Ultimate magazine theme for WordPress.

ট্রাম্পকে জেতাতে টাকা ঢালছে বেসরকারি কারাগারগুলো

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦ 

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আগের যে কোনো রেকর্ডের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে বেসরকারি বাণিজ্যিক বন্দিশালাগুলো। তাদের অনুদানের সিংহভাগ অর্থই যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলে।

অলাভজনক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসপনসিভ পলিটিক্সের মতে, এই নির্বাচনী কার্যক্রম চলাকালীন ব্যক্তিমালিকানাধীন এ কারাগারগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রার্থীদের ২১ লাখ দলার অনুদান দিয়েছেন।

এটাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনেই লাভজনক কারাগারের ব্যবসা বিকাশ লাভ করেছে। অভিবাসী বন্দিদের রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ বেসরকারি কারাগারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। দুটি বৃহত্তম কারাগার সংস্থা জিইও গ্রুপ ও কোরসিভিকের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর তাদের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়ন থেকে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় অনুদানে বেসরকারি বন্দিশালাগুলোর মধ্যে অধিকাংশ অর্থ ব্যয় করা জিইও গ্রুপ সাম্প্রতিকতম অর্থবছরে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে ৯০ কোটি ডলার পেয়েছে, যেখানে ওবামা প্রশাসনের শেষ অর্থবছরে সংস্থাটি পেয়েছিল ৫০ কোটি ডলার।

ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক হাজার অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীকে আটক করার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি কারাগারগুলোর ভাগ্য ক্রমশ দেশটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। গতবছর কোরসিফিক ও জিইও গ্রুপ একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার সঙ্গে ১৩০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে।

জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ বার্নি স্যান্ডার্স ও অন্য উদারপন্থীদের চাপের মুখে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন বেসরকারি বন্দিশালা ব্যবহার বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, এই বন্দিশালাগুলো মুনাফার জন্য বর্ণ বৈষম্যের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের নীতিমালা ব্যাপক আকারে ‘অপরাধীদের’ কারারুদ্ধ করার পক্ষে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই প্রতিশ্রুতি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তাদের প্রশাসনের অধীনেই টেক্সাসে পারিবারিক আটক কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ৩০ লাখেরও বেশি লোককে নির্বাসিত করা হয়েছিল।

ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে জিইও ও কোরসিভিক সম্প্রতি টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ায় কয়েকটি অভিবাসী বন্দি শিবিরগুলোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। নির্বাচনে বাইডেন জিতলে এই চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এজন্য তারা রিপাবলিকানদের জেতাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে।

ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স রেকর্ড বলছে, জিইও গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ জোলি বর্তমান নির্বাচনী সাইকেলে রিপাবলিকানদের ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ ডলার এবং ডেমোক্র্যাটদের মাত্র ১০ হাজার ডলার দিয়েছেন। কোরসিভিকের সিইও ড্যামন হিনগার এই নির্বাচনে রিপাবলিকাদদের ২৬ হাজার ৩০০ ডলার অনুদান দিয়েছেন। কোরসিভিকের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২ লাখ ২৮ হাজার ডলার দিয়েছিল।

সংস্থাটির মুখপাত্র রায়ান গুস্টিন বলেন, প্রশ্ন বা অনুমান যাই থাকুক না কেন কোরসিভিক রিপাবলিকান দলকে পছন্দ করে। কারণ দলটি আমাদের ব্যবসায়ের পক্ষে ভালো। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর এবং আমাদের সংস্থাকে ভুলভাবে চিত্রিত করা হয়েছে।

কোরসিভিক ও জিইও গত সপ্তাহে শেয়ারহোন্ডারদের জানিয়েছিল, তারা টেক্সাসের তিনটি আটক কেন্দ্রের জন্য ১০ বছরের চুক্তি নবায়ন করেছে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্র হিউস্টনে এবং বাকি দুইটি অস্টিন ও সান অ্যান্তোনিওর বাইরে। এর আগে উভয় সংস্থা গত ডিসেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ায় আটক কেন্দ্র চালু করা এবং বিইও গ্রুপের তিনটি নতুন অভিবাসন আটক কেন্দ্র খোলার বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছিল। উভয় রাজ্যে আইসিও ও সংস্থাগুলো ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন আইনে বেসরকারি কারাগার খোলা নিষিদ্ধসহ স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইনটি কার্যকরের কয়েকদিন আগেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। এজন্য জিইও ও ট্রাম্প প্রশাসন এখন আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ অভিবাসন বা আশ্রয়প্রার্থীদের বন্দিশিবিরের মধ্যে বেশিরভাগই বেসরকারি ঠিকাদারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত বা নির্বাসনের প্রত্যাশায় থাকা আশ্রয়প্রার্থী ও অন্যান্য অভিবাসীদের এই বন্দি শিবিরগুলোতে রাখা হয়। মার্কিন সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন ব্যবস্থার ৮০ শতাংশ বেড সরবরাহ করে বেসরকারি এই বন্দি শিবিরগুলো। আর এক্ষেত্রে জিইও গ্রুপ ও কোরসিভিক হলো দুই বৃহত্তম ঠিকাদার।

সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট ও মাদার জোনস

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »