Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলের ৩৫তম রাষ্ট্রপ্রধান লুইজ ইনাসিউ লুলা দা সিলভা দেশটিতে ব্যাপক আকারে বিভিন্ন সমাজ সংস্কারমূলক কর্মসূচির প্রবর্তন করেন।

লুলা ব্রাজিলের শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। তিনবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ব্যর্থ হবার পরে শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালে তিনি জয়লাভ করেন এবং ২০০৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ব্রাজিল ডেস্ক ♦

লুইজ ইনাসিউ লুলা দা সিলভা- জন্ম ২৭শে অক্টোবর ১৯৪৫, যিনি লুলা নামে সমধিক পরিচিত, একজন ব্রাজিলীয় রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন শ্রমিকসঙ্ঘ নেতা  , যিনি ২০০৩ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রাজিলের ৩৫তম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িতা পালন করেন। লুলা ব্রাজিলের শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। তিনবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ব্যর্থ হবার পরে শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালে তিনি জয়লাভ করেন এবং ২০০৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে লুলা ব্রাজিলে ব্যাপক আকারে বিভিন্ন সমাজ সংস্কারমূলক কর্মসূচির প্রবর্তন করেন (যেমন বোলসা ফামিলিয়া ও ফোমি জেরু), যেগুলির লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং ব্রাজিলের নিম্নবিত্ত শ্রমিক শ্রেণীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লুলা জলবায়ু পরিবর্তন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গুরুত্ববিশিষ্ট বিষয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। লুলাকে বিশ্ব পর্যায়ে “জাতিসমূহের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনে উচ্চাভিলাষী ব্যক্তিত্ব” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

লুলার পরে তাঁর প্রধান কর্মকতা দিলমা রুসেফ রাষ্ট্রপ্রধান হন। লুলা ব্রাজিলের রাজনীতিতে এক স্থায়ী পরিবর্তন সাধন করেন; তার নীতিগুলিকে একত্রে লুলাবাদ নাম দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদের একজন। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি সারা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। ২০১১ সালে ৪০ বছরের ধূমপায়ী লুলার গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে; তবে রাসায়নিক চিকিৎসা (Chemotherapy) গ্রহণের পরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

২০১৬ সালের শুরুতে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান দিলমা রুসেফ লুলাকে তার অধীনস্থ নির্বাহী বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন, কিন্তু সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারপতি গিলমার মেন্দেস লুলার উপরে অসমাপ্ত তদন্তের প্রেক্ষিতে এই নিয়োগে বাধা দেন। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে লুলাকে হুন্ডি ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়। লুলা রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করে ব্যর্থ হন এবং ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  এরপর লুলা ২০১৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবার চেষ্টা করলে তাকে দেশের ঊর্ধ্বতন নির্বাচনী আদালত “ফিচা লিম্পা” নামক আইনের আওতায় বাধা দেয়। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে লুলাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »