Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলের ৩৬তম রাষ্ট্রপতি দিলমা ভানা রুসেফ বিশ্বের ১০০ সেরা ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ।

বুলগেরীয় আইনজীবি ও উদ্যোক্তা পেদ্রু রুসেফের কন্যা দিলমা রুসেফ উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিবারে মিনাস গেরাইজের বেলো হরাইজন্তে এলাকায় বড় হন।

0
©ক্রাইম টিভি বাংলা ব্রাজিল ডেস্ক♦

দিলমা ভানা রুসেফ জন্ম: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৭) বেলো হরাইজন্তে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ব্রাজিলের বিশিষ্ট প্রমিলা অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ। তিনি ব্রাজিলের ৩৬তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ১ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে ব্রাজিলের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পর ৩১ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে অভিশংসন ও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার পূর্ব পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ব্রাজিলের প্রথম মহিলা হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপূর্বে ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা’র চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন।
বুলগেরীয় আইনজীবি ও উদ্যোক্তা পেদ্রু রুসেফের কন্যা দিলমা রুসেফ উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিবারে মিনাস গেরাইজের বেলো হরাইজন্তে এলাকায় বড় হন। তার মা দিলমা জেন দা সিলভা পেশায় বিদ্যালয়ের শিক্ষয়িত্রী ছিলেন। বাবা বুলগেরিয়ার গাবরোভো এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন ও তার বন্ধু ছিলেন এলিসাভেতা বাগ্রিয়ানা নামীয় নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত কবি। ১৯২০-এর দশকে তিনি বুলগেরীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পিতার রুসেভ ১৯২৯ সালে রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণে বুলগেরিয়া থেকে ফ্রান্সে আবাস গড়েন। ১৯৩০-এর দশকে বিপত্নীক অবস্থায় ব্রাজিলে আসেন। কিন্তু তিনি পুণরায় বুয়েন্স আয়ার্সে স্থানান্তরিত হন। কয়েক বছর বাদে ব্রাজিলের সাউ পাওলোতে বাসস্থান গড়েন ও ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। পিটার রুসেভ তার নামের প্রথমাংশ পর্তুগীজ ও শেষাংশ ফরাসী ভাষায় গ্রহণ করেছিলেন। ওবেরাবা ভ্রমণে দিলমা জেন দা সিলভা’র সাথে পরিচিত হন। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বেলো হরাইজন্তে এলাকায় আবাস গড়েন। তাদের তিন সন্তান – ইগর, দিলমা ভ্যানে ও জানা লুসিয়া। দিলমা’র বড় ভাই ইগর রুসেফ পেশায় একজন আইনজীবি।
যুবাবস্থায় সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণায় জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৪ সালে ব্রাজিলে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এরফলে বিভিন্ন বামপন্থী রাজনীতি ও মার্কসবাদী শহুরে গেরিলা গ্রুপে যোগদানের মাধ্যমে ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে ব্রাজিলের একনায়কতান্ত্রিক সামরিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। জানুয়ারি, ১৯৭০ সালে মার্কসবাদী দলের সদস্য থাকাকালীন ব্যাংক ডাকাতি ও খুনের দায়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন বলে জানা যায়। তিন বছর পর কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন তিনি। মুক্তিলাভের পর পোর্তো আলেগ্রে এলাকায় কার্লোস আরাওজো’র সাথে ঘরোয়া সঙ্গী হিসেবে ৩০ বছর কাটান। তারা উভয়েই রিও গ্রান্দে দো সাল এলাকায় ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টি (পিডিটি) গঠনে ব্যাপক সহায়তাসহ দলের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। অ্যালসিও কলারেজ প্রশাসনে পোর্তো আলিগ্রে শহরে দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। পরে কলারেজ এবং অলিভো দুতরা’র উভয় প্রশাসনেই রিও গ্রান্দে দো সাল প্রদেশে শক্তি সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০০ সালে দুতরা মন্ত্রীপরিষদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে তিনি পিডিটি থেকে চলে আসেন ও ব্রাজিলের ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেন। ২০০২ সালে রুসেফ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী লুলা দা সিলভা’র শক্তি নীতি-নির্ধারণ কমিটিতে যোগদান করেন। এরপর ২০০৩ সালে লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা নির্বাচনে বিজয়ী হলে এ সরকারের খনিজ ও শক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন রুসেফ। ম্যানসালাও কেলেঙ্কারী নামে পরিচিত দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত জোস ডারসিও’র পদত্যাগজনিত কারণে তিনি ২০০৫ সাল থেকে ৩১ মার্চ, ২০১০ তারিখ পর্যন্ত লুলা’র চিফ অব স্টাফ হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রুসেফ প্রার্থী হওয়ায় তিনি এ পদ থেকে চলে আসেন। অতঃপর ৩১ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হন রুসেফ।
১২ মে, ২০১৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বে পালনকালে রুসেফের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়ার শুনানি শুরু হলে উপ-রাষ্ট্রপতি টেমারের কাছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা চলে আসে ও সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় রুসেফের পরিবর্তে তাকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়।

৩১ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে ব্রাজিলীয় সিনেট ৬১-২০ ভোটের ব্যবধানে রুসেফকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরফলে উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মিশেল টেমার ৩৭তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হন।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ সেরা ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় রুসেফকে দ্বিতীয় স্থান দেয়া হয়। তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের পিছনে ছিলেন। আগস্ট, ২০১১ সালেও রুসেফ ফোর্বসের বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ৩য় স্থানে ছিলেন। তার পূর্বে ছিলেন মার্কেল ও মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। অক্টোবর, ২০১০ সালেও তিনি ফোর্বসের তালিকায় ষোড়শ অবস্থানে ছিলেন। অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী’র সাথে এ তালিকায় তৃতীয় সেরা নারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »