Ultimate magazine theme for WordPress.

এলিয়েনের খোঁজে ২০ গ্রহে নাসা।

জানা গেছে, কয়েকটি গ্রহ নিজের চারপাশে ঘুরতে পৃথিবীর হিসেবে ১৮দিন সময় নেয়। এর মধ্যে রয়েছে এমন একটি গ্রহ, যে নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরতে সময় নেয় ৩৯৫ দিন। এতে সবথেকে বেশি প্রাণ থাকতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি নাসার K2 অভিযানের অংশ ছিল।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

এলিয়েনদের নিয়ে মানুষের মনে কৌতুহলের শেষ নেই। বহুবছর ধরেই এ নিয়ে গবেষনা চলছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় এবার নাসার কেপলার টেলিস্কোপে চোখ রেখে প্রাণ থাকতে পারে এমন ২০টি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন নাসার গবেষকেরা। ওই গ্রহগুলোও পৃথিবীর মত সূর্যের চারপাশে ঘোরে বলে দাবি করেছেন তারা।
জানা গেছে, কয়েকটি গ্রহ নিজের চারপাশে ঘুরতে পৃথিবীর হিসেবে ১৮দিন সময় নেয়। এর মধ্যে রয়েছে এমন একটি গ্রহ, যে নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরতে সময় নেয় ৩৯৫ দিন। এতে সবথেকে বেশি প্রাণ থাকতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি নাসার K2 অভিযানের অংশ ছিল।
KOI-7923.01 নামের একটি গ্রহ আকারে পৃথিবীর তুলনায় ৯৭ শতাংশ বড়। এটি আমাদের পৃথিবীর তুলনায় কিছুটা ঠাণ্ডা। কারণ নক্ষত্র থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে। নক্ষত্রটিও সূর্যের তুলনায় ঠাণ্ডা। অর্থাত্‍ পৃথিবীর তুন্দ্রা অঞ্চলের মত আবহাওয়া এই গ্রহে। তবে সেখানে পানি আছে কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।
গবেষকদের এই টিম ৭০-৮০ শতাংশ নিশ্চিত যে, এই গ্রহগুলোতেই প্রাণের আশা থাকতে পারে। তবে আরও অনেক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এলিয়েন কি ?

মহাবিশ্বের তুলনায় সৌরজগত্‍ কিছুই নয়, একেবারে বালির মতো। আর সে তুলনায় পৃথিবী তো অনেক ছোট। এই মহাকাশের অনেক কিছুই এখনও অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। অধরা রয়ে গেছে মহাবিশ্বের অনেক রহস্যও। আমাদের জানার সীমাবদ্ধতায় হয়তো অচেনা রয়ে গেছে নানা বিস্ময়কর জগত্‍। কতটা জানি আমরা? আরও কত কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা তো কেবল চাঁদে পা দিলাম, মঙ্গলে যান প্রেরণ শুরু হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে প্রায় সবই আমাদের অজানা। অজানা সেই জগতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক নয় পৃথিবী ছাড়া বসবাসযোগ্য কোনো গ্রহের অস্তিত্বও। আর সেই অচীন গ্রহের বাসিন্দাদেরই আমরা এলিয়েন বলি। অর্থাত্‍ এলিয়েন বলতে এমন জীবকে বোঝায় যাদের উদ্ভব পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও। আর সেখানেই এদের বসবাস। এলিয়েন দেখতে কেমন হবে তার কোনো ঠিক নেই। তারা দেখতে পৃথিবীর প্রাণীদের কাছাকাছিও হতে পারে, আবার এ ধারণা থেকে সম্পূর্ণ আলাদাও হতে পারে। আবার সত্যি সত্যি মহাবিশ্বে এলিয়েনের কোনো অস্তিত্ব আছে কিনা এ নিয়েও দ্বিধার অন্ত নেই। তবে এলিয়েন আসলেই রয়েছে_ এরকম বিশ্বাসীদের সংখ্যাই বেশি। এলিয়েনরা দেখতে কেমন? আমাদের চেয়ে পিছিয়ে নাকি অনেক এগিয়ে? তাদের ভাষা কি?

এলিয়েনদের এসব বিষয় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে_ এ ধারণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক জরিপের ভাষ্য

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষই এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। আর তাদের ধারণা এলিয়েন আমাদের মাঝেই হেঁটে বেড়াচ্ছে। ভিনগ্রহের প্রাণী বা ‘এলিয়েন’ আছে এবং তারা আমাদের মধ্যেই মানুষের ছদ্মবেশে হাঁটছে, চলছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে, বাস্তবে তার প্রমাণ মিলুক বা না মিলুক অন্ততপক্ষে প্রতি পাঁচজনে একজন মানুষ এমনটাই বিশ্বাস করে।

এলিয়েনের অস্তিত্ব আছে কি নেই থাকলে তারা কোথায় কিভাবে রয়েছে এ নিয়ে ‘রয়টার্স বিসিএমএম’-এর এক বিশ্ব জরিপের ফলাফলে মানুষের এই বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছে। ২২টি দেশের ২৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এ জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ভারত এবং চীনে এ বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করে এলিয়েনরা মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবশ্য, বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ মানুষই এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। বাজার গবেষণা সংস্থা ইপসস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জন রাইট বলেন, ‘জরিপের ফলাফলে এটা মনে হচ্ছে যে, জনসংখ্যা বেশি হওয়ার সঙ্গে এলিয়েনে বিশ্বাস বেশি থাকার হয়তো একটা সম্পর্ক আছে। কেননা, কম জনসংখ্যার দেশের মানুষের মধ্যে এবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে কম।’

এছাড়া দেখা গেছে, এলিয়েনে বিশ্বাস নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি। পুরুষদের মধ্যে এ বিশ্বাস ২২ শতাংশ হলেও নারীদের মধ্যে তা ১৭ শতাংশ। আর ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এলিয়েনে বিশ্বাস বেশি।

থাকা না থাকার দ্বন্দ্ব

পৃথিবী ব্যতীত অন্য কোনো গ্রহে অন্য কোনো প্রাণী আছে কিনা সেই তর্ক-বিতর্ক চলছে এখনও। মহাশূন্যে কোথাও কেউ আছে কিনা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য চলছে বিরামহীন প্রচেষ্টা। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো রিসার্চ প্রজেক্টের পিছনে ব্যয় করছে কোটি কোটি ডলার। আমেরিকান জ্যোতিবিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ড্রেক ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে সৌরজগতের বাইরের কোনো সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি প্রজেক্ট চালু করেন, যার নাম ছিল প্রজেক্ট ওজমা। এখন ১০টিরও বেশি দেশে সেটি অনুসন্ধান কাজ চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বর্হিবিশ্ব থেকে বিচ্ছুরিত কোনো সঙ্কেত ধরা পড়েনি। বিশাল মহাশূন্যে এই খোঁজার শুরু আর শেষ কোথায় সেটা নির্ণয় করাই হলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের পৃথিবী যে গ্যালাক্সির বাসিন্দা তার নাম হলো মিল্কিওয়ে। অন্য হাজার কোটি গ্যালাক্সির কথা বাদই দিলাম, শুধু মিল্কিওয়ে ছায়াপথেই রয়েছে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র। আবার এই নক্ষত্র পরিভ্রমণরত প্রাণের উপযোগী কোনো গ্রহ খুঁজে ফেরা অনেকটা পাগলামোই মনে হতে পারে। এরপরও বিজ্ঞানীরা এলিয়েন রহস্যের মোড়ক উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর বিশ্বের অধিকাংশ বিজ্ঞানীর ধারণা, এই মহাবিশ্বে আমরা মোটেও একা নই। আমাদের মতো আরও অনেক বুদ্ধিমান প্রাণীই নাকি ছড়িয়ে আছে মহাবিশ্বে। আর এদেরই আমরা এলিয়েন নাম দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এরকম কিছু যদি থেকেই থাকে, তাহলে এরা কেমন? তারা খায়ই বা কি? তাদের কি আমাদের মতোই বুদ্ধি আছে, নাকি স্রেফ পোকামাকড়ের মতো বোকাসোকা। তবে অধিকাংশেরই অভিমত, এরা আমাদের থেকেও অনেক বেশি বুদ্ধিসম্পন্ন। আজকের সভ্যতা যতটুকু এগিয়েছে, সে তুলনায় এলিয়েনরা নিশ্চয়ই আরও অনেক অগ্রগামী। আমাদের সভ্যতার শুরু থেকেই যদি তারা ভিন্ন গ্রহ থেকে এখানে আসতে পারে, তাহলে এতদিনে তাদের উন্নতি কতটুকু হতে পারে তা কেবল কল্পনা করা যায়। কে জানে তারা হয়তো নিয়মিতভাবেই পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করে চলেছে! আর এ কারণেই হয়তো পৃথিবীতে হঠাত্‍ হঠাত্‍ দেখা যায় কিছু অদ্ভুত চেহারার জীব। চোখের পলকেই আবার তারা মিলিয়েও যায়। তারাই কি তবে ভিনগ্রহের বাসিন্দা, এলিয়েন?

বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের ধারণা

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের ধারণা, এলিয়েন আছে, অবশ্যই আছে। এত বড় মহাবিশ্ব আর এত গ্রহ-নক্ষত্র-ছায়াপথ, এদের মধ্যে কি কোথাও নেই এলিয়েন! তিনি বিশ্বাস করেন, অবশ্যই এলিয়েন আছে। শুধু আমরাই তাদের খুঁজে পাচ্ছি না। তবে একদিন তাদের খোঁজ পাওয়া যাবেই।

দ্বিধা-দ্বন্দ্বের বেড়াজালে অস্তিত্ব

এলিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে কল্পনাবিলাসীদের যেমন আগ্রহের শেষ নেই, তেমনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বেরও কমতি নেই। এলিয়েনরা যদি থেকেই থাকে তাহলে ওরা কী পৃথিবীতে আসে না। অনেকেই বিচিত্র প্রাণী, বিচিত্র আকারের সসার আর নভোযান দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। আবার কেউ এসব ঘটনাকে নেহাতই দৃষ্টিভ্রম বা মতিভ্রম বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এলিয়েনরা যদি পৃথিবীতে এসেই থাকে, তাহলে ওরা কেন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে না? বিজ্ঞানীদের ধারণা, তারা হয়তো আমাদের ভাষা বুঝতে পারে না বা আমরা তাদের ভাষা বুঝি না। কিন্তু তাদের তো নিশ্চয়ই ভাষা পরিবর্তন করে নেওয়ার ক্ষমতা থাকে। কারণ এলিয়েনদের আমরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা সভ্যতার বাসিন্দা বলেই জানি। তাছাড়া সিনেমায় তাদেরকে সে রকম করেই দেখানো হয়। তবে এগুলো সবই কল্পনা। বিশেষ করে যারা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লিখেন, সেসব লেখকদের কল্পনা। আর বিভিন্ন সিনেমায় তাদের বিভিন্ন রূপে পরিচালকরা তুলে ধরেন।

এলিয়েনরা কিসে চড়ে পৃথিবীতে আসে ?

প্রশ্ন আসে এলিয়েনরা কিসে চড়ে পৃথিবীতে আসে? অনেক সিনেমায় দেখা গেছে, এলিয়েনরা বিশাল বিশাল মহাকাশযানে চড়ে ঘুরে বেড়ায়। এ মহাকাশযানগুলো নিয়েও গবেষণার শেষ নেই। কেউ এদেরকে বলে ফ্লাইং সসার বা উড়ন্ত চাকতি, আবার কেউ বলে আন-আইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট সংক্ষেপে ইউএফও। এই ফ্লাইং সসারে করে এলিয়েনরা দূর কোনো গ্রহ থেকে চোখের পলকে পৃথিবীতে আসে এবং আবার চলেও যায়। তাদের গতির কাছে আমরা হার মেনে যাই। অর্থাত্‍ আমাদের বিজ্ঞান হার মেনে যায়। যে কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় এই সসার দেখতে পেয়েও তাকে শনাক্ত করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই সেটি অশনাক্তই থেকে গেছে। আবার জোর করে কেউ বলতেও পারছে না যে এগুলো সব মিথ্যা। কারণ হিসেবে অনেক প্রমাণও রয়েছে সবার সামনে, যাতে এলিয়েনদের যান বলেই তাদেরকে শনাক্ত করা যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »