Ultimate magazine theme for WordPress.

ইরাক থেকে গ্রিসে মানবপাচারকারী ২ মাফিয়ার হাতে জিম্মি প্রায় ২০০ বাংলাদেশী ।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক♦

মানব পাচারকারীর হাতে ইরাকে মোহাম্মদ শরীফ হুসাইন (২৭) নামের এক বাংলাদেশি জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার সাথে আরও প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশী ও ভারতীয় নাগরিক রয়েছে ।

ঘটনার শিকার মোহাম্মদ শরীফ হুসাইনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার সরদার পাড়া গ্রামে। মোহাম্মদ শরীফ হুসাইন মরহুম আমির হোসেনের ছেলে। অন্যান্যদের বাড়ি নোয়াখালী ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় । মাফিয়া চক্রের মূল হোতা মুন্সীগঞ্জের বাবু – তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ থানা মিরেশ্বরাই গ্রামে। তার সহযোগী নোয়াখালীর রিয়াজ নামের একজন ।সম্প্রতি মোহাম্মদ শরীফ হোসেনকে ইরাক থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রীষ্মে পাঠানোর নামে তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে নেয় বাবু । শরীফ হোসাইন এর মামা জাহাঙ্গীর দেওয়ান এর সাহায্যে বাবুর বড় ভাই এই টাকা বুঝে নেয় ।

ইউরোপে অবৈধ পথে মানব পাচারের একটি সংকেত হলো গেম । গেম দেয়ার নামে ইরাক থেকে ইরান সীমান্ত হয়ে তুরস্কে সীমান্ত বাহিনীর হাতে প্রথমে তুলে দেয় প্রায় ২০০ বাংলাদেশিকে এই বাবু । এই সময়ে তুরস্কের সীমান্তরক্ষীরা নির্মম অত্যাচার চালায় অভিবাসীদের উপর । এতে গুরুতর ভাবে আহত হয় মোঃ শরীফ সহ সকল অভিবাসী ।

তুরস্কের সীমান্তরক্ষীদের আক্রমণে অনেকের পা ভেঙে যায় কারো বুকের পাঁজর । ওই গ্রুপে ছিলেন সিলেটের রুমেল নামে এক বাংলাদেশি সে বাংলাদেশের ফোন করে মোহাম্মদ শরীফের পরিবারকে জানাই দ্রুত যেন তার দালালের সাথে যোগাযোগ করা হয় কারণ শরীফ গুরুতর আহত। তার একটি পা এবং বুকের পাঁজর ভেঙে দিয়েছে তুরস্ক সেনাবাহিনী ।

এরপর দ্রুত দালাল বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে – বাবু জানায় শরীফ ভালো আছে তাদের দায়িত্বে আছে । কিন্তু এটা তো আর মিথ্যে শান্তনা । আজ দেড় মাস হল মোহাম্মদ শরীফ হোসেন নিখোঁজ ।

অন্যদিকে নোয়াখালীর আল-আমিন হোসেন (৩০) নামের এক বাংলাদেশী জানিয়েছে বাবু বাহিনীর হাতে প্রায় দুই থেকে তিনশ বাংলাদেশী ও ভারতীয় নাগরিক জিম্মি হয়ে আছে তাদের জিম্মি করে তাদের পরিবার থেকে মুক্তিপণ দাবি করছে তারা ।

এই খবর সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে  যোগাযোইয় করেছেন । অন্যদিকে বাংলাদেশের জিম্মি বাংলাদেশিরা নিকটবর্তী থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে । এই ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত করে বাংলাদেশি মাফিয়াদের আইনের আওতায় আনার জন্য এদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে । এদিকে মোহাম্মদ শরীফ হোসেন এর মা – মাফিয়া দালাল বাবুর বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলে – বাবুর বড় ভাই জানায় বাবুর সাথে কথা না বলে সে কিছুই করতে পারবেনা ।

অন্যদিকে ইরাকে বাবুর সাথে মিঠু ফোনে যোগাযোগ করা হলে বাবু জানায় তার এলাকাতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে সরকারি নেতাদের সাথে তার যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক রয়েছে সুতরাং কার কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা ফেরত দেয়া হবে না । আর মোহাম্মদ শরীফ হোসেন কে ফেরত পেতে হলে আরো ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে । নিরুপায় অসহায় শরীফ হোসেন এর মা খুব শীঘ্রই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার ছেলেকে ফিরে পেতে একটি আবেদন করবেন  বলে জানা গেছে । অন্যদিকে মাফিয়া দালাল বাবুকে ধরতে নিকটবর্তী থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ।

চলবে……।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »