Ultimate magazine theme for WordPress.

অবিশ্বাস্যকর ভাবে ঘটে যাওয়া ৬ টি কাকতালীয় ঘটনা।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই নানারকম অলৌকিক এবং উদ্ভট ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। কখনও সে ঘটনার ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, কখনও সেটাতে স্রেফ ‘কাকতালীয়’ আখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আজ তেমন কিছু ঘটনা নিয়েই সাজানো আমাদের এই আয়োজন।

টাইটানিক-রহস্য

জেমস ক্যামেরনের চলচ্চিত্রটির সৌজন্যে ‘টাইটানিক’ নামক জাহাজটির কথা অনেকেরই জানা। সেদিন থেকে আজ অবধি জাহাজটির ডুবে যাওয়া নিয়ে জল্পনাকল্পনার বিশেষ অভাব হয়নি, আজ অবধি নানারকম ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কথাও শুনতে পাওয়া যায় কান পাতলে। তবে টাইটানিকের সবচেয়ে অদ্ভুতুড়ে কাকতালটি সম্ভবত লুকিয়ে আছে একটি বইয়ের মধ্যেই।

১৮৯৮ সাল, মানে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার ঠিক ১৪ বছর পূর্বে ফ্যান্টাসি-লেখক মরগান রবার্টসন একটি উপন্যাসিকা লেখেন, যাতে পুরো গল্পটিই আবর্তিত হয়েছিলো একটি জাহাজকে কেন্দ্র করে। বইটির পুরো নামটাও বেশ চমকপ্রদ, ‘Futility, Or The Wreck Of The Titan’!

‘টাইটান’ শব্দটিতেই শুধু কাকতাল, সেটা ভাবলে ভুল করবেন। ওই উপন্যাসিকায় বর্ণিত ওই জাহাজটি ছিলো ‘অনিমজ্জনীয়’, একই রকম কারিগরী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, লাইফবোট ছিলো একইরকম অপ্রতুল, এমনকি সেই জাহাজটিও ডুবেছিলো নর্থ আটলান্টিকের একটি হিমশৈলের সাথে সংঘর্ষের কারণেই!

‘একই রকম কারিগরী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন’ শব্দগুচ্ছে কৌতুহল মেটার কথা নয়। তাই সকলের জ্ঞাতার্থেই একটু ব্যাখ্যা রাখা ভালো। ‘টাইটানিক’ জাহাজের দৈর্ঘ্য ছিলো ৮৮২ ফুট, যেখানে বইয়ের ‘টাইটান’ জাহাজের দৈর্ঘ্য ছিলো ৮০০ ফুট। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনার রাতে টাইটানিকের ২২০০ যাত্রী এবং ক্রু’দের অর্ধেকেরও বেশি মারা যায় আটলান্টিকের বরফজমা ঠান্ডাতে! অন্যদিকে কল্পনার ‘টাইটান’ জাহাজটিতেও ২৫০০ যাত্রী এবং ক্রু’দের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যুবরণ করেন। অদ্ভুতভাবে মরগানের সেই উপন্যাসিকার প্লট মেনেই যেন ১৪ বছর পর ‘অনিমজ্জনীয়’ হিসেবে তৈরি করা টাইটানিক শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়।

 

সৌভাগ্যপূর্ণ নাম

১৬৬০ সালের ৫ ডিসেম্বর ছিল সময়টা। ডোবারে একটা জাহাজ ডুবে যায়। সৌভাগ্যক্রমে একজন মানুষ বেঁচে যান জাহাজের ভেতরে। আর তার নাম ছিল হাগ উইলিয়ামস। এরপরের ঘটনা ১৭৬৭ সালের। একই স্থানে সেবার আরো একটি জাহাজ ডুবে যায়। মৃত্যু হয় জাহাজে থাকা ১২৮ জন মানুষের ভেতরে ১২৭ জনের। সৌভাগ্যক্রমে সেবারেও বেঁচে যান একজন। নাম হাগ উইলিয়ামস। পরবর্তীতে ১৮২০ সালের ৮ আগস্ট টেমস নদীতে ডুবে যায় আরেকটি জাহাজ। এতেও বরাবরের মতন বেঁচে যায় একজন। নাম? হাগ উইলিয়ামস। শেষ ঘটনাটি ১৯৪০ সালের ১০ জুলাই এর। এক ব্রিটিশ ট্রেলার জার্মান গোলার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনায় ট্রলারের মাত্র দুজন মানুষ বেঁচে গিয়েছিলেন। সম্পর্কে তারা ছিলেন চাচা আর ভাতিজা। আর তাদের নাম? আন্দাজ করে নিন। ঠিক ধরেছেন, দুজনেরই নাম ছিল হাগ উইলিয়ামস!

 

কপালের লিখন

১৮৯৩ সালে, হেনরি জিগল্যান্ড নামে এক লোক তার প্রেমিকার সাথে বিচ্ছেদ করে। সেই কষ্ট মেনে নিতে না পেরে মেয়েটা আত্মহত্যা করে বসে। আর সেই খবর পেয়ে মেয়েটার ভাই জিগল্যান্ডকে খুঁজতে শুরু করে প্রতিশোধ নেবার জন্য। জিগল্যান্ডকে পাওয়ার পর মেয়েটার ভাই তার মুখে গুলি করে এবং জিগল্যান্ড মারা গিয়েছে ভেবে নিজেও আত্মহত্যা করে। কিন্তু জিগল্যান্ড মরে নি। গুলি তার মুখ ছুঁয়ে পিছনের এক গাছে গিয়ে লাগে। সে যাত্রা প্রাণে বেঁচে যায় জিগল্যান্ড।

এর ঠিক বিশ বছর পর সেই গাছটাই কোন কারণে কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় জিগল্যান্ড। কুঠার দিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে জিগল্যান্ড সিদ্ধান্ত নেয় ডায়নামাইট দিয়ে গাছটা উড়িয়ে দিবে! গাছটা ঠিকই ডায়নামাইটের বিস্ফোরণে উৎপাটিত হলো, কিন্তু একই সাথে ২০ বছর ধরে গাছের ভিতর অপেক্ষা করতে থাকা গুলিটা বিস্ফোরণের ধাক্কায় গিয়ে লাগলো জিগল্যান্ডের মাথায় এবং সে সেই গুলির আঘাতেই মারা গেলো!

 

কাকতালীয় মৃত্যু

১৯৭৫ সালের জুলাই বারমুডার হ্যামিলটনে এক ট্যাক্সির ধাক্কায় মারা যায় ১৭ বছর বয়সী কিশোর এরস্কিন লরেন্স এবিন। ব্যাপারটা তখন বেশ ঝড় তুলেছিল সবার মনে। কেন? কারণ এর ঠিক এক বছর আগে ঐ একই দিনে সেই একই রাস্তায় ট্যাক্সির ধাক্কায় মারা যায় লরিন্সের ভাই। ভাবছেন এটাই হয়তো শেষ। কিন্তু না। আশ্চর্যজনক হলেও দুই ভাইই মারা গিয়েছিলেন একই ট্যাক্সির ধাক্কায়। যার চালক পর্যন্ত ছিলেন একই মানুষ! বলুন এবার কতটা কাকতালীয় মৃত্যু এটা!

 

ধূমকেতু যাত্রী

বিখ্যাত মার্কিন সাহিত্যিক মার্ক টোয়াইনের জন্ম ১৮৩৫ সালের ৩০ নভেম্বর, ঠিক যে বছর হ্যালির ধূমকেতু পৃথিবীর আকাশে দেখা দিয়েছিলো। বিখ্যাত এই ধূমকেতুটি ৭৫ বছর পরপর পৃথিবীর কাছে ফিরে আসে। ১৯০৯ সালে, হ্যালির ধূমকেতু মার্ক টোয়াইনের জন্মের পর ফিরে আসার ঠিক এক বছর আগে টোয়াইন এক অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী করেন- “আমি ১৮৩৫ সালে হ্যালির ধূমকেতুর সাথে এসেছিলাম। এটি আগামী বছর ফিরে আসছে এবং আমি আশা করছি আমি এটার সাথেই চলে যাবো। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অতৃপ্তির ব্যাপার ঘটবে যদি আমি এটার সাথে না যাই!” ১৯১০ সালের ১০ই এপ্রিল, পৃথিবীর উত্তর আকাশে হ্যালির ধূমকেত দেখা দেওয়ার ঠিক পরদিন এই মহান কথা সাহিত্যিক হার্ট এটাকে মৃত্যু বরণ করেন- তার ইচ্ছা পূরণ হয়!

 

ফ্যামিলি ক্রিসমাস

১৯৯৪ সাল, ক্রিসমাস চলে এসেছে দ্বারপ্রান্তে। ঠিক এমন সময়ে শহরের দুই প্রান্তে বসবাসকারী দুই সহোদর সিদ্ধান্ত নিলেন, এবারের ক্রিসমাসটা তারা কাটাবেন নিজেদের পরিবারের সঙ্গেই। যেই ভাবা, সেই কাজ। সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে জম্পেশ একটি উপহার কিনে নিয়ে যাত্রা করলেন ভাইয়ের বাসার উদ্দেশ্যে, তবে ভাইকে বিন্দুমাত্র না জানিয়েই। উদ্দেশ্য, হুট করে ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে ভাইকে ভড়কে দেওয়া!

কিন্তু বিধি বাম, মাঝপথে মারাত্মক দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো দু’জনকেই। দু’জনেই দারুণ অবাক হয়ে হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, তার ভাইও ভর্তি হয়েছেন সেই একই হাসপাতালে! ইতিমধ্যেই তাদের বাবাও সেই হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন, তিনি একটি সার্জারির পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। ক্রিসমাসটা তারা একদম পরিবারের সঙ্গেই কাটালেন বটে, তবে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে!

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »