Ultimate magazine theme for WordPress.

ইরাকে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী মশিউর রহমান বাবু ও রিয়াজ এর টর্চার সেলে হাজারও অভিবাসী।

লিবিয়ার মিজদাহে ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে না তো ? গ্রিসে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করেছেন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন বাংলাদেশিকে।

0

ইরাক থেকে আমাদের প্রতিনিধি আক্তার হোসেন♦ 

আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বেতনের চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করছে। উক্ত চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, লিবিয়া , ইরাক ও ইতালিতে সমানভাবে সক্রিয়। এদের শিকার মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সের বেকার যুবকরা। চক্রটি বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে যুবকদের ইরাক পাচার করে থাকে।ইরাকে অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা ইরাকের বন্দিশালায় তাদেরকে আটক রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং উক্ত বন্দীদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদেরকে  ইরাক হতে ইরান সীমান্ত পার করে তুরস্কে নিয়ে যায় । অবৈধ পন্থায় ইতালি বা গ্রীস যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

কিন্তু অনেকেই জানেনা তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরাক থেকে অবৈধ পথে ইউরোপে যাত্রা নিশ্চিত মৃত্যু কে স্বাগত জানানো ছাড়া আর কিছুই নয় । সীমান্ত পার হওয়ার সময় যদি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে পড়ে যায় , তাহলে সহ্য করতে হয় অমানুষিক নির্যাতন । অন্যদিকে ইরাক থেকে অবৈধ পথে তুরস্ক যাওয়ার পথে বড় বড় পাহাড় টপকে মৃত্যুর ঘটনা অহরহ ঘটছে । বর্তমানে গ্রীস ও তুরস্কের দ্বন্দ্বের কারণে তুরস্কের সমস্ত সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ।

সম্প্রতি লিবিয়ায় ৩০ জন অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্য চারজন আফ্রিকান অভিবাসী।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইরাকে । ইরাকে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী ও মাফিয়ার প্রধান নোয়াখালীর রিয়াজ নামের একজন অন্যজন মুন্সীগঞ্জের মশিউর রহমান বাবু

অবৈধ পথে ইউরোপে মানবপাচার এর একটি সংকেত হলো গেম। গত দুই মাসে ইরাকে ইউরোপে গেম দেওয়ার নামে প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশী ও ভারতীয় কে জড়ো করা হয়েছে । তথ্যমতে মানব পাচারকারী রিয়াজমশিউর রহমান বাবুর নেতৃত্বে এই ২০০ জন অভিবাসীকে তাদের টর্চার সেলে বন্দি রেখে তাদের পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় করতে চাচ্ছে । ইতিমধ্যে ভারতে এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে । ভারতের অভিবাসীদের উদ্ধারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে । এদিকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্ধারের জন্য এখনো কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি । গত তিন বছর আগে ভাগ্য ফেরাতে মোহাম্মদ শরীফ হোসেন (২৭) নামে একজন বাংলাদেশী ইরাকে গিয়েছিলেন । তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানার সরদার পাড়া গ্রামে । সে মরহুম আমির হোসেনের ছেলে । গত দুই মাস আগে মশিউর রহমান বাবুর প্রলোভনে পড়ে সেই অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা শুরু করেন । কিন্তু সীমান্তে ইরানি সীমান্তরক্ষীদের অত্যাচারে তার এক পা ও বুকের পাঁজর ভেঙ্গে যায় বলে জানিয়েছেন তার সাথে একই গেম এ যাওয়া মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার এক যুবক । সেই যুবক টেলিফোনে মোহাম্মদ শরীফ হোসেনের পরিবারকে এই খবর জানায় এবং দ্রুত শরীফের দালালের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন তা না হলে তাকে বাচাঁনো যাবে না বলে জানায় ।

এরপর দ্রুত মোহাম্মদ শরীফ হোসেনের মা রুবিনা আক্তার মানব পাচারকারী মশিউর রহমান বাবুর সাথে যোগাযোগ করলে সেই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং বলে আগামীকাল তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে ।এরপর একাধিকবার মশিউর রহমান বাবুর সাথে যোগাযোগ করলে সে মোহাম্মদ শরীফ হোসেন ভালো আছে এই কথা জানায় কিন্তু তার কোনো সঠিক তথ্য এই পর্যন্ত দিতে পারেনি ।

মোহাম্মদ শরীফ হোসেন কে গ্রীসে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দালাল মশিউর রহমান বাবু কে তার পরিবারের কাছে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।যেই টাকা শরীফ হোসেনের মা সমিতি থেকে অতিরিক্ত সুদে ঋণ করে । বর্তমানে তার ছেলেকে না পেয়ে অন্যদিকে সুদের টাকার চাপে সে  পাগলপ্রায় ।

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে মশিউর রহমান বাবু ও রিয়াজের একটি টর্চার সেল রয়েছে সীমান্ত এলাকায় । সেই টর্চার সেলে অবৈধ পথে ইউরোপগামি অভিবাসীদের আটকিয়ে তাদের পরিবার থেকে টাকা আদায় করা হয় ।

চলবে……

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »