Ultimate magazine theme for WordPress.

লকডাউনের বদলে বিধিনিষেধ দিয়ে অর্থনীতি বাঁচাতে মরিয়া ইউরোপ

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

ইউরোপজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার বাড়ছে। এ অবস্থায় আসন্ন শীতে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ ঠেকাতে নতুন করে যে লকডাউন জারি করার প্রয়োজন, তা মানলেও প্রয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না দেশগুলোর নেতারা। মহামারি মোকাবেলার পাশাপাশি, অর্থনীতি বাঁচাতে লকডাউনের বদলে বিধিনিষেধ আরোপ করছে ইউরোপের অনেক দেশ।

প্রথম দফায় সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যাপক লকডাউনে ইউরোপের অর্থনীতি প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেই ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে লকডাউন জারি করে সঙ্কট আরও বাড়াতে আগ্রহী নন কোন দেশের সরকারই। এর বদলে দেশগুলো বিভিন্ন নতুন বিধি-নিষেধ জারি করেছে ও তা মেনে চলতে জনগণকে বাধ্য করার জন্য জনিমানাসহ বিভিন্ন কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

গত এপ্রিলের পর জার্মানিতে এবারই প্রথমবারের মতো পাঁচ হাজার লোক নতুন করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। দেশটির অন্তত ৪৭টি এলাকায় প্রতি লাখে ৫০ জন সংক্রমিত হচ্ছে। একে ‘ব্যাপকহারে সংক্রমণ বৃদ্ধি’ বলে দেখছেন দেশটির আরকেআই জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা। দীর্ঘ আলোচনার শেষে বুধবার রাতে নতুন বিধি-নিষেধের কথা জানিয়ে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে কী করা হয়, তার উপর এই মহামারির প্রভাব নির্ভর করবে। কড়া বিধিনিয়ম সত্ত্বেও সংক্রমণের হার বাড়তে থাকলে আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন তিনি। আবার ঢালাও লকডাউন ও তার পরিণতি হিসেবে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি এড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

স্পেনের কাতালোনিয়া বৃহস্পতিবার থেকে রেস্তোরাঁ ও বারে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ করতে যাচ্ছে। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমান সংক্রমণের হার অব্যাহত থাকলে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের সব আইসিইউ বেড ভরে যাবে। পোল্যান্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৬ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা মহামারি শুরুর পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ। উত্তর আয়ারল্যান্ড আগামী সোমবার থেকে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার থেকে অতিথি-আপ্যায়ন সেবা সীমিত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চার সপ্তাহের জন্য ক্যাফে ও রেস্তোঁরা বন্ধ করার পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসে স্থানীয় সময় রাত ১০টার পর থেকে আংশিক লকডাউন রাখা হচ্ছে। বুধবার থেকে চেক প্রজাতন্ত্রে তিন সপ্তাহের জন্য আংশিক লকডাউন শুরু হয়েছে। সেখানে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল, বার ও ক্লাব বন্ধ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ প্যারিস ও অন্যান্য শহরগুলোর জন্য বুধবার থেকে নতুন করে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। ইউরোপের অন্যান্য সরকার প্রধানদের মতো তিনিও দেশব্যাপী লকডাউনে যাওয়া এড়াতে সবকিছু করছেন। ফ্রেঞ্চ গায়ানাতে কারফিউ জারি করা হলেও, ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনা হচ্ছে। নতুন করে করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছে ইতালিও। সে দেশে স্কুলের শিক্ষা সফর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নিষিদ্ধ করা হয়েছে পার্কে বিনোদনের জন্য ফুটবল খেলা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘরোয়া পার্টি আয়োজন। এ ছাড়া ছয়জনের বেশি একসঙ্গে কারো বাড়িতে না যাওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ায় একদিনে সর্বাধিক প্রায় ১৪ হাজার জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত এবং ২৪৪ জনের মৃত্যুর পরও দেশজুড়ে লকডাউন দেয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে রাশিয়া। সূত্র: রয়টার্স, সিএনবিসি, ডিপিএ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »