে। লাপাজ থেকে কোনো গ্রুপের সাথে তিউয়ানাকু গেলেই কাছে পুমা পুংকু যেতে পারবেন।

আওকিঘারা জঙ্গল

এই জঙ্গলটি জাপানের একটি রহস্যময় ভয়ংকর ভূখণ্ড। এটা জাপানের ফুজি পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর স্থানজুড়ে অবস্থিত এই জঙ্গলটি। কোঁকড়ানো ও মোচড়ানো গাছ পালায় পূর্ণ। গোটা এলাকাটি ভূতপ্রেতের অবাধ বিচরণ ভূমি বলে স্থানীয় জনগণের বিশ্বাস। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্থানটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আত্মহত্যার স্থান হিসেবে পরিচিত। পঞ্চাশের দশক থেকে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক লোক এখানে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু কেউই জানেনা মানুষ আত্মহত্যার জন্য কেনইবা এই স্থানটিকেই বেছে নেয়।

রেসট্র্যাক প্লায়া

১৯১৫ সালের কথা সেটা। একদিন এক প্রোসপেক্টর ও তার স্ত্রী ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে। হঠাৎ সেখানে তাদের নজর কাড়ে একটি পাথর। পাথরটির পেছনে অনেকটা জায়গা জুড়ে এটার চলতে থাকার ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু কোনরকম ভূমিকম্পন ছাড়া, কোন রকম বল ছাড়া কি করে শুষ্ক ঐ জায়গাটাতে এতটা জায়গায় একা একা ঘুরে বেড়ালো পাথরটা? কে জানে! অনেক রকমের তত্ত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে। তবে প্রমাণিত হয়নি কোনটাই!

উইল্টশায়ারের স্টোনহেঞ্জ

ইংল্যান্ডে অবস্থিত। রহস্যময় পাথরগুলোকে কোথা থেকে কে না কে এসে এই জায়গায় বসিয়ে দিয়ে গেল, তা রহস্যই থেকে গেল। ভ্রমণের জন্য ইউরোপ বেশ বিখ্যাত।

এইখানে যতগুলো পাথর রয়েছে তার প্রত্যেকটি প্রায় ছয় টন ওজনের। এগুলো একে অপরকে নিমজ্জিত করে দাঁড়িয়ে আছে এবং অতীতের গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে এই বিস্ময়কর স্তম্ভগুলি প্রকৃতপক্ষে ২৫০০ থেকে ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের পুরোনো। স্টোনহেঞ্জের গঠন খানিকটা জটিল। এর বাইরের দিকে একটি বৃত্তাকার পরিখা রয়েছে। প্রবেশপথটির কিছুটা দূরেই রয়েছে মাটির বাঁধ।

এ বাঁধের ভেতর চতুর্দিকে বেষ্টন করে আছে ৫৬টি মৃত্তিকা গহ্বর। পাথরগুলোর মধ্যে আরও দুই সারি গর্ত বেষ্টন করে আছে। পাথরগুলোর গঠনের মধ্যে আছে দুইটি বৃত্তাকার এবং দুইটি ঘোড়ার খুরের নলের আকারবিশিষ্ট পাথরের সারি। এ ছাড়াও কতগুলো পৃথক পাথর রয়েছে অলটার স্টোন বা পূজা বেদীর পাথর বা শ্লটার স্টোন বা বধ্যভূমির পাথর। সেখানে অনেকেই বিশ্বাস করে যে এটি নিওলিথিক লোকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন এটিই হচ্ছে মানব ইতিহাসের দরজা। ঘুরে আসতে পারেন এই রহস্যময় স্থানটিতে।

তথ্যসূত্রঃ সংগ্রহ ইন্টারনেট

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »