Ultimate magazine theme for WordPress.

ইইউ’র ‘দরিদ্র’ রাষ্ট্রগুলোতে শরণার্থীদের পাঠাতে পারবে জার্মানি

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

আশ্রয়প্রার্থীদের জার্মানি থেকে  ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে দেয়ার অধিকার বার্লিনের রয়েছে৷ সেসব দেশে জীবনযাপনের মান যদি জার্মানির চেয়ে খারাপও হয় তারপরও তা করা যাবে৷ ইউরোপীয় আদালত এই রায় দিয়েছে৷

ইউরোপের বিচার আদালত (ইসিজে) মঙ্গলবার এক রায়ে বলেছে জার্মানি চাইলে  আশ্রয়প্রার্থীদের ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারবে৷ লুক্সেমবুর্গভিত্তিক আদালতটির বিচারকরা বলেছেন, শরণার্থীদের যে-দেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে-দেশের সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবস্থা এবং জীবনমান যদি জার্মানির চেয়ে খারাপও হয় তারপরও সেখানে তাদের বিতাড়ন করা যাবে৷

ইসিজি কী বলেছে?

ইইউভুক্ত কোনো দেশের সামাজিক সুযোগ-সুবিধাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সেদেশে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হবে না৷

তবে কোনো দেশের অবস্থা যদি এতই খারাপ হয় যে সে-দেশে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা, যেমন খাবার, গোসল এবং আশ্রয়স্থল পাওয়ার মতোও নিশ্চয়তা নেই, সে-দেশে শরণার্থীদের বিতাড়ন করা যাবে না৷

জার্মানির মতো একই জীবনমানের নিশ্চয়তা নেই বলে অন্য দেশে যাওয়া যাবে না, এই যুক্তিতে শরণার্থীরা বিতাড়ন ঠেকাতে পারবেন না৷

বিচারকরা এটাও তুলে ধরেছেন যে, ইইউ আশ্রয় ব্যবস্থা পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এবং এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইইউ রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে৷

একটি ইইউভুক্ত দেশে নিরাপত্তা পাওয়ার পরও যদি একজন শরণার্থী অন্য দেশে আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাহলে সে আবেদন বাতিল করা যাবে৷

ইইউ’র আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়মগুলো কী?

ইইউ’র ডাবলিন প্রবিধান অনুযায়ী, একজন আশ্রয়প্রার্থী ইইউ’র যে-দেশে প্রথম পা রেখেছেন, সে-দেশেই আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে৷ সেই দেশ আশ্রয়প্রার্থীর দেখভালের এবং তার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে দায়বদ্ধ৷ একজন অভিবাসনপ্রত্যাশী যদি সে-দেশ ছেড়ে অবৈধভাবে অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাহলে তাকে আবারো আগের দেশে বিতাড়ন করা যাবে৷ তবে, এই বিতাড়ন প্রথম ছয় মাসের মধ্যে করতে হবে৷

এখন কী হবে?

ইসিজে এই রায় দেয়ার পর এখন ইইউ’র বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় আদালতের আশ্রয়ের বিষয়ে জমা পড়া মামলাগুলোর রায় দিতে হবে৷ তাই সুনির্দিষ্ট মামলাগুলোতে শরণার্থীদের কী হবে তা আসলে জার্মানির আদালতই চূড়ান্ত করবে৷ আর ইসিজি’র এই সিদ্ধান্তের কেমন প্রতিক্রিয়া হাঙ্গেরি, ইটালি এবং পোল্যান্ড দেখাবে তা এখনো নিশ্চিত নয়৷

উল্লেখ্য, গত বছর আট হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশে বিতাড়ন করেছিল জার্মানি৷ এর মধ্যে অধিকাংশই ইটালিতে ফেরত গেছেন৷ আর অল্পকিছু গ্রিসে গেলেও হাঙ্গেরি কাউকে গ্রহণ করেনি৷

 (এএফপি, ডিপিএ)

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »