Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলের মাউন্ট রোরাইমা পৃথিবীর সবথেকে রহস্যময় স্থান।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

পৃথিবীর সবথেকে রহস্যময় স্থান আমাদের রহস্যময় পৃথিবীতে (প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক) রহস্যের সীমা নেই। এর মধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। আর এ কারনেই এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্যের কোনো কারণ বর্ননা করতে পারেনি। তাই বিজ্ঞানীরা এগুলোকে অতি-প্রাকৃতিক স্থান বলে অভিহিত করেছেন।   ১। রক্তের জলপ্রপাত , এন্টার্টিকা।  অনেক লোক বা বিজ্ঞানী ই এটি চোখে দেখেন নি। বা এর কোন ছবিও না, তবে এটি বর্তমান । একদল গবেষক এ্যান্টার্টিকা মহাদেশে গিয়ে এটি দেখতে পান, এবং ছবি টি তোলেন। তাদের ধারনা ছিলো কোন অনুজীব এর ফলে এমন টা ঘটে, যদিও শূণ্যের অনেক নিচে হিম শীতল আবহাওয়াতে টিকে থাকা অনেক টা অসম্ভব একটা ব্যাপার । বর্তমান ধারনা সেখান কার মাটিতে থাকা অনেক পরিমান আয়রণ ও সালফার এর কারনে পানির রঙ লাল। এটা কিন্তু সুধুই ধারনা, সেই পানি কেন জমে লাল রঙের আইস ক্রিমের মত হলো না সেটার ও কোন উত্তর নাই।   ২। ম্যাগনেট পাহাড়, নিউ ব্রান্সউইক  পাহাড় এর মত উচু থেকে একটা বল বা গাড়ি যাই ছেরে দেয়া হোক, তা নিচের দিকেই নেমে যাবার কথা । উলটো টা হলে মাথায় চিন্তা হবা টা স্বাভাবিক। প্রথম যে কথা টা মাথায় আসবে তা হলো পাহাড়ে মনে হয় চুম্বক আছে, কি বলেন ? ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এর আকর্ষন বেশ জোরালো ছিলো, রহস্যময় কারনে তা কমে যায় এর পর। প্রচলিত আছে ঘোড়ার গাড়িও টেনে নিতো উপর দিকে এই পাহাড়। এটি অবশ্য একটা পপুলার টুরিস্ট স্পট এখন।   ৩। Surtsey , আইসল্যান্ড  কেউ যদি আপনাকে জিগেস করেন নতুন কি আছে যা আগে ছিলো না, নিশ্চিন্তে এটিকে দেখিয়ে দেন, কেননা এটি আসলেই নতুন। ১৯৬৩ সালের আগে এখানে কিছুই ছিলো না, এমন কি পানির নিচে ডুবো পাহাড় ও না। এর পর একটি ভুমিকম্পের পর রহস্যজনক ভাবেই মাথা তুলে দারায় এটি। হতেই পারে কি বলেন ?   সমস্যা হলো মাঝখানের লেক টির পানি মিষ্টি বা পান করা যায় এমন, লবনাক্ত না। ব্যাপার টা আবিষ্কার করা হয় এ অঞ্চলে কোন বৃষ্টিপাত হবার আগেই। বুঝুন ঠেলা।   ৪। Relampago del Catatumbo, Ologa, Venezuela  বাপরে, নাম তো উচ্চারন ই করতে পারলাম না। ব্যাপার টা বুঝিয়ে বলি, বজ্রপাত সবাই ই চিনি, যাদের প্রেমিকা ভয় পান, তারা মনে একটু বেশী চিনি। আমাদের দেশে বছরে কতদিন আর এর দেখা পাই বলুন, দেখতে হলে তো যেতে হবে ভেনিজুয়েলা তে। এখানে বছরে ২০০ দিনের ও বেশী সময় বজ্রপাত হয়। তাও মাত্রা শুনবেন ? কখনো কখনো মিনিটে ২৫ বার এর ও বেশী। ঠাডা পড়া বুঝেন ? উহু, বজ্রপাত হইবায় লোক টি মারা গেলো বললে বুঝবেন, প্রতি স্কয়্যার কিলোমিটারে প্রতিবছর গড়ে ২৫০ বার বজ্রপাত, চিন্তা করেন একবার। আমাকে হলিউড স্টার হতে দিলেও আমি যাবো না এখানে। কিন্তু এত যায়গা থাকতে এখানেই কেনো ? সরি, কারন কেউ জানে না, সো বলতে পারলাম না।   ৫।মাউন্ট রোরাইমা (Mount Roraima, Brazil):  মাউন্ট রোরাইমা সমতল শীর্ষ বিশিষ্ট পর্বতমালা যার স্থানীয় নাম টিপুই। খুবই দুর্গম আর মেঘে আবৃত-ভেজা রহস্যময় টিপুই, এমনকি শুকনো মৌসুমেও মেঘে ঢাকা থাকে। এই পবর্তমালার প্রথম আলোচনায় আসে ১৫৯৬ সালে। ৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থান আর চারদিক ৪০০ মিটার লম্বা ক্লিফ দ্বারা বেষ্টিত এই পর্বতমালার অবস্থান তিন দেশের সীমান্তে ভেনিজুয়েলা, ব্রাজিল আর গায়ানা। কিন্তু একমাত্র ভেনিজুয়েলা সীমান্ত দিয়েই এই দুর্গম পর্বতে প্রবেশ করা যায়। এই অপূর্ব সুন্দর পবর্তটি বছরের বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা থাকে, যেন এক স্বর্গ রাজ্য!   ৬।ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালী (McMurdo Dry Valleys, Antarctica):  অনেকের মতে ‘ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালী’ বিশ্বের সবচেয়ে গোপন জায়া। এই জনমানবহীন উপত্যকাটি বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমির একটি এবং সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক জায়গা। এন্টার্কটিকার বরফ ও তুষারের মধ্যস্থলে অবস্থিত হলেও প্রতিবছর এখানে মাত্র ৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। স্থানটি মেরুঅঞ্চলের বরফে ঢাকা থাকার কথা হলেও এটা সম্পূর্ণ বরফশূন্য ও খালি। এখানে কিছু শৈবাল দেখা গেলেও কোন গাছপালা নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী উপগ্রহের এই স্থানটির অদ্ভূত মিল রয়েছে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের সাথে।   ৭। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল (The Bermuda Triangle, Atlantic Ocean):  বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল যা শয়তানের ত্রিভূজ নামেও পরিচিত, আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চল, যেখান বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়ায় কথা বলা হয়। অনেকে মনে করেন ঐ সকল অন্তর্ধানের কারণ নিছক দূর্ঘটনা, যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দূর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। আবার চলতি উপকথা অনুসারে এসবের পেছনে দায়ী হল কোন অতিপ্রকৃতিক কোন শক্তি।   ৮। মগুইচেং (Moguicheng, China):  চীনের মগুইচেং চীনের ঝিনজিয়াং অঞ্চলের একটি মরুভূমি হচ্ছে মগুইচেং। এর আক্ষরিক অর্থ ‘শয়তানের নগরী’। স্থানটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও জনশূন্য। অনেক অদ্ভূত ঘটনা এখানে ঘটে বলে লোকজন জানিয়েছেন। দর্শনার্থীরা এই স্থানে রহস্যময় আওয়াজ, বিষন্ন সুর ও গিটারের মৃদু ধ্বনি, বাচ্চাদের কান্না এবং বাঘের গর্জন’ শুনতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এসব শব্দের কোন উৎসের সন্ধান আজো কেউ পাননি।   ৯। আওকিঘারা (Aokighara, Japan):  জাপানের আওকিঘারা জাপানের আওকিঘারা জঙ্গলটি একটি রহস্যময় ভূখণ্ড। এটা জাপানের ফুজি পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর স্থান জুড়ে অবস্থিত এই জঙ্গলটি কোঁকড়ানো ও মোচড়ানো গাছ পালায় পূর্ণ। গোটা এলাকাটি ভূতপ্রেতের অবাধ বিচরণ ভূমি বলে স্থানীয় জনগণের বিশ্বাস। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্থানটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আত্মহত্যার স্থান হিসেবে পরিচিত। পঞ্চাশের দশক থেকে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক লোক এখানে আত্মহত্যা করেছে।   এই জঙ্গলটি জাপানীদের কাছে আত্মহত্যা করার জায়গা হিসেবে পরিচিত।  প্রতি বছর এখান থেকে প্রায় শখানেক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জাপানি নথিপত্রের হিসাব অনুযায়ী ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এখানে গড়ে প্রতি বছর একশত লাশ পাওয়া গিয়েছে। ১৯৯৮ সালে ৭৪ টি, ২০০২ সালে ৭৮ টি লাশ পাওয়া যায়। ২০০৩ সালে এই সংখ্যা ১০০ তে গিয়ে পৌছায়। পরবর্তীতে ২০০৪সালে ১০৮ জন ব্যক্তি নিজেদেরকে এখানে হত্যা করে। ২০১০ সালে প্রায় ২৪৭ জন ব্যক্তি আত্মহত্যার উদ্যগ নিলেও মাত্র ৫৪ জন সফল হয়েছিলো। বর্তমানে দেশটির স্থানীয় সরকার এই হিসাব প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে।   আত্মহত্যা নিরুতশাহিত করবার জন্য এই অরণ্যর প্রবেশমুখেই লেখা আছে – ““Your life is a precious gift from your parents,” and “Please consult the police before you decide to die!” আত্মহত্যা করবার জন্য এইটি পৃথিবীর দ্বিতীয় জনপ্রিয় স্থান।   বিশ্বের ভয়ানক ও রহস্যময় স্থান পর্ব- ১   পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান রয়েছে যার রহস্যের শেষ নেই। কিছু কিছু স্থানে যেতে মানুষ ভয় পায়, আবার কিছু কিছু স্থান আনন্দের মাঝেও বেদনার অনুভব জাগায়। কিছু জায়গা আছে যেখানে আপনি দীর্ঘশ্বাস না নিয়ে পারবেন না।   এমন কিছু ভয়ানক স্থান রয়েছে যেখানে ঘুরে আসার পর আপনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। আসুন জেনে নেয়া যাক সে সকল স্থানের কথা-   ১. রোমানিয়ার হইয়া বাসিও বোন:  স্থানীয়দের কাছে এই স্থান রোমানিয়ার ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল’ হিসাবে পরিচিত। এখানে মানুষ গেলে আর ফিরে আসে না বলে অনেক গল্পের প্রচলন রয়েছে। তাই এ স্থানে সহজে কেউ ভ্রমণে যায় না।   এ ভৌতিক অরণ্যটি রোমানিয়ার পশ্চিমে “Cluz Napoca” তে অবস্থিত। এই অরণ্যকে বলা হয় “বারমুডা ট্রায়াঙ্গল অফ রোমানিয়া”। কথিত আছে অদ্ভুত ধরনের গাছের এই বনে মানুষ প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না। অনেকে এই অরণ্যকে “গেইট ওয়ে টু অ্যানাদার ডাইমেনসন” বলে থাকে।   ২. প্যারিসের সমাধি:  এই কবরস্থান শহরের রাস্তায় অন্তরালে অবস্থিত। এখানে প্রায় ৬ মিলিয়ন মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।   ৩. পেনসিলভানিয়া বিড়বিড় মিউজিয়াম:  এই ইন্সটিটিউটে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্লোন তৈরি করা হয়। এখানে আপনি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দেখতে পাবেন।   ৪. ফ্রান্সের ওরাডর-সুর-গ্লান:  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের নাৎসি শহর সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল। সে স্থান আজও একটি ছোট পরিত্যক্ত ফরাসি গ্রাম। গ্রামের অবশিষ্টাংশ আজও সেভাবেই দাড়িয়ে আছে।   ৫. নরকের দরজা:  পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর একটি নরকের মত স্থান রয়েছে। একটি গ্যাস ক্ষেত্র থেকে এর উৎপত্তি। ৪০ বছর ধরে এই সোভিয়েত আগুন জ্বলছে। এটিও অনেক ভয়ংকর একটি স্থান।   ৬. উত্তর সাগরের মাউনসেল:  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সম্ভাব্য নাৎসি আক্রমণ থেকে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করার জন্য এই ডিজাইন তৈরি করা হয়। আজও তারা সেভাবেই দাড়িয়ে আছে।   ৭. আয়ারল্যান্ডের লিপ কাসল:  এটি বিশ্বের সবচেয়ে সবচেয়ে ভয়ানক স্থান। এখানে যে প্রবেশ করেছে সে কখনও ফিরে আসতে পারে নি। এখানে অনেক বিরল ঘটনার ইতিহাস রয়েছে।   আয়ারল্যান্ড এর সবচেয়ে ভৌতিক প্রাসাদ বলা হয় এই “লিপ ক্যাসল” কে। ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দে “Tiege O’ Carroll” এই প্রাসাদে একজন যাজক কে তার পরিবারের সামনে হত্যা করে। একই সময়ে তিনি তার বড় ভাইকেও হত্যা করেন নিষ্ঠুর ভাবে যা “দ্যা ব্লাডি চ্যাপেল কিলিং” নামে পরিচিত। ১৯২২ সালে এই প্রাসাদের গোপন কুঠুরি থেকে অসংখ্য মানুষের কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়। বলা হয় এদের অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো।   ৮. তাইওয়ানের সান ঝি রিসোর্ট:  এখানে যখন কন্সট্রাকশনের কাজ চলছিল তখন অনেক মানুষ মারা যায়। যার ফলে এই স্থান এখন জনমানব শুন্য।   ৯. চীনের ওয়ান্ডারল্যান্ড:  চীন এর সবচেয়ে বড় সংস্করণ হল এই ওয়ান্ডারল্যান্ড। যাইহোক নির্মাণ করার সময় অনেক ধরণের সমস্যা হবার কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়। থিম পার্কের দেহাবশেষ আজও দাঁড়িয়ে আছে।   ১০. টেক্সাসে যাকোবের ওয়েল:  ১০০ ফুট গভীরের এই ডাইভিং সাইট স্থানীয়দের কাছে অনেক প্রিয় একটি স্থান। কিন্তু এই পুকুরের মাঝে অনেকে প্রাণ হারিয়েছে। তাই এই স্থানও মানুষের জন্য রহস্যময় হয়ে উঠছে।   বিশ্বের ভয়ানক ও রহস্যময় স্থান পর্ব- ২   কত না রহস্যে আবডালে ঘেরা আমাদের এই ধরনি। বর্তমান সময়ের বিজ্ঞানের অভুতপূর্ব উন্নতি সত্ত্বেও এই সব রহস্যের আসল সত্য এখন পর্যন্ত সম্পূর্ন ভাবে খোলাশা করা সম্ভব হয় নাই। প্রাচীন কালের অনেক রহস্য ছিল যার অস্তিত্ব আমাদের অবাক করেছে। অনেক কিছু আজও টিকে আছে আর যার রহস্য আমাদের পক্ষে এখন পর্যন্ত জানা হয় নাই।   ০১) ইষ্টার দ্বীপঃ  ইষ্টার দ্বীপ (Easter Island) যার আরেক নাম “রাপা নুই” (Rapa Nui), এর অবস্থান তাহিতির সমুদ্র তীর হতে ২০০০ মাইল দূরে। এই দ্বীপে আদিবাসীদের নাম “পলিনেশিয়ান” (Polynesian)। যারা এই দ্বীপে আসে ৪০০ থেকে ৬০০ খ্রীষ্টপূর্বে। এই দ্বীপের রহস্য হচ্ছে এখানে দাঁড়িয়ে থাকা মূর্তি। এই মূর্তি গুলির নাম “মুয়াই” (Moai)। সব থেকে বড় মুয়াইয়ের উচ্চতা ৩৩ ফুট এবং এর ওজন ৮২ টন। এই মূর্তির গুলির আকৃতি কিছুটা অন্য রকম। এদের মাথা গুলি অনেক বড়। ধারনা করা হয় এখানকার লোকেরা অনেক আগেই অন্যগ্রহের লোকদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাদের উপসনার জন্য এই গুলি তৈরি করা হয়। সব থেকে অবাক করার বিষয় ৮৮৭ টি মোয়াইয়র কোনটারই চেহারা আরেক্টির সাথে মিলে না। অগ্নিয়গীরি থেকে নির্গত ছাই (Tuff) থেকে ৫৭ টি মুয়াই তৈরি করা হয়েছে, Basalt দিয়ে ১৩টি মোয়াই তৈরি করা হয়েছে, লাল রঙের Scoria ১৭ টি তৈরি করা হয়েছে, Trachyte দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ২২টি মোয়াই। ৮৮৭ টি মোয়াইয়ের মধ্যে ৩৯৪টি মুয়াই সম্পূর্ন ভাবে তৈরি করা হয় নাই। এছাড়াও অনেকের মতে বছরের কোন এক নির্দিষ্ট সময়ে এই মূর্তি গুলি থেকে শব্দের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জলপনা আর কল্পনার কোন শেষ নেই। এই মুয়াই নিয়ে না হয় আরেক দিন বিস্তারিত আলোচনা করব।   ০২) El Dorado এর উতসর্গঃ  El Dorado হচ্ছে “মুইছা” (Muisca) সম্প্রদায়ের নেতার পদবি। এদের বসবাস ছিল ১০০০ থেকে ১৫৩৮ খ্রীষ্টপূর্বে সময়কালে বর্তমান কলম্বিয়ায়। কোন সম্প্রদায়ের নেতা মানে অনেক ক্ষমতা কিন্তু এই মুইছা সম্প্রদায়ের নেতার এই ক্ষমতা কেমন ছিল জানি না তবে নেতাদের নিজেদের উতসর্গ করা লাগত দেবতাদের নামে। উতসর্গের পূর্বে তারা প্রথমে সম্পূর্ন শরীর সোনা দিয়ে পরিপূর্ন করবে (যতটা সম্ভব সোনার অলংকার পরবে), পরে সোনার গুড়া বা বালি দিয়ে সম্পূর্ন শরীর সোনালি রঙ করবে এর পর হৃদের পানিতে ঝাপিয়ে পরে নিজের জীবন উতসর্গ করবে। আর সোনার ওজনের কারনে তার দেহ কোন দিব ভেসে উঠত না।   ৩) ইনকাদের হারিয়ে যাওয়া শহরঃ  ২০১২ সালের সব থেকে বড় আলোচনার বিষয় বস্তু কি ছিল মনে আছে? আচ্ছা আমি একটু মনে করিয়ে দেই। ওই যে মায়া সভ্যতায় ২০১২ এর পরে আর কোন দিন লেখা ছিল না। তাদের ধারনা ছিল ২০১২ এর পরে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এ নিয়ে কত কথা, কত আলোচনা, কত কিছুই না হল। সে সময় যে কত যুক্তি না দেওয়া হয়েছিল তা “২০১২ এবং ইসলাম তথা ১৪৩৩ আরো কিছু অজানা তথ্য” লেখাটি পড়লে বুঝে যাবেন। অবশ্য এই বিষয় গুলিকে খোলাসা করে “সুমেরীয়দের কাল্পনিক গ্রহ নিবিরু, কিয়ামত আর অন্যান্য বিতর্ক” এই লেখার মধ্যে বিস্তারিত বলেছিলাম।   ০৪) মায়ান্দের মন্দিরঃ  যে মায়া সভ্যতা বা মায়ানদের ক্যালেন্ডার নিয়ে এর কথা তাদের এই মন্দির নিয়ে রহস্য থাকবে না তা কি হয় বলুন? মায়ান্দের মন্দিরের মধ্যে সারি সারি মাথার খুলি দিয়ে সাজানো দেওয়া আছে। যা নিয়ে অনেক গবেষনাই হয়েছে কিছু যারা গবেষন করেছেন তার তেমন কোন তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে নাই। কেন করে নাই আর গবেষনায় তারা কি পেয়েছে তা আজো রহস্যে ঘেরা।   ০৫) পেরুর রহস্যময় ন্যাযকা সভ্যতার রহস্যময় ভূ-চিত্রঃ  ন্যাযকা লাইন হলো পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের প্যাম্পা কলোরাডো বা লাল সমতলভূমি নামে পরিচিত এলাকার মাটিতে আঁকা কিছু জীব-জন্তু এবং জ্যামিতিক রেখার সমাহার যাদের ইংরেজীতে geoglyph বলা হয়ে থাকে। ১৯২০ এর দশকের শেষভাগে পেরুর রাজধানী লিমা এবং এর দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরেকিপার মধ্যে বানিজ্যিক ভাবে বিমান চলাচল শুরু হলে ন্যাসকা লাইনগুলি প্রথম ব্যাপকহারে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়। সেই সাথে আর্কিওলজিস্ট, এন্হ্রোপোলজিস্ট সহ প্রাচীণ সভ্যতা সম্পর্কে আগ্রহী সকল মানুষকে এক বিশাল ধাঁধার মধ্যে ফেলে দেয়। ছবিগুলো আন্দিজ পর্বত এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ৩৭ মাইল দূরে সমান্তারালভাবে প্রায় ১৫ মাইল দীর্ঘ ব্যাপী বিস্তৃত। এই লাইনগুলোকে কখনও ইনকাদের রাস্তা, কখনও চাষাবাদের পরিকল্পনা, আবার কখনও পুরনোদিনের ‘হট এয়ার’ বেলুন থেকে উপভোগ করার জন্য আঁকা ছবি হিসাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন এগুলি হচ্ছে ন্যাযকাদের মহাকাশীয় ক্যালেন্ডার। এদের মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যাটি হচ্ছে এরিক ভন দানিকেনের ভিনগ্রহবাসীদের বিমান অবতারনার জন্য বানানো এয়ারস্ট্রীপের ব্যাখ্যাটি।   ০৬) ইজিপ্টের পিরামিডঃ  ইজিপ্টের গিজার পিরামিড। “খাফরি” (Khafre) আর “খুফু” (Khufu) প্রাচীন পিরামিড গুলির মধ্যে দুটি। খুফু সব থেকে বড় আর এটি বানাতে ব্যাবহৃত হয়েছে ২ মিলিয়ন পাথরের টুকরা আর প্রতিটি টুকরার ওজন ৯ টন। পিরামিড গুলি প্রাচীন রাজাদের কবর আর এগুলা তৈরি করা হয় ২৫৫০ খ্রীষ্টপূর্বে।   ০৭) স্পিংক্সঃ  ইজিপ্টের আরেক রহস্য স্পিংক্স। এই ভাষ্কর্যের দেহ সিংহের আর মাথা ফেরাউনের (ফেরাউন মিশরের রাজাদের উপাধি)। অনেকে বিশ্বাস করেন এই মাথা রাজা খাফরির (Khafre)। চুনাপাথরের তৈরি এই বিশাল মূর্তি, সময়ের সাথে ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পরছে।   ০৮) লকনেস দ্বীপের রহস্যঃ  স্কটের লোকমুখের সব থেকে প্রচলিত গল্প। অনেকের মতে লকনেস লেকে দেখতে পাওয়া যায় এই বিশার দেহের প্রানীকে। লোকমুখে শোনা যা এই রহস্যে ঘেরা প্রানী ছোট বাচ্চাদের পিঠে চড়াবার লোভ দেখিয়ে পানির নিচে নিয়ে হারিয়ে যায়। ১৯৩৩ সালে প্রথম দাবি ওঠে এই রহস্যের প্রানী দেখার। এর পরে কেউ একজন ছবি তুলে ফেলে। যদিও অনেকের দাবি এটি ভূয়া ছবি। এরপর এই ছবি হয়ে ওঠে এই লকনেসের রহস্যে ঘেরা প্রানীর একমাত্র প্রমান এবং ততকালীল সময়ের সংবাদ পত্রের প্রধান সংবাদ।   ৯) পুতুলের দ্বীপ (Island of the dolls)- মেক্সিকো  মেক্সিকো শহরের দক্ষিণে একটি ছোট দ্বীপ রয়েছে যাকে পুতুলের দ্বীপ বলা হয়। দ্বীপটির পেছনে রয়েছে একটি বেদনাদায়ক কাহিনী যার কারনে এটি কখনো পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। দ্বীপটি উৎসর্গ করা হয়েছে একটি অভাগী মেয়েকে যে কিনা খুব অল্প বয়সে অদ্ভুতভাবে দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছিলো।   মেক্সিকো শহরের দক্ষিণে হাজার লোকের বাস থাকলেও অই ছোট্ট দ্বীপটিতে রয়েছে শত শত ভয়ঙ্কর পুতুলের বাস। পুতুলগুলোর কোনটির মাথা নেই, হাত-পা নেই, দেহ নেই, শুধু চোখ রয়েছে এমন সব অদ্ভুত পুতুল দ্বীপ জুড়ে গাছে ঝোলানো দেখতে পাওয়া যায়। পুতুলগুলো দিনের আলোতে দেখতেই ভয়ঙ্কর, আর রাতের আঁধারে তো কথাই নেই।   কথিত আছে যে অনেক বছর আগে ভাগ্যাহত মেয়েটিকে রহস্যময় ভাবে পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পুতুলগুলো তার আত্মা হতে তৈরি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মতে, পুতুলগুলো হাত-পা নাড়ে এমনকি চোখ খোলে ও বন্ধ করে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, পুতুলগুলো নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলে। অনেকে নাকি দ্বীপের পাশ দিয়ে নৌকা নিয়ে যাবার সময় দেখেছে পুতুলগুলো তাদের দ্বীপে যাবার জন্য ডাকছে। সত্যি হল দ্বীপটি আসলেই রহস্যময় ও ভূতুড়ে যে কারনে সাধারন দর্শনার্থী এখানে যায়না। ১০) স্পটেড লেক-কানাডা    এটি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অসইউস শহরে অবস্থিত একটি বিশেষ লেক যা দেখতে সারা পৃথিবী হতে পর্যটকরা ভিড় করে থাকে। লেকটি সারা বছর সাধারন লেকের মত থাকলেও শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে এর বিশেষত্ব দেখা যায়। লেকটির পানিতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, ক্যালসিয়াম এবং সোডিয়াম সালফেট থাকায় গ্রীষ্মকালে এর পানি বাস্পায়িত হতে থাকার ফলে লেকের পানির উপরিস্তরে খনিজ লবণগুলোর নানান রকম নকশা বা দাগ দেখতে পাওয়া যায়। এই নকশা দেখতেই পর্যটকরা এখানে এসে থাকে।   বিশ্বের ১৪ টি রহস্যময় স্থান পর্ব -৩   ১) আটলানটিস্ঃ   আটলানটিস্ সম্পর্কে প্লোটো বলেছেন যে এলাকাটি হাকুলিসের পিলারের সামনের একটি রাজ্য যা তৎকালিন সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ-ক্ষমতার অধিকারী ছিল। আজ থেকে প্রায় নয় হাজার বছর আগে এটি ইউরোপ এবং আফ্রিকার অনেক রাজ্যই দখল করে নিয়েছিল। অবশেষে এথেন্সে একটি ব্যর্থ আক্রমনের পর তা সমুদের ডুবে যায়। বতৃমানে এর অবস্থান নিয়ে অনেক দ্বিমত রয়েছে। কেও বলেন এটি ভূমধ্য সগরের কাছাকাছি বা মধ্যে ছিল কেও বলেন এটি ইউরোপের কাছে আটলান্টিক মহাসাগওে ছিল।   ২) বাদামি পর্বতমালাঃ  দক্ষিন করোলিনায় অবস্থিত এই অঞ্চলটি একটি জীবন্ত উপাখ্যান। প্রায় ডজনখানেক বার এ অঞ্চলটি পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। এখানে কিছ বিচিত্র আলোক রশ্মি দেখা যায় যা আমেরিকার বিজ্ঞানীদের মাথার ঘাম পায়ে এনে ফেলেছে। অনেকেই এই আলোকে ভিনগ্রহীদের আলো বললেও আসল রহস্য এখনও অজানা।   ৩) Ship Graveyard in Muynak/ Uzbekistan:  একসময়ের সমৃদ্ধ বন্দরনগর আজ এরকম পুরনো ভুতুড়ে জাহাজের আশ্রয়স্থল।   ৪) Jatinga (Assam) / India:  ভারতের আসাম রাজ্যর “দিমা বাসাও” জেলাতে অবস্থিত এই গ্রামের নাম জাতিঙ্গা। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় এ গ্রামের আকাশ হতে শত শত পাখি ইচ্ছাকৃত ভাবে মাটিতে পড়ে মৃত্যুকে বরন করে।   ৫) Akodesseua Fetish Market/ Togo:  টোগো এর রাজধানী লোমে তে অবস্থিত এই অদ্ভুত বাজারে কালো জাদু ও ভুদু এর সব উপকরন পাওয়া যায়।   ৬) Centralia (Ghost Town) Pennsylvania/ United States of America:  ১৯৬২ সালে ভূগর্ভস্থ খনিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পড়ে এই শহরের রাস্তায় ফাটল দেখা দেয় এবং ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যেতে থাকে। ১৯৮১ তে এই ভুতুড়ে শহরে মাত্র ১০০০ জন অধিবাসী ছিল যা ২০১০ এ মাত্র ১০ জনে নেমে আসে। বর্তমানে এই শহরটি পুরোটাই ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। তবুও এখনও কিছু মানুষ এখানে বসবাস করে।   ৭) Hashima Island (Ghost Island)/ Japan:  খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের ও তাদের পরিবারদের বাসস্থান হিসেবে এই দ্বীপ গড়ে তোলা হয়েছিলো। ১৯৭৪ সালে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয় এই দ্বীপ। এই দ্বীপটি জাপানের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। ২০১৫ সালে এই দ্বীপটিকে UNESCO- “World Heritage Site” বলে ঘোষণা করে।   ৮) Pripyat/ Ukraine:  তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত ইউক্রেন এর দক্ষিনে অবস্থিত এই শহরটি গড়ে তোলা হয় চেরনোবিল এর পরমানু বিজ্ঞানীদের জন্য। পরবর্তীতে ভয়াবহ চেরনোবিল দুর্ঘটনার পড়ে এই শহরটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়। এখনও এখানে তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি আছে।   ৯) Hanging Coffins of Sagada/ Philippines:  ফিলিপিনের ইগ্রাত আদিবাসী গোষ্ঠী বিশ্বাস করে যে মৃত্যুর পড়ে ভুমির উপরে তাদের শায়িত করা হলে (উচু জায়গায়) তারা স্বর্গের কাছাকাছি থাকবে। তাই তারা এখনও কেউ মারা গেলে তাদের কফিন উচু জায়গায় পাহাড়ের কিনারে ঝুলিয়ে রাখে।   ১০) Poveglia/ Italy:  ১৭৯৩-১৮১৪ পর্যন্ত ইতালির এই দ্বীপে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের আটক রাখা হত। ১৯২০ সালে এই দ্বীপে একটি মানসিক হাসপাতাল তৈরি করা হয়। বলা হয় যে চিকিৎসক এই হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্তে ছিলেন তিনি নাকি মানসিক রোগীদের উপর ভয়াবহ সব নিষ্ঠুর পরীক্ষা চালাতেন এবং হত্যা করতেন। এই চিকিৎসক ও একদিন দ্বীপের একটি উচু টাওয়ার থেকে পড়ে যান- যদিও এতো উপর থেকে পড়েও সে মারা যায়নি কিন্তু লোকশ্রুতি অনুযায়ী কিছুক্ষণ পরই অদ্ভুত কুয়াশা চারদিক ছেয়ে ফেলে এবং সেই হত্যাকারী চিকিৎসক কেও আর কেউ খুঁজে পায় নি।   ১১) মৃত উপত্যকা (আমেরিকা):  Death Valley উপত্যকার Racetrack Playa অংশটি জনমানবহীন এক বৈচিত্রময় জায়গা। সচরাচর অন্য প্রানীও দেখা যায় না এখানে। এই উপত্যকার রহস্যময় পাথরগুলি কোন এক অজানা কারনে তার স্হান পরিবর্তন করে বয়ে চলে। বছরের পর বছর ধরে এই পাথর নিজেরায় কিভাবে যেন চলছে সরল পথ ধরে। ধারনা করা হয় যে, পাথরগুলি প্রতি ২-৩ বছর পর পর অগ্রসর হয়। পাথরগুলো নিয়ে এখনও ব্যাপক গবেষনা চলছে। রহস্য আরও ঘনিভূত হওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে, বিস্তৃত এলাকা জনমানবহীন। এখানে বন্যা হয় না। এখানে এতো গতিবেগে বাতাস প্রবাহিত হয় না যে পাথরগুলির স্হান পরিবর্তনে সহায়ক হবে। কিছু গবেষকদের মতে, মাটি যখন কর্দমাক্ত থাকে এবং বরফ পড়ে পিচ্ছিল হয় তখন বাতাসের ধাক্কায় পাথরগুলি স্হান পরিবর্তন করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই যুক্তিও গ্রহনযোগ্যতা পাইনি। কারন পাথরগুলি স্হান পরিবর্তন করে গ্রীষ্মকালে যখন মাটি একেবারে শুকনো থাকে এবং বরফও পড়ে না। তাছাড়া পাথরগুলি একই রাস্তায় চলে না। প্রতিটি পাথরের চলার পথ সম্পূর্ন ভিন্ন বা আলাদা।   যদিও এর পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে তারপরও এই পাথরের স্হান পরিবর্তনের ব্যাপারটা বরাবরই রহস্যময়।   ১২) মৃত সাগরঃ  মৃত সাগরের পশ্চিমে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল , পূর্বে জর্ডান । জিবুতির আসাল হ্রদের পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লবণাক্ত পানির প্রাকৃতিক আধার। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৪২০ মিটার(১,৩৭৮ ফিট) নিচে এটি পৃথিবীর নিম্নতম স্থলভূমি এর লবণাক্ততা শতকরা ৩০ ভাগ এবং এটি সমুদ্রের পানির চাইতে ৮.৬ গুণ বেশি লবণাক্ত । মৃত সাগরের এলাকাকে পয়গম্বর হযরত লূতের (আঃ) জামানার সমকামী গোষ্ঠীর আবাসস্থল ছিল। সমকাম পরিত্যাগ করে আল্লহর আনুগত্য স্বীকারে অসম্মত হওয়ার কারণে এই স্থান উল্টে দিয়ে এ জাতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল।   এ হ্রদে কোন উদ্ভিদ বা মাছ বাঁচে না বলেই মূলত একে মৃত সাগর বলা হয়ে থাকে । কেবল সামান্য কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক অণুজীবের সন্ধান পাওয়া যায় ।   মৃত সাগর তীরবর্তী পাহাড়ী অঞ্চলে উট, খরগোশ , খেকশিয়াল এমনকি চিতাবাঘ দেখতে পাওয়া যায়। অতীতে জর্দান নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে প্যাপিরাস এবং পাম গাছে সমৃদ্ধ বনভূমির অবস্থান ছিল । জোসেফাস তার লেখনীতে জেরিকো কে জুদিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে উর্বরভূমি রুপে উল্লেখ করেন । রোমান এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সময় ইক্ষু , সিকামোর এবং হেনা এ অঞ্চলের উদ্ভিদ বৈচিত্রে সমৃদ্ধি এনে দেয় । জেরিকোতে বালসাম গাছের রস থেকে প্রস্তুত করা হত উন্নত মানের পারফিউম এবং সুগন্ধি । ১৯ শতকের মধ্যে জেরিকোর উর্বরতা অতীত ইতিহাসে পরিণত হয়।   ১৩) দ্যা টাওস হাম (মেক্সিকো):  মেক্সিকো ছোট্র শহর টাওস হামের অদূরে একটি স্থান থেকে অদ্ভুত রকমের এক শব্দ ভেসে উঠে যা অনেকটা ডিজেল ইঞ্জিনের আওয়াজের মত শুনায়। কিন্তু মানুষের কানে এটি ধরা পরলেও আজ পর্যন্ত এটি কোন শব্দ সনাক্তকরণ যন্ত্রে ধরা পড়েনি। আজ অবধি নির্নয় করা যায়নি আসলে এই আওয়াজটির মুল কারণ কি।   ১৪) প্যাটমস্কি জ্বালামুখ (সাইবেরিয়া):  ১৯৪৯ সালে ভূবিজ্ঞানী ভাদিম কলপাকভ সাইবেরিয়া অঞ্চলে এক অভিযানে বের হন। এ অভিযানে তিনি সাইবেরিয়া অরণ্যে রহস্যময় প্যাটমস্কি জ্বালামুখের সন্ধান পান। কলপাকভ যখন এই জ্বালামুখ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক এ সময় সেখানকার ইয়াকুট অধিবাসীরা তাকে যেতে বারন করলেন। তাদের ভাষ্যমতে, এ জায়গাটি অনেক ভূতুড়ে এখানে মানুষতো দুরের কথা কোন পশু-পক্ষীর আনাগোনাও সেখানে নেই। তারা এর নাম দিয়েছে “Fire Eagle Nest”। এর আশেপাশে গেলেই মানুষ অসুস্থ বোধ করাসহ নিমিষেই অদৃশ্য হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   একজন বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ হিসেবে কলপাকভ তা কর্ণপাত করলেন না, বরং আরো কৌতূহলী হয়ে গেলেন।   তিনি দেখলেন যে এটি ২৫ তলা ভবনের উচ্চতার সমান এক বিশাল জ্বালামুখ সমেত বস্তু যা বনে গাছের মধ্যেই গর্জে উঠেছে। কল্পাকভের ধারনা মতে এর বয়স ২৫০ বছর।   পরবর্তীতে এ নিয়ে অনেক গভেষনা হয়েছে, অনেকেই একে অগ্নেয়গিরি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আবার অনেকের ভাষ্যমতে উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এটি গঠিত হয়েছে।   ২০০৫ সালে প্যাটমস্কি সম্পর্কে নতুন তথ্য উদ্ঘাটনের আশায় এক গভেষকদল অভিযানে নামে। কিন্তু ঘটনা সেখানেই থেমে যায়। অভিযাত্রিক দলের প্রধান নেতা প্যাটমস্কি জ্বালামুখের কাছে না যেতেই হার্ট এটাকে তিনি থেমে যান।   বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা যার সংজ্ঞা আজও মেলেনি !   বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা : পুরো বিশ্বটাই যেন রহস্যের আধার। এর মধ্যে কিছু বস্তুর রহস্য উদঘাটন করা গেলেও বিশ্বে এখনও অনেক বস্তু রয়েছে যার রহস্য উদ্ধার করা যায়নি। বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় উন্নতি ও উৎকর্ষের যুগেও বিশ্বের কোন কোন স্থানে এখনো এমন রহস্যপূর্ণ যে, এ রহস্যের কোন কিনারা আজও মেলেনি। এসব স্থান কেনো এতোই অদ্ভূত যে বিজ্ঞানের পক্ষে তা আজও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি । এছাড়াও বিশ্বে আরো বহু অমীমাংসিত রহস্য রয়েছে যার সমাধান সম্ভব হয়নি হাজার বছরেও ।   ১। ১৯৬৯ সালে মানুষের চাঁদে পদার্পন বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা :  এটি বহু পুরানো একটি আলোচনা। সালটি ছিল ১৯৬৯ এটি ছিল পৃথিবীর জন্য একটি সপ্নের বছর। সপ্নকে সত্য করার বছর। এই দিন পৃথিবীর মানুষেরা প্রথম চাঁদে তার পদধূলী রাখে। চাঁদ কে জয় করে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে মানুষ। তখন অনেকে এর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন ১৯৬৯ সালে মানুষ চাঁদকে জয় করতে সক্ষম হয়নি। তারা কারন হিসাবে বলে তখনকার যেসকল প্রযুক্তি ছিল তা দিয়ে চাঁদে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব। তারা মনে করেন মার্কিনীরা তখন সম্পূর্ণ ঘটনাটি শুটিং করে মানুষদের সামনে তুলে ধরেন এবং তাদের এও ধারনা যে স্ট্যানলি কুবরিক ছিলেন এর পরিচালক।   ২। প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা :  আরেকটি সব থেকে বিতর্কিত ঘটনা হল প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়না এবং তার প্রেমিক ফায়াদ এক ভয়াভহ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের নির্দেশে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্হা MI6 এই দূর্ঘটনার আড়ালে এই ভয়াভহ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছিলো। অনেকে মনে করেন প্রিন্সেস ডায়নার তুমুল জনপ্রিয়তা, সত্যবাদিতা এবং রাজপরিবারের সমালোচনা ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে বিব্রত এবং অস্বস্তিকর অবস্হায় ফেলে দিয়েছিলো। আবার ফায়াদের সাথে প্রিন্সেস ডায়নার সম্পর্ক ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং ইংল্যান্ডের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার এক বিশাল ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিলো, তাই হয়তো এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছিল।   ৩। ২০০৫ সালের ৭ই জুলাই, লন্ডনের সিরিজ বোমা বিস্ফোরন:  ২০০৫ সালের ৭ই জুলাই শুধু মাত্র ইংল্যান্ডের জন্য নয় তথা সম্পূর্ণ বিশ্ববাসীর জন্য এটি ছিল খুবই বেদনায়ক ও ভয়াবহ একটি দিন। ভূগর্ভস্হ ট্রেনস্টেশনে পরপর কয়েকটি বিশাল ভয়াবহ সিরিজ বোমা বিস্ফোরনে সেদিন প্রাণ হারাতে হয়েছিলো অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে। বিভিন্ন জঙ্গি সংঘটনকে দায়ী করা হয় এই হামলার জন্য। হামলাকারীদের বিভিন্ন ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। আসলে কে করেছিল এই হামলাটি? এটি কি তাহলে ছিলো ক্ষমতাশালী দেশগুলোর সাজানো কোন নাটক? হামলাকারীর ছবিটি দেখুন। এর নাম Mohammed Sidique Khan সে এই ঘটনার সুইসাইড হামলার একজন আসামী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ছবিটি কোনভাবেই আসল হতে পারে না। জায়গাসহ সব ঠিক আছে। কিন্তু খুব সূক্ষভাবে লক্ষ্য করলে এবং পরীক্ষা করলে খেয়াল করা যাবে ছবির লোকটিকে আলাদা করে ছবিতে বসানো হয়েছে। পুরো ছবিটিই নকল। আবার অনেকে বলেন বোমগুলো হামলাকারীদের ব্যাকপ্যাক থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। এগুলো আগে থেকেই সেখানে রাখা ছিলো। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকানদের সাথে যুদ্ধে নিজেদের অংশগ্রহনকে দেশবাসীর বৈধতা দেবার জন্য এই হামলা ঘটানো হয়েছিলো বলে অনেকের ধারণা।   ৪। ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি:  ২০০৪ সাল এটি ছিল এশিয়ার মানুষদের জন্য খুব বেদনাদায়ক একটি দিন। এশিয়ার সমুদ্ররের পাশ্ববর্তী দেশগুলোর মানুষেরা এদিন প্রকৃতির এক ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর খেলার বাস্তব রূপ দেখতে পায়। বিশাল আকারের এই প্রকৃতিক দুর্যোগ সুনামী আছড়ে পড়ে সমুদ্র পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি দেশে। লাখ লাখ মানুষ মারা যায় এই নিষ্ঠুর সুনামীতে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলংকায় এই দুর্যোগে হতাহতের সংখ্যা ছিলো সবচেয়ে বেশী। বিশ্ববাসী কখনোই প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ রূপ ভুলতে পারবে না। কিন্তু মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সংবাদপত্রের দাবী এর পিছনে বিশ্বের শক্তিশালী বেশ কয়েকটি দেশের হাত রয়েছে। গোপনীয় পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাতে গিয়ে দূর্ঘটনাক্রমে বিস্ফোরণে এই সুনামীর সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করেন অনেকে।   ৫। HIV ভাইরাস ল্যাবটেরীতে গবেষণা করে বানানো হয়েছিলো:  AIDS হছে একটি মরণব্যাধি রোগ। যার চিকিৎসার উপায় এবং ঔষুধ এখন পর্যন্ত গবেষকরা আবিষ্কার করতে পারেনি। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মরণব্যাধী রোগ হোল এটি। প্রতিবছর বিশেষ করে আফ্রিকার প্রায় প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে। Dr William Campbell Douglass প্রথমে একটি থিওরি দেন, পরে অনেক চিকিৎসক তাকে সমর্থন জানান। উনার মতে HIV ভাইরাসটি ১৯৭৪ সালে WHO এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ল্যাবটেরীতে গবেষণা করে বানানো হয়েছিলো। বিশ্ব জনসংখ্যা কমানোর জন্য এটি বানানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে এই ভাইরাসটি সম্পূর্ণ আফ্রিকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আরেকদল বলে CIA অথবা KGB এই দুটির সংস্থার যেকোন একটি নিজেদের স্বার্থের জন্য এই ভাইরাসটি বানিয়েছিলো। কিন্তু কোন একটি দূর্ঘটনার কারনে সম্পূর্ণ পৃথিবীতে এটি ছড়িয়ে পড়ে।   ৬। Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না WHO:  দাতের ক্ষয়রোধ করার জন্য পানযোগ্য পানিতে Fluoride মেশানো হয় এটা আমরা সবাই কম বেশি জানি। আবার বৈজ্ঞানিকভাবেই এটি প্রমাণিত যে এই Fluoride এর অনেক খারাপ দিকও আছে। এর বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিকিয়া মানুষের শরীরকে বিভিন্নভাবে আক্রান্ত করে। একদল গবেষক এর ধারণা এসব জানা সত্ত্বেও WHO এই Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না। কারণ এর পিছনে রয়েছে বিশাল এক ব্যবসা। এর পিছনে রয়েছে বিশাল বিশাল সব ঔষুধ কোম্পানী। কারন মানুষ অসুস্হ থাকলেই তো এদের লাভ। আর মানুষ যদি অসুস্হ না থাকে তাহলে এত ঔষুধ কোম্পানী চলবে কি করে ??   ৭। আসলেই কি Elvis Presley তার মৃত্যু নিয়ে নাটক করেছিল:  এক কালের বিখ্যাত ও তুমুল জনপ্রিয় গায়ক Elvis Presley এর নাম শুনেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। বিশ্বজুড়ে তার রয়েছে অগণিত ভক্ত। এখনও মানুষ তার গান শুনে যায় এবং পছন্দ করে। বিখ্যাত এই গায়ক তরুণ বয়সেই জনপ্রিয়তার এক বিশাল রাজ্যে প্রবেশ করে। ১৯৭৭ সালে হঠাৎ করেই এই মহান গায়ক মারা যান। একদলের দাবী সেই সময় নাকি আসলেই Elvis মারা যাননি। তিনি নিজের মৃত্যু ঘটিয়ে সবার থেকে আড়ালে চলে যান। অনেকে নাকি এরপরও তাকে দেখেছেন! তার আসল মৃত্যু নাকি হয় ১৯৯০ সালে। আসলেই কি Elvis Presley তার মৃত্যু নিয়ে নাটক করেছিল?   ৮। ২০১২ রহস্য:  সবথেকে বড় ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই গুজব নিয়ে। তখন অনেকে অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে এই ব্যাপারটিকে। কিন্তু এর পক্ষের লোকর অভাব ও কিন্তু কম ছিল না। প্রচুর মানুষ বিশ্বাস করেছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে এই পৃথিবীর বুকে। মায়ানদের ক্যালেন্ডারের সমাপ্তি এবং নষ্ট্রাডমাস এর কিছু ভবিষ্যৎবাণীর কারণে আগুন এর এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র বিশ্বে। আমি নিজেও বিশ্বাস করেছিলাম হয়তো ধ্বংস হবে না কিন্তু বিশাল এক পরিবর্তন আসবে পৃথিবীর উপর এই সময়ে। কিন্তু সব কল্পনা, ভবিষ্যৎবাণীকে মিথ্যা প্রমান করে পৃথিবী আজও চিরজীবী হয়ে রয়েছে।   ৯। সেন্ট ক্রুজের রহস্য স্থান(মিস্ট্রি স্পট)  সেন্টার ক্রুজের মিস্ট্রি স্পট বা রহস্য স্থান হল ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ফরেস্টের ভিতর ১৫০ ফুট প্রসস্ত এমন একটি জায়গা যেখানে পদার্থবিদ্যা এবং অভিকর্ষের কোন সুত্র খাটে না। ১৯৩৯ সালে আবিষ্কৃত এই স্থানটি এখনও এক বিশ্ময়।   পৃথিবীর সবচেয়ে গোপনীয় এবং রহস্যময় স্থান   পৃথিবীর সবচেয়ে গোপনীয় এবং রহস্যময় স্থান , চাইলেও যে জায়গাগুলতে যেতে পারবেন না কখনই   পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা আছে যেগুলোতে চাইলেও কখনই যাওয়া যায়না,জানা যায়না কি হচ্ছে সেখানে,আর কেনইবা এতসব গোপনীয়তা??সাধারণ মানুষ পরতের পর পরত রহস্যের গল্প বুনে গেছে এগুলো নিয়ে,কিন্তু কূলকিনারা করা হয়নি কোন রহস্যের। ১। এরিয়া ৫১  যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদাই অবস্থিত এই জায়গাটি নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষ এখনো একটা ঘোরের মধ্যে আছে।এটি একটি মিলিটারি বেইজ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সিকিউর এলাকাগুলোর একটা।এর এরিয়ার বাইরেও একটা বিশাল এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।কি করা হয় ওখানে???পৃথিবীর একটা বিশাল অংশ মানুষের ধারনা ওখানে এলিয়েন নিয়ে গবেষণা করা হয়।অনেক মানুষ এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগ করা গেছে বলেও বিশ্বাস করে।   ২। আইস গ্র্যান্ড শ্রাইন, জাপান  জাপানের সবচেয়ে গোপনীয়,পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান।খ্রিস্টপূর্ব ৪ সালে এটি নির্মাণ করা হয় বলে ধারনা করা হয়।জাপানের রাজকীয় পরিবার আর প্রিস্ট ছাড়া এতটা কাল এখানে আজ পর্যন্ত কেউ প্রবেশ করতে পারেনি।এই শ্রিন টি প্রতি ২০ বছর পরে ভেঙ্গে আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়।কেন এত গোপনীয়তা???ইতিহাসবিদদের মতে এককালের জাপানিজ সাম্রাজ্যের অনেক পুরনো মূল্যবান নথিপত্র ওখানে লুকায়িত আছে,যেগুলো বিশ্বের সামনে আগে কখনই আসেনি।   দেশের উচ্চপদস্থ যাজক-যাজিকা এবং রাজবংশের লোক ছাড়া আর অন্য যে কোন কারও প্রবেশাধিকার সম্পুর্নভাবে নিষিদ্ধ এই শ্রাইনে(মঠ)। এটাকে বিবেচনা করা হয় জাপানের সবচেয়ে পুন্য এবং পবিত্র জায়গা হিসেবে। বলা হয় আইস গ্র্যান্ড শ্রাইন প্রত্যেক দুই দশকে একবার ভাঙ্গা এবং পুনঃনির্মান করা হয় শিন্টো দর্শন “মৃত্যু এবং পুনঃজন্ম”র প্রতি সম্মানবশত। এই শ্রাইন সুর্যদেবী “আমাতেরাসু”র প্রতি উৎসর্গকৃত এবং ৪র্থ খ্রিস্টপুর্বাব্দ থেকে এখন পর্যন্ত এটা অবস্থান করছে। ধারনা করা হয় প্রধান মঠে জাপানের রাজবংশের ইতিহাসের একক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন জিনিসটা রাখা আছেঃ নাইকু(Naiku)। এটা জাপানি মিথলজির একটা আয়না, যেটা জাপানের প্রথম সম্রাটের আশির্বাদপ্রাপ্ত।   ৩। Vatican Secret Archives  যুগযুগ ধরেই ভ্যাটিকান সিটি মানুষের রহস্যের খোরাক,সেই যীশুর আমলের আগ থেকেই পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষী এই ভ্যাটিকান।এই জায়গাটিকে storehouse of secret o বলা হয়।খুব সংখ্যক স্কলার ই এই জায়গায় ঢুকতে পারেন তাও পোপের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে।এখানে প্রায় ৮৪০০০ বই আছে আর এই জায়গাটি প্রায় ৮৪ কিমি দীর্ঘ।ধারনা করা হয় খ্রিষ্টান,মেসনারি,প্যাগান আরও অনেক ধর্ম আর মতবাদের অনেক গোপন ডকুমেন্ট এখানে সংরক্ষিত আছে।  ৪। club 33 disneyland  সারাবিশ্বের মানুষের জন্য ডিজনিল্যান্ড একটি বিনোদনের জায়গা।পুরো জায়গাটিই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত শুধুমাত্র ক্লাব ৩৩ ছাড়া।খুব খুব রেস্ট্রিক্তেড করে রাখা হয়েছে ওই জায়গাটি।স্বয়ং ওয়াল্ট ডিজনি এই ক্লাবটির প্রতিসঠাতা।খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হল আপনি যদি আজকে আবেদন করেন এই ক্লাবটির সদস্য হতেই আপনার প্রায় ১৪ বছর সময় লাগবে।   ৫। Moscow Metro-2  এটি রাশিয়ায় অবস্থিত।পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্ডারগ্রউন্ড সিটি এইটি।কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সরকারের তরফ থেকে কখনই এর অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয়নি।স্তালিনের আমলে এইটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি জোসেফ স্টালিন এর সময় তৈরি করা হয়েছিল আর এটাকে KGB দ্বারা D-6 নামে ডাকতো।এটি রাশিয়ান সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত এবং বলা হয়ে থাকে এটি ক্রেমলিন এবং রাশিয়ার Federal Security Service এর হেডকোয়ার্টার এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। পুরো একটি শহর এটি অথচ মানুষ এই জায়গায় যাওয়া তো দূরে থাক,এখনো এই সম্পর্কে ভাল করে কিছু জানেইনা। এটা ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা   ৬। এটি ইংল্যান্ড এর নর্থ ইয়র্কশায়ার শহরের একটি বিমান ঘাঁটি।  এই ঘাঁটি থেকে U.S এবং U.K মিলিটারি কে ইন্টেলিজেন্স সহায়তা দেওয়া হয়। এটি ইংল্যান্ড এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনা। আমেরিকা এবং ব্রিটিশ সরকার দ্বারা পরিচালিত গ্লোবাল ECHELON স্পাই নেটওয়ার্ক এর জন্যই রয়াল এয়ার ফোর্সের মেনউইথ হিল তৈরি। এখানে আছে এক্সটেনসিভ স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং গ্রাউন্ড সিস্টেম। এই কমিউনিকেশন্স ইন্টারসেপ্ট এবং মিসাইল ওয়ার্নিং সাইটকে বলা হয় পৃথিবির সর্ববৃহৎ ইলেকট্রনিক মনিটরিং ষ্টেশন। এটা আমেরিকার ন্যাশন্যাল রেকোনাইস্যান্স অফিস(এন আর ও) এর স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড ষ্টেশন হিসেবে কাজ করে, যা সার্ভ করে আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সিকে(ড্যান ব্রাউন এই দুইটা সংগঠনকেই তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন। ডিশিপশন পয়েন্ট এবং ডিজিটাল ফরট্রেস)।   ধারনা করা হয় স্নায়ু যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তাদের পুর্ব ব্লক জোটের মিলিটারি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ মনিটর করার জন্য ECHELON সিস্টেম তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ খুঁজে বের করার জন্য, মাদকদ্রব্য পাচার সংক্রান্ত তথ্যের জন্য এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইনটেলিজেন্স এর জন্য এটা ব্যবহার করা হচ্ছে। আরও বিশ্বাস করা হয় এই স্থাপনা পশ্চিমা বিশ্বে সর্বপ্রকার টেলিফোন কল এবং রেডিও কমিউনিকেশন্স ফিল্টারিং কাজের সাথে জড়িত, যদিও এটা প্রমানিত নয়(আরে বাবা, যা রটে তার কিছু তো বটে!!)। ও আরেকটা কথা, আমজনতারা কিন্তু চাইলেই এখানে ঢুকতে পারবে না, কারন এটাকে খুব কড়া পাহারায় রাখা হয়। ৭। এই Snake Island টি ব্রাজিল এর সাও পাউল শহর থেকে ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে এই দ্বীপে ৪০০০ এর বেশি ভয়াবহ বিষধর সাপ আছে। এই সাপ এর বিষ অন্য যেকোনো সাপ থেকে ৩-৪ গুণ শক্তিশালী। এই দ্বীপে বিশেষ অনুমতিতে বিজ্ঞানী ছাড়া আর কারো প্রবেশের আনুমতি নেই।    ৮। এই দ্বীপ টি ১৯৬৭ সালে লাভা নির্গমনের ফলে সৃষ্টি হয়। যেকোন সময় লাভা নির্গমনের ঝুঁকি থাকায় এখানে বিশেষ অনুমতিতে কিছু বিজ্ঞানী ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেনা।  ০৯। Mount Weather Emergency Operations Center    ১৯৫০ সালে আমএরিকার ভার্জিনিয়াই এটি তৈরি হয়।মুলত তখনকার সমসাময়িক শীতলযুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই এটি তৈরি করা হয়। এটি fema (federal emergency management agency) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।কেন এটিকে এতটা গোপন রাখা হয়েছে??আসলে এটি মুলত যেকোন জাতীয় বিপর্যয়ের সময় আমেরিকার (অতি) উচ্চপর্যায়ের নাগরিক আর মিলিটারি অফিশিয়ালদের জন্য এটি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।কে জানে আমেরিকানরা হয়তো সত্যি সত্যি কোন doomsday এর জন্য অপেক্ষা করছে!!!   যদি টপ সিক্রেট আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটির কথা বলা হয়, তবে খুব কমই মাউন্ট ওয়েদার ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ঘিরে থাকা রহস্যের সাথে তুলনায় যেতে পারবে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মিলিটারি বেসে জীবনধারণের জন্য এবং দীর্ঘসময় ধরে টিকে থাকার জন্য যে সব সরঞ্জামাদি দরকার তার সবই মজুদ আছে বলে ধারনা করা হয়। যারা এই ফ্যাসিলিটির ভিতরে কাজ করে, হাই র‍্যাংকিং অফিসিয়াল যারা কোন জাতীয় দুর্যোগের সময় সেখানে যাবার উপযুক্ত এবং যারা ফ্যাসিলিটিটা তৈরি করেছে একমাত্র তারাই জানে যে, এর অভ্যন্তরটা আসলে কিরকম(সেখানকার কমোড কি হাই, নাকি লো! কফি কি সবসময় ব্লাকই খেতে হয় নাকি হোয়াইটনারও মেশানো যায়, এইসব আরকি!!! হা হা হা )। মাউন্ট ওয়েদার ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার স্নায়ু যুদ্ধের সময় ১৯৫০ সালে তৈরি করা হয়। এখন পর্যন্ত এটা অপারেট করা হচ্ছে, “শেষ ভরসা” হিসেবে। এটার চার্জে আছে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি স্টাফ (FEMA)। ইতোমধ্যেই, যখন প্রয়োজন হয় বেশিরভাগ ইউ এস টেলিকমিউনিকেশন ট্র্যাফিক এই ফ্যাসিলিটি থেকে নিয়ন্ত্রন করা হয়, যাতে ইমার্জেন্সির সময় ভালভাবে অপারেট করা যায়।(এত ভয় কেন ওদের? সবকিছু আগে থেকে তৈরি। কিছু হলেই গাট্টি বোচকা নিয়ে ঢুকে পড়বে ইদুরের গর্তে!!)   ১০। White’s Gentlemen’s Club  এটি মুলত ডিজনিল্যান্ডের ক্লাব ৩৩ এর মত একটি ক্লাব।পৃথিবীর সবচেয়ে অভিজাত ক্লাব হিসেবে ধরা হয় এটিকে।লন্ডনে অবস্থিত ক্লাবটিতে শুধুমাত্র সমাজের অভিজাত শ্রেণীর মানুষের ই পদচিহ্ন পড়ে।অবশ্য ক্লাবটির শুরুর ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে।ফ্রাঞ্চিস বিয়াঙ্কো নামে এক লোক এটি তৈরি করে নতুন ধরনের চকলেট বিক্রির জন্য অথচ এটি এখন পৃথিবীর সেরা ক্লাব গুলোর একটি।এই ক্লাবের সদস্য হওয়া রীতিমত একটি সম্মানের বিষয়।টাকা আছে কিন্তু চাইলেই আপনি এর সদস্য হতে পারবেন না, হাজারটা কাঠ খর পুড়িয়ে আপনাকে এই ক্লাবের সদস্য হতে হবে ।   বিশ্বের সবথেকে ভয়ংকর ভুতের রাজ্য  পৃথিবীর একটি ভয়ংকর স্থান হল আওকিঘারা জঙ্গল। জঙ্গলটি জাপানের ফুজি পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। পৃথিবীর কোথাও এত ভয়ংকর আর রহস্যময় স্থান আছে কিনা সন্দেহ।  সাড়ে তিন হাজার হেক্টর আয়তনের এই জঙ্গলটি দুমড়ানো মোচরানো গাছে পরিপূর্ণ। গাছগুলির গোড়া এবং জঙ্গলের বেশির ভাগ অংশ স্যাঁতস্যাঁতে শ্যাওলায় পরিপূর্ণ।  স্থানীয় মানুষজনের কথা অনুযায়ী ভুত প্রেতে ভরা এই জঙ্গলটি। রাতের বেলা রহস্যময় আওয়াজ,গোঙানী আর কান্নার শব্দ নাকি ভেসে আসে এই জঙ্গল থেকে।  এর কারনও অবশ্য রয়েছে। জঙ্গলটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম একটি আত্মহত্যার যায়গা। বিগত পঞ্চাশ বছরে পাঁচ শতাধীক মানুষ এখানে এসে আত্মহত্যা করেছে। ফাঁসির দড়িতে ঝুলে কিম্বা অন্য উপায়ে এরা আত্মহত্যা করেছে।  এই কারনেই জঙ্গলটির মাঝে মাঝেই গাছে ঝোলানো অবস্থায় কিম্বা অন্যান্য অবস্থায় পোশাক আশাক পরিহিত মানুষের কংকালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।    ভারতের ১৬টি স্থান   ভারতের ১৬টি সুন্দর স্থান যেখানে পর্যটন নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভৌতিক কারণেঃ- এখানে কিছু স্থান দেওয়া হলো যেগুলিতে অতিপ্রাকৃত উপস্থিতির কারণে পর্যটন সীমানার বাইরেই রাখা হযেছে। যদি সাহস থেকে থাকে তো এক্ষুনি উত্ঘাটনে বেড়িয়ে পড়ুন।   ১. ভানগর দুর্গ – পৃথিবীর অন্যতম একটি ভুতুরে স্থান  ভানগর দুর্গ শুধুমাত্র ভারতের সবচেয়ে ভৌতিক জায়গাই নয় সারা বিশ্বের মধ্যেও এটি ভৌতিক স্থানগুলোর শীর্ষে রয়েছে। এই দুর্গ রাজস্থানে অবস্থিত, ভারত সরকারের পক্ষ্ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুর্গকে ভৌতিক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই দুর্গে প্রবেশের জন্য কতৃপক্ষের আদেশ ও নিয়ম খুব কঠোর এবং যারা এখানে সময় কাটিয়ে গেছেন, তারা তাদের গল্পে অস্বাবিক ক্রিয়াকলাপের কথা বর্ণনা করেছেন।   ২. বৃজরাজ ভবন প্রাসাদ, কোটা, রাজস্থান  যেখানে শ্রী বার্টন ও তার পুত্রকে খুন করা হয়েছিল। রাজস্থানের কোটার বৃজরাজ ভবন হলো একটি বিশাল রাজকীয় স্থান। এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ, এখানকার রক্ষীরাও ভূতুরে ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়েছেন। ব্রিটিশ আমলে জনৈক বার্টন এবং তার ছেলেকে এখানে খুন করা হয়। এখানকার অধিবাসী ও রক্ষিবাহিনীদের থেকে এই স্থানের বিভিন্ন ভৌতিক অভিজ্ঞতার কথা গণমাধ্যমের সুত্রে জানা গিয়েছে।   ৩. ডুমাস বীচ – গুজরাটের সবচেয়ে সুন্দর বীচ  এখানে একজন মানুষ রাত কাটানোর জন্য গেছিলেন, কিন্তু আর ফেরেননি। গুজরাটের ডুমাস সৈকত হলো অন্যতম সুদৃশ সৈকত কিন্তু জায়গাটি মোটেই উপভোগ্য নয় কারণ ভারতীয় সরকার স্থানটিকে ভূতুরে স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সুরাটের স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে কোনো ব্যক্তি যদি এই সমুদ্র সৈকত পরিদর্শনে এসে এক রাত কাটান, তাহলে তারা আর কখনই ফিরে আসেন না। এই জায়গায় আগে একটি হিন্দু শ্মশান ছিল।   ৪. কুদহারা – রাজস্থানের ভৌতিক গ্রাম    রাজস্থানের দ্বিতীয় ভয়ংকর জায়গাটি হলো কুদহারা, ১৯৯০ সাল থেকে এই গ্রাম ভৌতিক গ্রাম হিসাবে পরিচিত। একটি উপকথা অনুসারে, আট শতাব্দীর অধিক ধরে সেখানে থাকা গ্রামবাসীরা হঠাত এক রাত্রিতে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসেনি। কোনো ব্যক্তি এই গ্রামে জমি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করলে গ্রামে উপস্থিত আত্মা তাকে মেরে ফেলে।   ৫. ডি’সুজা বস্তি – মহারাষ্ট্রের সর্বাধিক ভৌতিক স্থান    মুম্বাইবাসীরা মহিমের ডি’সুজা বস্তির সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত কারণ এটি মহারাষ্ট্রের পোড়ো জাগাগুলির মধ্যে সবথেকে ভয়ানক জায়গা। স্থানীয় লোকদের মতে এই জায়গায় একটি মহিলার আত্মা আছে, যিনি কুয়ো থেকে জল তুলতে গিয়ে মারা যান। তিনি কারো ক্ষতি করেন না কিন্তু মানুষদের এই গ্রামের কাছে ঘেসতে দেন না।   ৬. বৃন্দাবন সোসাইটি – থানের সর্বাধিক ভৌতিক স্থান  যেখানে এক অদৃশ্য আত্মা রক্ষীদের থাপ্পর মারেন। বৃন্দাবন সোসাইটিকে থানের সবচেয়ে ভোতিক স্থান বলে গন্য হয়, যেখানে একজন মানুষ অনেক বছর আগে তার জীবন হারিয়েছেন। রক্ষীরা তাদের বয়ানে জানিয়েছেন যে রাতে তারা প্রহরারত অবস্থায় কেউ চোখের পাতা বুঝলে সেই সময় কেউ একজন এসে নাকি তাদের সজোড়ে থাপ্পর মারে!   ৭. তাজমহল প্রাসাদ হোটেল  সম্পূর্ণ বারান্দা জুড়ে ভুতুরে আনাগোনার কথা শোনা যায়। হ্যাঁ এটা সত্য! বলা হয়ে থাকে যে, তাজমহল প্রাসাদের স্থপতি কাঠামো অনুসারে হোটেল তৈরি না করার জন্য হোটেলের ভিতরে খুন হন। অনেকে হোটেলের বারান্দার প্রবেশ দ্বারে তাঁর ভূত দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। সেখানে না যাওয়া অবধি আপনার পক্ষে এর সত্য উত্ঘাতন করা সম্ভব নয়।   ৮. আসামের জাতিঙ্গা  অসমাধিত পাখিদের আত্মহত্যার জন্য এই স্থান বিখ্যাত। আসামের জাতিঙ্গা পাখিদের জন্য একটি সুন্দর জায়গা। অসমাধিত পাখি আত্মহত্যার কারণে জায়গাটি বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। ঘটনা খারাপের দিকে যায় যখন লক্ষ্য করা হয় পাখিরা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ৬.৩০ থেকে ৯ টার মধ্যে মারা যায়। এই ঘটনাটি বুঝতে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে, কিন্তু কিছুই সুরাহা পাওয়া যায়নি।   ৯. রাজ কিরণ হোটেল  মুম্বাইয়ের অতিপ্রাকৃত ঘটনার জন্য প্রখ্যাত এক স্থান। হোটেলটিতে অতিপ্রাকৃত ক্রিয়াকর্মের কারণে আপনাকে আপনার নিজের ঝুঁকিতে রাজকিরণ হোটেল দেখার অনুমতি নিতে হবে। হোটেলের অধিবাসীগণ প্রচন্ড কম্পনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এবং বিছানার চাদর নিজে থেকেই দূরে সরে যায় বলেও জানিয়েছেন। পোড়ো রুমটি অভ্যর্থনার পিছন দিকে একটি নিরিবিলি কোণে অবস্থিত।   ১০. জি.পি. ব্লক  মিরাটে অবস্থিত একটি স্থান যেখানে চার জন পুরুষকে সুরাপান করে আমোদ করতে দেখা যায়। মীরাটের জি.পি. ব্লকে যারা থেকেছেন তারা বলেন যে তারা নাকি চারটে ছেলেকে সুরা সেবন করতে ও আড্ডা মারতে দেখেছেন! যাইহোক, কিছু সময় পর পরিস্থিতিটি আরও ভুতুড়ে হয়ে যায় এবং তাদের কাউকেই দেখা যায় না। তাই জায়গাটি অতিপ্রাকৃত কার্যক্রম পর্যবেক্ষকদের কাছে দর্শনীয় হয়ে উঠেছে।   ১১. আলেয়া প্রেতাত্মা দীপ্তি  পশ্চিমবঙ্গের একটি স্থান, যেইসব মত্সজীবিরা এই দীপ্তিকে অনুসরণ করেছেন তারা আর ফিরে আসেন নি পশ্চিমবঙ্গের প্রেতাত্মা আলেয়া, মার্শাল প্রেতাত্মা নামেও পরিচিত। মার্শাল লাইট দ্বারা অনেক জেলে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং এটা বিশ্বাস করা হয় যে, কেউ যদি সেই আলো কে অনুসরণ করে, তারই বিপদ ঘনিয়ে আসে। যেসব জেলেরা অন্ধভাবে মার্শাল লাইটের পথ অনুসরণ করেছেন তারা কখনো ফিরে আসেন নি।   ১২. দার্জিলিং এর ডাউন হিল  বিচিত্র অপ্রাকৃতিক ক্রিয়াকলাপ এবং মস্তকহীন বালকের ভ্রমনের জন্য পরিচিত। দার্জিলিঙ্গের কুর্সেং-এ অবস্থিত ডাউন হিল, বেড়াবার জন্য এটি একটি সুন্দর জায়গা, কিন্তু এটিকে দেশের সবচেয়ে ভৌতিক স্থান গুলোর মধ্যে একটি বলে গণ্য হয়। ডাউন হিল-এর কাছে মেয়েদের একটি বিদ্যালয় অতিপ্রাকৃত ও অস্বাভাবিক কাজকর্মের প্রত্যক্ষ্ সাক্ষী এবং অনকেই পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে মুন্ডহীন একটি ছেলেকে চলাফেরা করতে দেখেছে। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলা যায় যে ডাউন হিল-এর বনে অসংখ্য খুন সংঘটিত হয়েছে।   ১৩. সঞ্জয় ভ্যান  নিউ দিল্লির এক ভৌতিক স্থান। সঞ্জয় ভ্যান নিউ দিল্লির একটি বিশাল বনভূমি। মানুষ এখানে একটি লাল শাড়ি পরিহত মহিলা কে দেখেছন যিনি হঠাতই দৃশ্যমান হন এবং সেখানকার মানুষজন আতঙ্কিত হওয়া মাত্রই আবার অদৃশ্য হয়ে যান।   ১৪. রামোজি ফিল্ম সিটি  যেখানকার আলো নিজে থেকেই জ্বলে আবার নিজে থেকেই নিভে যায়। জানেন কি এটাও একটা ভুতুরে জায়গা? রামোজি ফিল্ম সিটি অনেক অস্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী। বলা হয়ে থাকে যে, এখানকার আলো নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং একবার অন্ধকার হলে নিজে থেকেই ফিরে আসে। বাতি হাতে পাহারাদারেরা আহত হয় এবং অবশিষ্ট খাওয়ার নিজের মতো বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।   ১৫. আগ্রাসেন কি বাওলি  দিল্লির জন্তর-মন্তরের নিকট একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। এটা দিল্লির একটা ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং যন্তর মন্তর থেকে হাটা পথের দুরত্বে। কিন্তু জনশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি পাঁচ মিনিটের বেশি এটাকে দেখলে আত্মহত্যা করেন এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখা পাওয়া যায়নি।   ১৬. সানিওয়ারওয়াদা দুর্গ  পুনের প্রখ্যাত একটি ভৌতিক স্থান। এটি পুনের একটি বিখ্যাত দুর্গ এবং মহারাষ্ট্রের প্রাচীনতম দুর্গগুলির মধ্যে একটি। অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পর এই দুর্গে যাওয়া ঠিক নয়, কারণ বলা হয় যে, দুর্গটিতে কোন যুবরাজের আত্মা তাড়িয়ে বেড়ায় যাঁকে তাঁর নিজের খুড়তোত ভাইবোন ও পরিবারের সদস্যরাই খুন করেছিলেন। ভৌতিক কার্যকলাপ প্রত্যেক পূর্ণিমার রাতে আরো বেশি করে দেখা যায়।   পৃথিবির বিখ্যাত কিছু রহস্যময় এবং রহস্যেঘেরা স্থান পর্ব- ১   ১. ইয়ংবিয়ন নিউক্লিয়ার সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টার, উত্তর কোরিয়া  উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ন নিউক্লিয়ার সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টার সম্ভবত বিশ্বের সর্বাধিক গোপন স্থানের লিস্টে প্রথমদিকে থাকবে। প্রথমত এই ফ্যাসিলিটি এমন দেশে অবস্থিত যেখানে যে কোন বিদেশী নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ, আর এই প্রধান পারমানবিক স্থাপনা বিশ্বের অবশিষ্ট সব দেশের কাছ থেকে গোপন রাখা হয় ১৯৭৯ সালে এর নির্মানের সময় থেকেই। ৬ বছর পরে ১৯৮৫ সালে যখন এর ৫ মেগাওয়াট নিউক্লিয়ার রিয়েক্টরে সমস্যা দেখা দেয়, তখনই মাত্র সারা বিশ্বের মানুষ এই স্থাপনার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে।  জনশ্রুতি অনুযায়ী এই পারমানবিক স্থাপনা ১৯৯৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে এক চুক্তি অনুযায়ী। কিন্তু ২০০২ সালে চুক্তি ভংগ হয়ে গেলে আবার স্থাপনাটি তার কাজ পুনরারম্ভ করে।   ২. জলমগ্ন ধ্বংসস্তূপ, জাপান  আপনি যদি বিশ্বের সবচেয়ে উৎসাহী স্কুবা ডাইভার হন, তারপরেও আপনি সম্ভবত ইয়নাগুনির দক্ষিন উপকূলে শতাব্দী প্রাচীন ধ্বংসস্তূপে যেতে পারবেন না। এটা বিশ্বের মধ্যে একটা অত্যন্ত গোপনীয় স্থান এবং এটা এতই রহস্যময় যে এর কোন অফিসিয়াল নামপর্যন্ত দেয়া হয়নি। ১৯৯৫ সালে পথভ্রষ্ট এক ডুবুরী এটা আবিষ্কার করে। জাপানের এই ধ্বংসস্তুপকে ভাবা হয় কোন ভৌগলিক ঘটনার ফল। যদিও এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই ধ্বংসস্তূপ মানুষের হাতে গড়া।   এই দাবির পক্ষে তাহলে যুক্তিগুলো কি? ওখানে গিয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা খুব নগন্য, সুতরাং এমন দাবি তুলতে গেলে কিছু ফটোগ্রাফের উপরই শুধু ভরসা করতে হবে। যেগুলোতে আছে দুর্বোধ্য ভাস্কর্য, খোদাই, জটিল সিড়িবিন্যাস, আর বিভিন্ন স্ট্রাকচারের এমন সব নিখুত বিন্যাস যা সাধারনত প্রকৃতিতে দেখা যায়না বরং মানবসৃষ্ট হলেই বেশি মানায়।   ৩. লেক ভস্টক, এন্টার্কটিকা  প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর খুবই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে এন্টার্কটিকা পৃথিবির সবচেয়ে কম জানা এবং সবচেয়ে রহস্যময় স্থান। এই রহস্যময় ভূখণ্ডের মাঝেও একটা জায়গা আছে যেটা রয়ে গেছে সবচেয়ে গোপনতাপুর্ন- লেক ভস্টক। যখন লেকের পানির প্রথম স্যাম্পলের বিশ্লেষণ করে একেবার বিশুদ্ধ পানি পাওয়া গেল, তাতে করে কিন্তু বলা গেল না যে, অতীতে এখানে কোন ধরনের জীবনের অস্তিত্ব ছিল। প্রাথমিক ফলাফল যেখান থেকে এসেছিল তা ছিল ড্রিলের দাতের সাথে লেগে থাকা বরফ, সেই পানি না যা লেক থেকে উঠে এসেছিল ড্রিলের ফলে তৈরি হওয়া গর্ত পুর্ন করতে। এখন পর্যন্ত কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে, লেক ভস্টকের নিচের দিকের বিশ্লেষণে পরে একসময় না একসময় প্রমানিত হবে যে, এই লেক একসময় কিছু প্রজাতির আবাসস্থল ছিল যারা কিনা আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন বছরের পুরানো।   ৪. লেপটিস মাগনা, লিবিয়া    লিবিয়া বিশ্ব মানচিত্রে সম্ভবত গাদ্দাফির সৈন্য বাহিনীর আবাসস্থল হিসেবে বেশি পরিচিতি পেয়েছে ২০১১ সালে লিবিয়ান সিভিল ওয়ারের সময়, কিন্তু খুব কম লোকই জানে যে, লিবিয়াতে আছে প্রাচীন স্থাপত্যের এক অত্যাশ্চর্য ধ্বংসস্তুপের সংগ্রহ। রোম বাদে, লেপটিস মাগনা হল স্থাপত্য এবং ইতিহাসপ্রেমীদের আরেক তীর্থস্থান স্বরূপ। এই জায়গায় প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের এক নগরী ছিল সুতরাং এখানে যে বিখ্যাত এবং দর্শনীয় রোমান ধ্বংসস্তূপ পাওয়া যাবে তাতে আর আশ্চর্য কি!   ৫. মাউন্ট ওয়েদার ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র    যদি টপ সিক্রেট আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটির কথা বলা হয়, তবে খুব কমই মাউন্ট ওয়েদার ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ঘিরে থাকা রহস্যের সাথে তুলনায় যেতে পারবে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মিলিটারি বেসে জীবনধারণের জন্য এবং দীর্ঘসময় ধরে টিকে থাকার জন্য যে সব সরঞ্জামাদি দরকার তার সবই মজুদ আছে বলে ধারনা করা হয়। যারা এই ফ্যাসিলিটির ভিতরে কাজ করে, হাই র‍্যাংকিং অফিসিয়াল যারা কোন জাতীয় দুর্যোগের সময় সেখানে যাবার উপযুক্ত এবং যারা ফ্যাসিলিটিটা তৈরি করেছে একমাত্র তারাই জানে যে, এর অভ্যন্তরটা আসলে কিরকম(সেখানকার কমোড কি হাই, নাকি লো! কফি কি সবসময় ব্লাকই খেতে হয় নাকি হোয়াইটনারও মেশানো যায়, এইসব আরকি!!! হা হা হা )। মাউন্ট ওয়েদার ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার স্নায়ু যুদ্ধের সময় ১৯৫০ সালে তৈরি করা হয়। এখন পর্যন্ত এটা অপারেট করা হচ্ছে, “শেষ ভরসা” হিসেবে। এটার চার্জে আছে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি স্টাফ (FEMA)। ইতোমধ্যেই, যখন প্রয়োজন হয় বেশিরভাগ ইউ এস টেলিকমিউনিকেশন ট্র্যাফিক এই ফ্যাসিলিটি থেকে নিয়ন্ত্রন করা হয়, যাতে ইমার্জেন্সির সময় ভালভাবে অপারেট করা যায়।(এত ভয় কেন ওদের? সবকিছু আগে থেকে তৈরি। কিছু হলেই গাট্টি বোচকা নিয়ে ঢুকে পড়বে ইদুরের গর্তে!!)   ৬. গ্রুম লেক, নেভাডা    এই লেক রহস্যময় মাত্র এবং শুধুমাত্র একটা কারনেঃ এরিয়া ৫১। এই গোপন মিলিটারি বেসকে ঘিরে যত কন্সপিরেসি থিয়োরি, ডকুমেন্টারি, মুভি এবং একাডেমিক ডিবেট হয়েছে অর্ধ শতাব্দী ধরে, তা বিশ্বের অন্য কোন ফ্যাসিলিটি নিয়ে হয়েছে কিনা কে জানে! গ্রুম লেক নেভাডার দক্ষিন অংশে অবস্থিত, লাস ভেগাস থেকে ৮৩ কিলোমিটার দূরে। ওখানে কি চলেছে বা চলছে তা এখন পর্যন্ত অজানা। বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টাল এয়ারক্রাফট এবং এডভান্স ওয়েপন্স সিস্টেম পরীক্ষা করা হয় বলে জানা যায় ওখানে। কিন্তু অনেক কন্সপিরেসি থিয়োরিষ্ট বলেন যে, এই ফ্যাসিলিটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলিয়েন স্পেসশিপ আছে এবং সরকার এখানে কাটিং এজ ইউএফও রিসার্চ চালাচ্ছে(ভাবতে তো আমারই ভাল লাগছে!! থ্রিল বোধ করছি। আমি এলিয়েন অস্তিত্বে বিশ্বাসী)। আমরা হয়ত কোনদিনই কিছু জানতে পারব না এই জায়গা সম্পর্কে। বিনামুল্যে সবাইকে একটা উপদেশ দান করি, খবরদার ভুলেও কেউ গ্রুম লেকের কাছাকাছি যাবেন না। কারন গার্ডদের আদেশ দেওয়া আছে কাউকে দেখামাত্র গুলি করার(shoot on sight)। (সেনসিটিভ আমেরিকান সরকার!!!! ভাবুন তো, ওখানে বড় মাথা-বাকা চোখের কোন এলিয়েন আমেরিকান আর্মির কোন চার তারকা জেনারেলের সাথে বসে হুইস্কি খাচ্ছে। আর সাথে চলছে নতুন ধরনের অস্ত্র বা ফাইটার বিমান বা উচ্চগতির মহাকাশযান নিয়ে আলোচনা। ইন্টারপ্ল্যানেটরি রিলেশনশিপ আর কি!! ফায়দা লুটছে আমেরিকা, আর কাউকে লুটতে দেবে না তাই এই গোপনীয়তা! মজা না? ভাই, আমরা আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর নিয়ে আমাদের লাভ কি?)   ৭. রিও টিনটো, স্পেন  স্পেনের কথা শুনলেই স্বাভাবিকভাবে মনে পড়ে যায় বুলফাইট, ম্যাটাডর আর মুখে জল আনা স্প্যানিশ ডিশের কথা। সেই স্পেনের সাথে মঙ্গল গ্রহের সাদৃশ্যের কথা শুনে চমকে উঠবেন না এমন লোক খুব কমই আছে। চমকে গেলেন? আহা, চমকাবেন না। আপনি তো আর আগে রিও টিনটোর নাম শুনেন নাই। রিও টিনটো বিশ্বের আর এক রহস্যময় স্থান। স্পেনের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে এটা অবস্থিত, এই নদী লাল এবং উচ্চ অম্লীয় পানি দ্বারা প্রতিপালিত। আয়রন সহ প্রচুর খনিজ উপাদান আছে এই নদীর গভীরে; যেগুলো নদীটার বিবর্ন চেহারার জন্য দায়ী। রিও টিনটো নিয়ে যেসব বিজ্ঞানী গবেষণা করছেন তাদের কাছে এই নদীর অম্লত্ব এখনো ধাঁধা হিসেবে রয়ে গিয়েছে।   ৮. উমেরা প্রোহিবিটেড এরিয়া, দক্ষিন অস্ট্রেলিয়া  ফ্যাসিলিটির নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, এই জায়গা পিকনিক করার জন্য মোটেই আদর্শ জায়গা নয়। সেধে পড়ে কে ই বা নিজের পিতৃপ্রদত্ত প্রাণটা খোয়াতে চায় বলুন? খুব সিলেকটিভ কিছু লোকই কেবলমাত্র এখানে প্রবেশাধিকার রাখে। যদিও স্থাপনাটার বিশাল আকার আর অবস্থান একে গোপন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে কিন্তু এর হাইলি রেস্ট্রিকটেড এয়ারস্পেস এবং প্রকাণ্ড এক্সক্লুশন জোনই এই ফ্যাসিলিটিকে রহস্যের চাদরে মুড়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট। খুব কম লোকই জানে যে, এই দানবীয় ওয়েপন্স টেস্টিং রেঞ্জে কি চলছে।   ৯. রুম ৩৯, উত্তর কোরিয়া    উত্তর কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে দুর্দশাপুর্ন রাষ্ট্র। রুম ৩৯(মাঝে মাঝে বলা হয় ব্যুরো ৩৯) তাদের বিভিন্ন গোপন সংগঠন এর ভিতর সবচেয়ে গোপনীয়তাপুর্ন। উত্তর কোরিয়ার নেতার জন্য ফরেন কারেন্সি কিভাবে সংগ্রহ করা যায় তার বিভিন্ন মেথড খোঁজার জন্য এটা তৈরি করা হয়। ১৯৭০ সালের শেষ দিকে এটা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাজবংশীয় কিম পরিবারের লেনদেন এর দিকটা দেখতে শুরু করে। রুম ৩৯ এমন একটা গোপনতাপুর্ন প্রতিষ্ঠান যে কেউ জানেনা ওখানে আসলে কি চলে। বিশ্বাস করা হয় যে সুইজারল্যান্ড এবং চীনে ১০ থেকে ২০ টা ব্যাংক একাউন্ট আছে যা বিভিন্ন বেআইনি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট যেমন জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং, মাদকদ্রব্য পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র বিক্রি, যা এখান থেকে পরিচালনা করা হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী এই সংগঠনের ১২০ টা বিদেশী বানিজ্য কোম্পানি আছে যেগুলো এটা অপারেট করে। ক্ষমতাশীল পরিবারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রনে এগুলো পরিচালিত হয়, যারা সুস্পষ্টভাবে কোন ধরনের বেআইনি কাজের সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্ট থাকার দায় অস্বীকার করে। বিশ্বাস করা হয় রুম ৩৯ উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষমতাশীল ওয়ার্কার্স পার্টি বিল্ডিং এর ভিতরে অবস্থিত, কিন্তু নিশ্চিতভাবে কেউ জানেনা।   ১০. গোপনীয় রাশিয়ান শহর “মেঝগোরী”    রাশিয়ায় মেঝগোরী নামে এক শহর আছে, যেখানে সকলের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বিশ্বাস করা হয় শুধুমাত্র যারা কঠিন গোপনীয়তাপুর্ন মাউন্ট ইয়ামান্টাও সাইটে(আল্ট্রা সিক্রেট রিসার্চ ফ্যাসিলিটি হতে পারে অথবা পারমানবিক ফ্যাসিলিটি) কাজ করে, তারাই ঢুকতে পারে। ১৯৭৯ সালে এটা তৈরি করা হয়। শহরটি ৫,৩৮১ ফুট উঁচু, উরাল পর্বতশ্রেনীর সর্বোচ্চ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, যেখানে আমেরিকান স্যাটেলাইটগুলো বিশাল স্কেলের খননকাজের ছবি রেকর্ড করেছিল। হতে পারে এটা কোন খনি কিংবা রাশিয়ান সম্পদের এক ভাণ্ডার অথবা জরুরী অবস্থায় সরকারী হাই প্রোফাইল লোকদের জন্য শেল্টার। অনেকরকম কল্পনাই করা যায় কিন্তু এটা আসলে যে কি তা কেউ জানেনা।   পৃথিবির বিখ্যাত কিছু রহস্যময় এবং রহস্যেঘেরা স্থান পর্ব- ২   বহুকাল আগে থেকেই ভারত রহস্যময়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ এই রহস্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। ভারতীয় সাহিত্যে, লোকগানে, গল্পে, ধর্মে সবখানেই রহস্যের ছড়াছড়ি। তাঁর উপর আছে অশিক্ষা আর কুসংস্কার এর মেলবন্ধন যা কিনা আবার কোন অব্যাখ্যাত ঘটনার গায়ে রহস্যের তকমা লাগানোর সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। ভারতীয় যোগী-সন্নাসীরা আজও, এই আধুনিক যুগে বিভিন্ন রহস্যময় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন আর মানুষের ধারণা তারা বিভিন্ন ধরনের অব্যাখ্যাত শক্তির অধিকারী হয়েছেন সাধনার দ্বারা।   কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখে নেই কিছু রহস্যময় ঘটনা আর স্থানের পরিচয়। আর ভাই-বোনেরা শুরুতেই বলে রাখি, বিশ্বাস অবিশ্বাস সবই যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। কারও জোর করে বিশ্বাস করার কিছু নেই আর কেউ বিশ্বাস করলে তাকে বেকুব বলে হাসি দেবারও কিছু নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে রহস্যে বিশ্বাসী। আমার মনে হয় ব্যাখ্যার অতীত কিছু ঘটনা আজও আছে বিধায় পৃথিবীটা এখনো পানসে হয়ে যায় নি। সৃষ্টিকর্তা রহস্যময় পথে কাজ করেন সবসময়, তিনি আমাদের সামনে রহস্য রেখে দেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে তাঁর থেকেও সুপিরিয়র অস্তিত্ব বর্তমান, আর তিনি এমন কিছু ঘটাতে পারেন যা ব্যাখ্যা করা মানুষের অসাধ্য। আমার কাছে প্রাকৃতিক রহস্যগুলো সবসময় সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার নিদর্শন বলে বিবেচিত।   ১. হিমালয় রহস্য (অমর মানুষ, ইয়েতি, যোগী, ভূত, লোহিত তুষার)  হিমালয় রেঞ্জ যতটা বড় ঠিক তত বেশিই এর রহস্যের পরিমান। হিমালয় অমর এক প্রজাতির আবাস এমন ধারণা করা হয়। তিব্বত এবং নেপালের হিমালয়ান পার্টে ইয়েতি নামক কুৎসিত তুষারমানবেরা বসবাস করে বলে ধারণাটা জনপ্রিয়। অনেক পর্বতারোহী রহস্যজনক লোহিত তুষার দেখেছেন বলে ঊল্লেখ করেছেন। দেখে নাকি মনে হয়, বরফের উপর রক্ত বা লাল কোন কিছু স্প্রে করা হয়েছে, যার ফলে ছোপ ছোপ লাল দাগ ফুটে উঠে তুষারের উপর। হিমালয়ের গোলকধাঁধা সমতুল্য অঞ্চলে লুকানো আশ্রমে রহস্যময় ধ্যানী যোগীদের অসংখ্য গল্প প্রচলিত আছে (আসলে কি সেগুলো শুধুই গল্প!! এত গল্পের অল্প কিছু অংশও যদি সত্যি হয়ে থাকে তাতেই এনাফ। দুনিয়ার এত জায়গা থাকতে ওই হিম ঠাণ্ডার মধ্যে বসে কিসের এত ধ্যান তাদের!! আমার মনে হয় যে, ধ্যানের উচ্চতর লেভেলে উঠে গেলে মানুষ এমন কিছু জিনিস অর্জন করতে সক্ষম, যা সাধারনের কাছে জাদুর সমতুল্য এবং সেগুলোর ব্যবহার খুব বিপদজনক। তাই এত লুকোচুরি। ভাবতে কিন্তু আমার ভালই লাগে)। হাজার হাজার মানুষ পর্বতের শিখর ছোবার অভিপ্রায়ে মৃত্যুবরণ করেছে এই হিমালয়ে। ইন্ডিয়ান আর্মির সৈন্যরা মৃত পর্বতারোহী আর সৈন্যদের দেখেছেন বলে দাবি করেছেন অনেকবার।   ২. কুলধারা- রাজস্থান (ভূতের গ্রাম)  কুলধারা গ্রামটা ;ভূতের গ্রাম, বলে খ্যাত যা কিনা ১৮২৫ সাল থেকে পরিত্যাক্ত। গ্রামবাসীরা যারা এই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়, তাদের অভিশাপ বহন করে চলেছে গ্রামটা। কুলধারা পশ্চিম রাজস্থান এর জয়সলমীর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রামটা এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। গ্রামটা পলিওয়াল ব্রাহ্মণদের দ্বারা ১২৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যারা ছিল খুব ধনী গোত্র এবং তাদের ব্যাবসায়িক আর কৃষিসংক্রান্ত জ্ঞানের জন্য সর্বজনবিদিত ছিল। কিন্তু ১৮২৫ সালে কুলধারা এবং এর আশেপাশের আরও ৮৩ টি গ্রামের অধিবাসীরা এক রাতের ভিতরেই উধাও হয়ে যায়। স্রেফ উধাও। কারও কোন টিকিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। লোকগাথা অনুযায়ী, রাজ্যের মন্ত্রী সেলিম/সালিম সিং, একবার গ্রাম পরিদর্শনে এসে গ্রামের সর্দারের মেয়ের প্রেমে পড়ে যান এবং বিয়ে করতে চান (দুনিয়ার যত গ্যাঞ্জাম, তার বহু ঘটনার পিছে একটা করে মেয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। পুরো হিউম্যান হিস্টোরি জুড়ে যেমন চরিত্রহীন পুরুষদের দেখা গেছে, তেমনি লাস্যময়ী ট্রিকি নারীদেরও কোন কমতি নেই)। মন্ত্রী হুমকি দেয়, যদি তাঁর সাথে বিয়ে না দেয়া হয় তবে গ্রামের উপর প্রচুর কর ধার্য করা হবে। সালিম সিংয়ের সাথে বিয়ে ঠেকাতে গ্রামের সর্দার অন্য ৮৩ টা গ্রামের লোকসহ গ্রামত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু রহস্যটা হল, কেউই তাদের চলে যেতে দেখেনি বা কোথায় তারা গিয়েছে কেউই জানেনা। তারা স্রেফ ভ্যানিসড(POOF!! like a pile of ash, blown by wind)।   ৩. কোট্টায়াম, ইদ্দুকি- কেরালা (লোহিত বৃষ্টিপাত)  কেরালার কোট্টায়াম এবং ইদ্দুকির দক্ষিনের জেলাগুলোতে এক অস্বাভাবিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যায় ২০০১ সালের ২৫শে জুলাই থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, সেটা হল বৃষ্টির পানির লাল রং। রংবহুল বৃষ্টিপাত কেরালাতে দেখা যায় ১৯৮৬ সালের প্রথমার্ধ থেকে এবং তারপর থেকে বেশ কয়েকবার, যার মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রতিকটা হল ২০১২ সালের জুলাই মাসে। ২০০৬ সালে কেরালার এই ঘটনা মিডিয়ার আকর্ষন কাড়তে সক্ষম হয় যখন মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দাবি করেন যে, রঙ্গিন পার্টিকেল গুলো ছিল ;বহির্জাগতিক কোষ(extraterrestrial cell);। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ এর নিচে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি থেকে পৃথক করা সলিড পিগমেন্ট গুলোর সাথে জীবদেহের কোষের মিল রয়েছে! প্রাথমিক অফিসিয়াল রিপোর্টে বলা হয়, এক ধ্বংসপ্রাপ্ত উল্কার দ্বারা এই পিগমেন্ট বিস্তার লাভ করেছে, কিন্তু পরে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, trentopholia জেনাসের অন্তর্গত লাইকেন- গঠনকারী এলজির(algae)র স্পোরের সাথে আরও বেশি মিল রয়েছে এদের। আরও অনুসন্ধানে আবিষ্কৃত হয় যে, অত্র এলাকার গাছপালায়, পাথরে, এমনকি ল্যাম্পপোস্টে এই ধরনের এলজির প্রচুর পরিমানে উপস্থিতি রয়েছে।   ৪. বেঙ্গল সোয়াম্প- পশ্চিমবঙ্গ (আলেয়া- ভূতুড়ে আলো)  আলেয়ার আলো বা জলাভূমির ভূতুড়ে আলোগুলো হল পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় জেলেদের দেখা জলাভুমির অব্যাখ্যাত কিছু আলো। এই আলোগুলো জেলেদের দ্বিধান্বিত করে, যার ফলে তারা সঠিক দিকনির্দেশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কেউ যদি একবার জলাভূমির এই আলেয়াকে অনুসরণ করতে শুরু করে, তবে তারা ডুবে মারাও যেতে পারে। অনেক মৃতদেহ পাওয়া গেছে জলাভূমির কুলে, বলা হয় এরা আলেয়ার ছলনার শিকার। স্থানীয়রা বিশ্বাস করে, জলাভুমিতে বিচরণ করা এই ভূতুড়ে আলোগুলো আসলে সেইসব জেলেদের আত্মা বা ভূত যারা মাছ শিকার করতে গিয়ে প্রান হারিয়েছে। মাঝে মাঝে আলোগুলো জেলেদের দ্বিধায় ফেলে দেয় আবার মাঝে মাঝে তাদের আসন্ন বিপদের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে (এক্ষেত্রে অনেকে হলিউডের এনিমেশন মুভি brave এ দেখানো will-o-the-wisp এর মিল পেতে পারেন। রাজকুমারী মেরিডাকে কয়েকবার বিপদের হাত থেকে বাঁচায় এরা, আবার সঠিক পথেরও সন্ধান দেয়)।   ৫. বান্নি গ্রাসল্যান্ড রিসার্ভ – Rann of Kutch (ছির বাত্তি)  বান্নি গ্রাসল্যান্ড রিসার্ভ গুজরাটের দক্ষিণ প্রান্তে rann of kutch এর লবনাক্ত সমভূমিতে অবস্থিত। এটা একটা ঋতুভিত্তিক জলজ তৃণভূমি যা কিনা প্রতিবছর মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে তৈরি হয়। এখানে রাতের বেলায় অব্যাখ্যাত রহস্যজনক অদ্ভুত আলোর নাচ দেখতে পাবার প্রচুর ঘটনার উল্লেখ আছে, যাকে স্থানীয়রা ;ছির বাত্তি; হিসেবে অভিহিত করে। বলা হয় এই আলোগুলো তেলের বাতির আলোর মতই উজ্জ্বল যা কিনা রং পরিবর্তন করে নীল, লাল, হলুদ বর্নধারন করতে পারে এবং দেখতে নাশপাতি আকৃতির চলন্ত বলের মত। তারা তীরের মত দ্রুতগতিতে চলতে পারে, আবার হঠাত করে স্থির দাঁড়িয়েও থাকতে পারে। স্থানীয় লোকগাথা অনুযায়ী, ;ছির বাত্তি; গুলো হল তৃণভূমির ;জীবনের অংশ; এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। কিছু লোক উল্লেখ করেছে যে, মাঝেমাঝে বাতিগুলো তাদের অনুসরণ করেছে জলাভূমির ভিতর দিয়ে চলার সময়। স্থানীয়রা ছাড়াও বিদেশীরা এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সৈন্যরাও এই বাতি দেখেছে বলে উল্লেখ করেছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, জলা থেকে উত্থিত মিথেন গ্যাসের জারনের ফলে এই আলোর উতপত্তি হয়।   ৬. গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র ডেল্টার অব্যাখ্যাত শব্দ (Mistpouffers, Barisal Guns)  Mistpouffers অথবা Barisal Guns হল একধরনের অব্যাখ্যাত শব্দ যার সাথে ;সনিক বুম; এর মিল রয়েছে এবং পৃথিবী জুড়ে পানির কাছাকাছি জনপদগুলোতে এসব শব্দ শোনা গেছে বলে প্রমান রয়েছে। বিশেষ করে ভারতে তাদের শোনা গেছে গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্রের ;ডেল্টা রিজিয়ন; এ। সুপারসনিক জেট (শব্দের চেয়ে উচ্চগতিসম্পন্ন বিমান) এর সনিক বুম এর সাথে যদিও এদের মিল রয়েছে, কিন্তু রহস্যময় ব্যাপার হল এই ধরনের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় এমনকি বিমান আবিষ্কার এর আরও অনেক আগে থেকেই। টি ডি লাটুচে নামের এক ব্রিটিশ অফিসার ১৮৯০ সালে তাঁর জার্নালে এই সম্পর্কে লেখেন। তিনি লেখেন, “Barisal Guns ভূকম্পনজনিত ধাক্কার ফলে উতপন্ন হয়, যদিও ভূমিকম্প ছাড়া এবং বড় ধরনের ভুকম্পনের আগে এদের শোনা গেছে। এই ঘটনার কিছু ব্যাখ্যা আছে, যার ভিতরে আছে ভূমিকম্প, পাথরের ভাঙ্গন, কাদার আগ্নেয়গিরি, গ্যাসের উদগিরনজনিত বিস্ফোরণ, ঝড়বাহিত শব্দ, সুনামি, উল্কা, দুরবর্তী বজ্রপাত এবং তথাকথিত booming sand.; এখনো এই রহস্যময় শব্দগুলো শোনা যায় এবং যা প্রতিনিয়ত গবেষকদের ধাঁধায় ফেলে যাচ্ছে।   ৭. কঙ্গকা লা পাস- আকসাই ছিন, লাদাখ (ইন্দো-চাইনীজ ইউ এফ ও ঘাটি)  হিমালয়ের কঙ্গকা লা পাস আকসাই ছিনের ইন্দো-চাইনিজ সীমান্তে অবস্থিত। চীনের অন্তর্গত অংশ আকসাই ছিন নামে এবং ভারতীয় অধিকৃত অংশ লাদাখ নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রবেশাধিকারমূলক এলাকাগুলোর একটি এবং দুই দেশের ভিতর চুক্তি অনুযায়ী এখানে কোন বর্ডার পেট্রল এর ব্যবস্থা নেই। সীমান্তের উভয়পাশের স্থানীয়রাই বিশ্বাস করে এই এলাকায় সমন্বিতভাবে দুই দেশের একটা ভুগর্ভস্থ ইউ এফ ও ঘাটি রয়েছে (যা বলা হল তা না থাক কিছু একটা তো আছে। হিমালয় তো দেখি আসলেই রহস্যময়!!!) স্থানীয়রা ভুগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা ইউ এফ ও দেখেছে অনেকবার, এমনটাই দাবি(যা রটে, তার কিছু তো বটে)। পর্যটকেরা অদ্ভুত ত্রিকোণাকৃতি আলোকবিশিষ্ট নিঃশব্দ আকাশযান দেখেছে মাটি থেকে উঠে আসতে এবং সম্পুর্ন খাঁড়া ভাবে আকাশে উঠে গেছে সেগুলো। স্থানীয় গাইডরা বলে এটা এখানের কোন নতুন জিনিস না বরং খুবই সাধারন ঘটনা! পর্যটকেরা এখানে দুই দেশের ভিতর ভ্রমনের অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করতে পারে না।   ২০০৬ সালের জুনমাসে গুগল আর্থের স্যাটেলাইট ইমেজগুলো এই এলাকার(চাইনিজ অংশ) ১:৫০০ স্কেলের বিস্তৃত মডেল দেখায় যেখানে দেখা যাচ্ছে অনেক বিল্ডিং, যেগুলোর সাথে একটা মিলিটারি ফ্যাসিলিটিরই তুলনা হতে পারে। আকসাই ছিন এমন একটা এলাকা যেখানে ইউরেশিয়ান এবং ইন্ডিয়ান টেকটনিক প্লেট মিলে এক ;কনভারজেন্ট প্লেট বাউন্ডারী; তৈরি করেছে, মানে হল একটা প্লেট আরেকটার নিচে অবস্থান করছে এবং এই ঘটনা এই এলাকাকে সেইসব বিরল এলাকার একটায় পরিণত করেছে যেখানকার ভূপৃষ্ঠ অন্য জায়গার তুলনায় দ্বিগুণ পুরু(এবার ভাবুনতো ২০১২ মুভিটার কথা। সারা পৃথিবী যখন একের পর এক ভুমিকম্পে টালটামাল তখন মানুষের শেষ ভরসা সেই জাহাজ তিনটা কোথায় ছিল! জ্বি, এই হিমালয়েই। সৃষ্টিকর্তা পাহাড়গুলোকে তৈরি করেছেন পৃথিবীর পেরেক হিসেবে। যদি প্রশ্ন করেন সেখানেই কেন ভুমিকম্পের প্রকোপ বেশি তাহলে আমাকে একটি প্রশ্ন করতে দিন। ;হাসপাতালে তো মানুষেরা সুস্থ হয়ে ওঠে, তাহলে সেখানে কেন রোগীর সংখ্যা বেশি?   ৮. রুপকুন্দ লেক- উত্তরখন্দ (কঙ্কাল হ্রদ)  রুপকুন্দ লেক হল এক হিমবাহ হ্রদ যা উত্তরখন্দের হিমালয়ান রেঞ্জের (আবার হিমালয়!!) ৫০০০ মিটার উপরে অবস্থিত। ১৯৪২ সালে এক বনরক্ষী রুপকুন্দের তীরে শতশত মানবকঙ্কাল দেখতে পান। বছরের পর বছর ভারতীয় এবং ইউরোপিয়ান বিজ্ঞানীরা এই মৃত্যুরহস্য সমাধান করার জন্য বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে। বেশ কয়েকটা তত্ত্ব আছে এই সংরক্ষিত কঙ্কালগুলোর রহস্য ব্যাখ্যার জন্য। এক তত্ত্ব অনুযায়ী এই কঙ্কালগুলো আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়ে মৃত্যুবরণকারী জাপানি সৈন্যদের। কেউ কেউ বলেন এগুলো কাশ্মীরের জেনারেল জোরাওয়ার সিং এবং তাঁর সৈন্যদের কঙ্কাল, আবার আরেক তত্ত্ব মতে এগুলো মুহাম্মদ তুঘলকের অসফল Garhwal হিমালয় অধিকার অভিযানের ফসল। এগুলোর কার্বন ডেটিং করে বয়স নির্ধারন করা হয়েছে ১২শ-১৫শ শতাব্দীর ভিতরে। তিব্বতের সাথে এই এলাকার ভিতর দিয়ে বাণিজ্যিক পথের কোন ঐতিহাসিক প্রমান নেই। এক তত্ত্ব বলে এগুলো কনৌজ এর রাজা জশদেওয়াল এর লোকদের। তারা হিমালয়ের নন্দদেবী পাহাড়ে তীর্থে যাচ্ছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। পথে তারা প্রচণ্ড তুষার ঝড়ের কবলে পড়েন এবং খোলা পাহাড়ের গায়ে কোন আশ্রয় না পেয়ে প্রত্যেকে মৃত্যুবরন করেন।   ৯. কদিনহি- কেরালা (জমজদের গ্রাম)  কদিনহি গ্রামটা কালিকুট থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত এবং প্রায় ২০০০ টা পরিবারের আবাস। মুসলিম প্রধান গ্রামটা জমজ বাচ্চা জন্মের উচ্চহারের জন্য পরিচিত। ২০০৯ সালে এই গ্রামে ২২০ জোড়া জমজ বসবাস করত এবং ট্রিপলেট (তিনজন একই চেহারার) ছিল দুই সেট! যদিও গ্রাম্য ডাক্তার বলেন জমজের জোড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ হবে। তিনি বলেন এই ঘটনার শুরু তিন প্রজন্ম আগে থেকে এবং হারটা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে প্রতি বছর। আরও একটা রহস্যময় ব্যাপার হল গ্রামের মহিলাদের যদি অন্য কোন দুরবর্তী এলাকায় বিয়ে হয় তাতেও তাদের ভিতরে জমজ বাচ্চা জন্ম দেয়ার হার উচ্চই থাকে।   পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান ‘এরিয়া ৫১’ পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান ‘এরিয়া ৫১’  পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও রহস্যময় স্থানগুলোর মধ্যে ‘এরিয়া ৫১’ অন্যতম। আমেরিকার নেভাদা অঙ্গরাজ্যের এ স্থানটিকে ঘিরে রয়েছে অনেক আলোচনা-সমালোচনা এবং বিভিন্ন গল্পের উৎস। এরিয়া ৫১ আমেরিকার একটি গোপন সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাটি। যার আয়তন ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার। এ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দুর্ভেদ্য বেষ্টনীতে ঘেরা এ ঘাটির প্রবেশপথে লেখা আছে ‘সংরক্ষিত এলাকার দিকে প্রবেশের চেষ্টা করলেই তাকে গুলি করা হবে’। তাই এই জায়গাটি নিয়েই বিশ্ববাসীর সবচেয়ে বেশি কৌতূহল। কি আছে এর ভেতর? কিইবা এমন কার্য সম্পাদন করা হয় এই ঘাটিতে, যার দরুন সেখানকার তালিকাভুক্ত কর্মীদের ছাড়া আর কাউকেই ঢুকতে দেয়া হয় না । এমন প্রশ্ন বিশ্ববাসীর মনে ঘুরপাক খাবে এটাই যেন স্বাভাবিক । আর ‘এরিয়া ৫১’ এমন এক সামরিক ঘাটি, যেখানকার কর্মীরা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে দায়বদ্ধ। এরিয়া ৫১ এর ভেতর আজপর্যন্ত বেসামরিক কেউ ঢুকতে পারেননি। যদি কেউ ঢুকেও থাকেন তাহলে তিনি ফিরে এসেছেন লাশ হয়ে । এরিয়া ৫১ এর কর্মকতারা জানান, এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ তৈরি, অস্ত্রশস্ত্রের সিস্টেমের পরীক্ষাকরণ এবং উন্নতিসাধন সমর্থন করা। কিন্তু এই স্থানটির আশেপাশের বাসিন্দারা জানান ভিন্ন কথা। তাদের দাবী এরিয়া ৫১ এর আকাশে ফ্লাইং সসারের মতো কিছু উড়তে দেখেছেন তারা। আবার অনেকেই এমন দ্রুতগতির বিমান উড়তে দেখেছেন যার গতি ও আকৃতি সাধারণ বিমান কিংবা যুদ্ধবিমান কোনোটার সাথেই যেন মিলে নেই। এতো বিতর্কে ছাইয়ের মধ্যে যেন বাতাস ছড়িয়ে দিলেন এরিয়া ৫১ এর কর্মরত পদার্থবিজ্ঞানী বব লেজার । টিভি সাক্ষাৎকারে বব জানান, ‘সেখানে রেটিকুলাম-৪ নামক জ্যোতিষ্ক থেকে আসা এলিয়েন ও এক ফ্লাইং সসার রয়েছে। এলিয়েন বা ওই ভিনগ্রহের প্রাণীটির উচ্চতা সাড়ে তিনফুট । যার রোমহীন শরীর এবং বড় বড় কালো চোখ রয়েছে । এলিয়েনটির দেহ ব্যবচ্ছেদ করার পর এর ভেতরে ফুসফুস ও হৃৎপিন্ডের বদলে পাওয়া গেছে বিশাল এক পতঙ্গ।’ এছাড়া বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে এখান থেকে ভিনগ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে বলে দাবি করেন অনেক কর্মকর্তা। পত্র-পত্রিকায় নানা সময়ে রহস্যময় এ জায়গাটিকে কেন্দ্র করে নানা মুখরোচক খবর বের হলেও সেগুলোকে বরাবরই এড়িয়ে গেছেন আমেরিকান সরকার ।  এরিয়া ৫১ “এরিয়া ৫১” এক রহস্যে ঘেরা নাম। এটা কোন প্রকৃতির সৃষ্টি রহস্য না বরং মানুষের সৃষ্টি সব থেকে রহস্যজনক স্থান গুলির মধ্যে একটি। (ইংরেজিঃ Area 51) একটি বিশাল (নেলিসের বিমান বাহিনী) সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাটি, যার আয়তন ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার। এটি পশ্চিমা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম রেকেল গ্রামের কাছে অবস্থিত। এটি ঠিক গ্রুম হ্রদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। দুর্ভেদ্য বেষ্টনীতে ঘেরা এ ঘাটির প্রবেশ পথে লেখা আছে অনধিকার প্রবেশকারীকে গুলি করা হতে পারে। আজ পর্যন্ত বেসামরিক কেউ দাবী করেনি তিনি এরিয়া ৫১ এ ঢুকেছেন। যদি কেউ ঢুকেও থাকেন তাহলে তিনি জীবিত আর বের হতে পারেন নি তা নিশ্চিত। আর এই রহস্যে ঘেরা স্থানটি কি সত্যি আছে? এ প্রশ্ন কিন্তু সবার মনে একবার হলেও উঁকি দিয়েছে। কেননা এই এরিয়া ৫১ এর অস্তিত্ব আমেরিকা ও সোভিয়েত উইনিয়নের মধ্যকার “স্নায়ুযুদ্ধ” (Cold War) সময়কালিন থেকে থাকলেও আমেরিকার সরকার এর অস্তিত্ব স্বীকার করেছে বেশি দিন না।  অতীতে কেউ যদি বিমান বাহিনির কাছে এই এরিয়া ৫১ সম্পর্কে জানতে যেয়ে কোন বার্তা পাঠাত তাহলে তাদের কাছে উপরে চিঠির মত একটি চিঠিতে জবাব দেওয়া হত। কোন ভাবেই তারা স্বীকার করত না এই এরিয়া ৫১ এর অস্তিত্ব।  দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন ১৮ই আগষ্ট ২০১৩ সাল, প্রথমবারের মত আমেরিকার সরকার স্বীকার করে নেয় যে, হ্যাঁ এই এরিয়া ৫১ এর অস্তিত্ব আছে। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,   “যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেশটির এক গোপন সামরিক পরীক্ষার স্থান হিসেবে ‘এরিয়া ৫১’ নামে একটি এলাকার অস্তিত্ব অবশেষে স্বীকার করেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) নথি থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওয়াশিংটন ডিসির জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মহাফেজখানা গত বৃহস্পতিবার ওই নথি অনলাইনে দেয়। নথিতে দেখা যায়, মার্কিন ইউ ২ গোয়েন্দা বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হয়েছিল এরিয়া ৫১ নামের ওই গোপন পরীক্ষার স্থানেই। জায়গাটা নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহর থেকে প্রায় ১০০ মাইল উত্তরে মোহাভে মরুভূমিতে। বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনি ভিত্তিক বিভিন্ন চলচ্চিত্রে এরিয়া ৫১ কে দেখানো হয়েছে ভিন গ্রহের প্রাণী ও অজানা ‘বিভিন্ন বস্তুর’ উড্ডয়নের স্থান হিসেবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এত দিন কখনোই এরিয়া ৫১ নামে কোনো স্থানের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেনি। তবে প্রকাশিত নথিতে ভিন গ্রহের প্রাণী বা এ জাতীয় কোনো কিছুর সঙ্গে এরিয়া ৫১ এর সম্পর্ক নেই বলে জানানো হয়েছে।”   কিন্তু এই স্বীকারক্তির অনেক আগেই এরিয়া ৫১ নিয়ে ঘটে গেছে অনেক কিছু। ষড়যন্ত্র তত্ত্বে (Conspiracy Theory) যারা বিশ্বাস করে তারা অনেক কিছু খুঁজে বের করেছে। কিন্তু তারপরেও কেউ জোর গলায় বলতে পারে না, যা খুঁজে পেয়েছে তার সব সত্যি। আসুন তাহলে এবার খুঁজে দেখা যাক এই এরিয়া ৫১ নিয়ে কি কি পাওয়া যায়। চলুন তবে শুরু করি।   খোদ যুক্তরাস্ট্রের জনগনের মধ্যে একে ঘিরে অনেক গল্প চালু আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এই স্থানে নাকি কোন এক সময় UFO হয়েছিল এবং এই UFO ওর মধ্যে থেকে ভীনগ্রহের প্রানীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে “UFO রহস্যের আবডালে ঘেরা যে বস্তু” লেখায় আলোচনা করা হয়ছে।   এছাড়াও গল্প, সিনেমা, টিভি প্রোগ্রাম ইত্যাদি নানাভাবে এই এরিয়া ৫১ এর কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে সেই UFO এর দূর্ঘটনার কথা যা রসওয়েল UFO (Unidentified Flying Object) দূর্ঘটনা (Roswell UFO Incident) নামে অভিহিত করা হয়।   ১৯৯৬ সালে হলিউডের বিখ্যাত ছবি “ইনডিপেনডেন্স ডে” তে দেখানো হয়েছে যে এই ভীন গ্রহের প্রানীরা এরিয়া ৫১ এর উপর আক্রমন করেছে এবং এই ছবির শেষ দিকে দেখানো হয়েছে এই প্রানীদের ব্যাবহার করা বিশাল আকারের UFO কে উন্নত প্রযুক্তির মিসাইলের সাহায্যে ধংস করে দেয়া হয়। এই মিসাইল প্রযূক্তি তারা পেয়েছে রসওয়েলের দূর্ঘটনায় ধংস হওয়া সেই UFO থেকে।  স্যাটেলাইট থেকে তোলা এরিয়া ৫১ এর ছবি এছাড়াও “হ্যাংগার ৫১” ছবির কাহিনীও এই এরিয়া ৫১ নিয়ে। এছাড়াও টেলিভিশন সিরিয়াল সেভেন ডের কাহিনী চিত্রায়ন করা হয়েছে এই এরিয়া ৫১ এর ভিতরে, যাতে দেখান হয় রসওয়েল থেকে উদ্ধার করা ভিন গ্রহের প্রযুক্তির সহায়তায় একটি NNA টাইম ট্রাভেল অপারেশন। ২০০৫ সনের আলোচিত ভিডিও গেমস এরিয়া ৫১ ও নির্মিত হয়েছে রসওয়েল এর কাহিনীকে কেন্দ্র করে।   এরিয়া ৫১ সর্ম্পকে খোদ যুক্তরাস্ট্র সরকার একেবারে নিশ্চুপ। এ বিষয়ে তারা জনগনকে কিছু তো জানাতে দেয়ই না, বরং বেসামরিক লোকদের এরিয়া ৫১ এলাকাতে প্রবেশ করাও সম্পূর্ন নিষেধ।   এই জন্য এই স্থান সর্ম্পকে মানুষ তেমন কোন খবর জানে না। এ ছাড়াও এরিয়া ৫১ আগে এর ভিতরে যে সব স্থাপনা আছে তার ও তেমন ভাল কোন ছবি পাওয়া যেত না, যে সব ছবি পাওয়া গেছে তা স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি। এরিয়া ৫১ একটি সামরিক এলাকা, এটি দূরবর্তী এডওর্য়াড বিমান ঘাটি (Edwards Air Force Base) থেকে আলাদা।  এরিয়া ৫১ এর মানচিত্র এটি একটি বিশাল সামরিক বিমান ঘাটি এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য পরীক্ষামূলক বিমান এবং অস্ত্র পদ্ধতি উন্নয়ন এবং পরীক্ষা।  এরিয়া ৫১ এর ব্লুপ্রিন্ট এটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বিশাল প্রশিক্ষন (NTTR নেভেদা টেস্ট এন্ড ট্রেনিং রেঞ্জ) কেন্দ্র। অস্থায়ী ভাবে একে বলা হয় নেইলস এয়ার ফোর্স রেঞ্জ (NAFR)। এই ঘাটি পরিচালনা করে নেইলস এয়ার ফোর্স বেসের ৯৯ এয়ার বেস উইং। এর একটি অশং এই বেস থেকে ১৮৬ মাইল (৩০০ কিঃমিঃ) দূরে মোজাভ মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বিমান ঘাটিতে অবস্থিত এর নাম এয়ার ফোর্স ফ্লাইট টেস্ট সেন্টার (AFFTC)।   এর নাম এরিয়া ৫১ এই নাম সরকারি ভাবে CIA ব্যাবহার করে।এছাড়াও এর অন্য অনেক গুলি নাম আছে যেমনঃ ড্রিম ল্যান্ড (Dream Land), প্যারাডাইস রেঞ্চ (Pradise Ranch), হোম বেস (Home Base), ওয়াটার টাউন স্ট্রিপ (Watertown Strip), গ্রুম লেক (Groom Lake)। এ ছাড়াও কিছুদিন আগে এর আরো একটি নাম দেয়া হয় হোমি এয়ার পোর্ট (Homey Airport)।  এরিয়া ৫১ এই স্থানটি নেলস মিলিটারি অপারেশন এরিয়ার অর্ন্তগত। এই স্থানের চারদিকের আকাশ অন্য সবার জন্য নিষিদ্ধ, এই আকাশসীমা (R-4808N) হিসাবে পরিচিত। পাইলটরা এই এলাকার আকাশকে বলে “দি বক্স” অথবা “দি কনটেইনার”।  গাড়ি পার্ক করার স্থান এটি অন্যসব বিমান ঘাটির মতো সাধারন কোন বিমানঘাটি নয় এবং এখানে সাধারন কোন কাজও হয় না। এখানে চরম গোপনীয়তার মধ্যে সামরিক বাহিনীর জন্য এমন সব অস্ত্র, বিমান, ক্ষেপনাস্ত্র তৈরী করা যা অন্য কেউ জানে না। এক কথায় বলা যায় অত্যন্ত শ্রেণীবদ্ধ সামরিক/প্রতিরক্ষা বিশেষ এক্সেস প্রোগ্রাম Special Access Programs (SAP)। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নতুন বিমান অস্ত্র পদ্ধতি বা গবেষনা প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন, টেস্টিং, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। মার্কিন বিমান বাহিনী ও CIA এর দ্বারা এই প্রকল্প অনুমোদিত।   এরিয়া ৫১ সর্ম্পকে মার্কিন সরকার ১৪ জুলাই ২০০৩ পর্যন্ত কোন কিছু স্বীকার করেনি। পরর্বতিতে মার্কিন সরকার স্পস্টভাবে Concedes (বিভিন্ন আদালতে নথিভুক্ত এবং সরকারি নির্দেশ) শুধু এইটুকু বলেছে যে গ্রুম লেকের কাছাকাছি একটি “অপারেটিং অবস্থান” আছে এর বাইরে অতিরিক্ত আর কোন তথ্য জনগনকে জানানো হয়নি।  সরকারি যে ম্যাপ আছে (যেই ম্যাপ জনগন দেখতে পারে) সেখানে এরিয়া ৫১ এর অবস্থান উল্লেখ্য করা নেই। মার্কিন জিওলজিক্যাল উপগ্রহ মার্কিন ভূপৃস্টের যে ম্যাপ তৈরী করেছে সেখানে শুধু গ্রুম লেকের অবস্থান দেয়া আছে।   নেভেদার যোগাযোগ মন্ত্রনালয় বেসামরিক বিমান চলাচলের যেই ম্যাপ তৈরী করে সেই ম্যাপে শুধু উল্লেখ্য করা থাকে বিশাল একটি এলাকার আকাশ উড্ডয়ন নিষিদ্ধ একে বলা হয় “নেইলস উড্ডয়ন নিষিদ্ধ আকাশসীমা”। এছাড়াও মার্কিন সরকারের প্রকাশিত যে কোন ম্যাপে এই এরিয়া ৫১ এর কথা উল্লেক্ষ করা নেই।   মার্কিন সরকারের অবাধ তথ্য অধিকারের সুযোগ নিয়ে ১৯৬০ সালে মার্কিন গোয়েন্দা উপগ্রহ “করোনা” নার সাহায্যে এরিয়া ৫১ এর ছবি তোলে এই ছবিতে ৫১ এর ভিতরকার সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে। সাথে সাথে মার্কিন সরকার সেই ছবি মুছে ফেলে।   একই ভাবে মার্কিন “টেরা” উপগ্রহ ৫১ এর অনুরুপ ছবি তুলে তা প্রকাশ করে, মার্কিন সরকার সেই ছবি ২০০৪ সালে মুছে ফেলে। সেই সময় এই ছবি মাইক্রোসফট ও টেরা স্যাটেলাইটের সার্ভারেও ছিল সেখান থেকেও এই ছবি মুছে ফেলা হয়। পরবর্তীতে “নাসার” ল্যান্ডস্যাট ৭ উপগ্রহের সাহায্যে ৫১ এর ছবি তোলা হয়, বর্তমানে এই ছবিটিই সরকারি ভাবে প্রকাশিত এরিয়া ৫১ এর ছবি।   কিন্তু এত কিছু চেস্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাশিয়ার গোয়েন্দা উপগ্রহ “ইকনস” ও রাশিয়ার বেসামরিক উপগ্রহ আমেরিকা রাশিয়ার ঠান্ডা যুদ্ধের সময় এই এরিয়া ৫১ এর ভিতরে কি হচ্ছে তা জানার জন্য (রাশিয়ার নিজেদের প্রয়োজনে) এর উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি তোলে। এই ছবিতে ৫১ এর ভিতরকার প্রায় সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এরিয়া ৫১ এর ভিতরকার ছবি আর গোপন নেই নেটে এর প্রায় সব ছবি পাওয়া যায়।   এই ছবিতে দেখা যায় যে এরিয়া ৫১ এর ভিতরে সাতটি রানওয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে রানওয়ে 14R/32L এটি লম্বায় প্রায় 23,300 feet (7,100 m)। অন্য রানওয়ে গুলি পীচের তৈরী এর মধ্য 14L/32R রানওয়ের দৈর্ঘ্য 12,000 feet (3,700 m), রানওয়ে 12/30 এর দৈর্ঘ্য 5,400 feet (1,600 m)।  অন্য চারটি রানওয়ে সল্ট লেকের মধ্যে অবস্থিত। এর মধ্যে 09L/27R ও 09R/27L রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় 11,450 feet (3,490 m), আর অন্য দুইটি 03L/21R ও 03R/21L, দৈঘ্য প্রায় 10,000 feet (3,000 m)। এছাড়াও আছে হেলিপ্যাড।  এরিয়া ৫১ এর ঘাঁটি ছবিতে আরো দেখা যায় বড় বড় গুদাম ঘর, আবাসিক এলাকা,ফায়ার স্টেশন,বিশাল আকারের পানির ট্যাংকি, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রন টাওয়ার, খেলাধুলা করার জন্য টেনিস এবং বেসবল কোর্ট। আরো আছে যোগাযোগের জন্য বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট ডিশ।  এরিয়া ৫১ এ রাডার ডিস সাদা রং করা অনেকগুলি সরকারি ট্রাক ও ভ্যান পার্কিং এরিয়ায় রাখা আছে। বেশ কয়েকটি বোয়িং 737 বিমান রানওয়েতে দাড়িয়ে আছে।খুব সম্ভবত এই বিমানে করে কাজ করার জন্য শ্রমিকদের আনা নেয়া করা হয়।  এরিয়া ৫১ এ জ্বালানি তেলের ট্যাংক অন্য একটি স্থানে কালো রং করা একটি F 16 যুদ্ধ বিমানকে পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়। এই কালো রং করা যুদ্ধ বিমান মার্কিন বিমান বাহিনী সাধারনত রাত্রি কালিন অভিযানে ব্যাবহার করে। কালো রং করা অনেক গুলি হেলিকপ্টারকে পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়।  নিয়ন্ত্রন টাওয়ার এখানে অন্য আর পাঁচটি সাধারন বিমান ঘাটির মতো বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার আছে। ধারনা করা হয় এরিয়া ৫১ এর ভিতরে যে সব অত্যাধূনিক বিমান এবং স্যাটেলাইট তৈরী করা হয় সেগুলিকে মানুষের চোখের আড়ালে এবং মরুভূমির তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য এই হ্যাঙ্গারগুলিকে ব্যাবহার করা হয়।  হ্যাঙ্গার এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা অনেক শক্তিশালী। এই বেসের আনুমানিক ১৫৫ মাইল উত্তর এবং উত্তর পূর্বকোনে ৯৪০০ ফুট উঁচু “বেলডে” নামক একটি পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল একটি রাডার স্থাপনা আছে। কিন্ত এই রাডারটি কি ধরনের তা জানা যায়নি। তবে ধারনা করা হয় এটি আকাশ পথ নজরদারী রাডার ARSR 4 (Air Route Surveillance Radar) এই ধরনের রাডার মার্কিন বিমান বাহিনী ব্যাবহার করে।   এটি শুধু একটি রাডার নয় একসাথে অনেক গুলি রাডারের একটি নেটওর্য়াক ব্যাবস্থা। এই রকম আরো একটি রাডার আছে গ্রুম লেকের উওর দিকে আর একটি পাহাড়ের চুড়ায় মাটি থেকে প্রায় ৪৩০০ ফুট উপরে। এই রাডার গুলি পরিচালনা করার জন্য কোন মানুষের প্রয়োজন নেই এই রাডার সাইটের সব স্বয়ংক্রিয়।   এরিয়া ৫১ এ ঢোকার জন্য কোন পিচের রাস্তা নেই। শুধু একটি মাটির রাস্তা আছে যা নেভেদার হাইওয়ে ৩৭৫ সিস্টেমের সাথে সংযোগ করা। এই রাস্তাটি প্রায় ৩৫ মাইল লম্বা, এর মধ্যে পশ্চিম এবং উওর পশ্চিম দিকে ১০ মাইল পড়ে এই রাস্তার এক মাথা বন্দ।  এরিয়া ৫১ এর মূল গেট এরিয়া ৫১ এর মূল গেট ঘাটি থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে অবস্থিত। এই গেটের কাছে বিশাল এক সাইন বোর্ডে বড় করে সতর্কবাণী সাইন জানায় যে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং “ফোটোগ্রাফি নিষিদ্ধ” এলাকা।  Mobile CC Camera জেনে নেই এই এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থার একটু ঝলক। এত সুরক্ষিত স্থান, নিরাপত্তাও সর্বাধুনিক। এর এলাকার চারিপাশে না আছে কোন দেয়াল বা কোন বেড়া। শুধু আছে কয়েকটি সাইনবোর্ড। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে কাজ করে অনেক প্রযুক্তি। যেমনঃ Mobile CC Camera, Motion detector (নড়াচড়া পর্যবেক্ষক), Laser detector (লেজার পর্যবেক্ষক), Sound detector (শব্দ পর্যবেক্ষক) আর সব থেকে আধুনিক Smell detector (ঘ্রান পর্যবেক্ষক) আর এছাড়া আকাশ পথ দেখার জন্য রয়েছে রাডার। এই ঘ্রান পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আসে পাশে থাকা যে কোন মানুষ বা বন্য প্রানীর অস্তিত্ব তারা পর্যবেক্ষন করতে পারে। এখন মনে করেন, আপনি কোন ভাবে ঢুকে গেলেন. আর আপনার অস্তিত্ব ধরা পরবে এই সেন্সর গুলিতে তা নিশ্চিত থাকেন। আর ধরা পড়লেই চলে আসবে সুরক্ষায় নিয়জিত বাহিনী। সুরক্ষায় যারা থাকে তারা আবার পদাতিক বাহিনী (Army) বা বিমান বাহিনীর কোন পোষাক পরা থাকবে না। এরা শুধু মাত্র এরিয়া ৫১ এর সুরক্ষার জন্য নিয়জিত। তবে এদের আচার আচারন সামরিক বাহিনীর লোকদের মতই। এখানে অনেক উপরের নীতি নির্ধারকদের অনুমতি বাদে প্রবেশ সম্পুর্ন নিষেধ আর ঢুকলেই তার মৃত্যু অনেকটাই অবধারিত। কেননা ক’দিন আগেও যে স্থানের কোন অস্তিত্ব ছিল না কাগজ কলমে সেখানে সাধারন আইন কানুন মানা হয় না। তাই আপনার কোন বিচার হবে না কোন আদালতে। মাঠেই আপনার বিচার, মাঠেই আপনার শাস্তি। মানবাধিকার এখানে কোন মূল্য রাখে না। এবার ধরুন আপনি কোন মতে এই সব সুরক্ষা ব্যাবস্থাকে কাটিয়ে ভিতরে ঢুকলেন। এবার আরো বড় সমস্যা। মনে রাখবেন এটি মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত। আর আপনাকে পারি দিতে হবে প্রচন্ড গরমে শুকিয়ে যাওয়া গ্রুম লেক। এখানে যদি আপনি অবস্থান করতে যান তাহলে দিনে আপনাকে ৪ গ্যালন পানি পান করতে হবে। তা না হলে আপনি ৪ দিনের বেশী টিকে থাকতে পারবেন না। আর রাতের বেলা সম্মুক্ষিন হবেন শীতের। অর্থাৎ এত কিছু নিয়ে কোন ভাবেই আপনি সুরক্ষা দেওয়ার ভেদ করতে পারবেন না। আর ধরুন আপনি একটা গাড়ি নিয়ে কোন এক ভাগ্যের জোরে পার করলেন সব সুরক্ষা ব্যাবস্থা। এখন আপনাকে পারি দিতে হবে এই গ্রুম লেক। গাড়ি চালাচ্ছেন মনের সুখে। ভাবছেন একটানে চলে যাবেন এরিয়া ৫১ এর প্রানকেন্দ্রে। কিন্তু আপনি যাচ্ছেন শুকিয়ে যাওয়া এক লেকের উপর দিয়ে। আপনার পিছে উড়ছে বালি। আর অনেক দূর থেকেই বোঝা যাবে আপনার অবস্থান। এখন বুঝলেন প্রাকৃতিক ভাবেও এই এরিয়া ৫১ কেমন সুরক্ষিত।   এরিয়া ৫১ এর আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকে অনেক রকম কথা বলেছে। তাদের অনেকের দাবী এরিয়া ৫১ এর আকাশে ফ্লাইং সসারের মত মত কিছু উড়তে তারা দেখেছেন। আবার অনেকেই নাকি এমন দ্রুতগতির বিমান উড়তে দেখেছেন যার গতি সাধারণ বিমান বা যুদ্ধবিমান কোনোটার সাথেই মিলে না।   তবে এসব বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছেন এরিয়া ৫১ এ কর্মরত পদার্থ বিজ্ঞানী বব লেজার। এক টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন এরিয়া ৫১ এমন কিছু মৌলিক পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয় যা আবিষ্কারের ঘোষণা এখনও দেওয়া হয় নি। তিনি অবশ্য কিছু ধোয়াটে বক্তব্য দিয়েছেন একটি মৌলিক পদার্থ নিয়ে। তার মতে সুপারনোভা বা বাইনারি স্টার সিস্টেম থেকেই সম্ভবত একটি মৌল সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মাত্র ২.২ পাউন্ড কিন্তু এটি দ্বারা ৪৭টি ১০ মেগাটন হাইড্রোজেন বোমা বানানোর জন্য যথেষ্ট। ওখানে নাকি একটি টাইম মেশিন আছে। টাইম মেশিনে এই মৌলটি রাখা হলে টাইম মেশিনটি সময়কে স্থির করে রাখতে পারে। তারা নাকি সময় স্থির করে রাখার পরীক্ষা চালিয়ে সফলও হয়েছেন। তার মতে টাইম মেশিনটি ঐ মৌলিক পদার্থটিকে ব্যবহার করে কোন এক ভাবে অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করে এবং তারফলে বিপুল শক্তি উৎপাদিত হয়। অ্যান্টিম্যাটার রিয়েক্টরে শক্তি উৎপাদনের ফলে বস্তুর নিজস্ব মহাকর্ষ বলের সৃষ্টি হয় এবং নিজস্ব শক্তিতে তা বিদুৎ বেগে ছুটতে পারে এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাকি ওখানে ফ্লাইং সসার তৈরির গবেষণা চলছে।  তবে বব সবচেয়ে বড় বোমা ফাটান এই বলে সেখানে নাকি এলিয়েন দের নিজে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক ফ্লাইং সসার আছে। ওখানে এলিয়েনটির ব্যবচ্ছেদ করে নাকি পাওয়া গেছে ঐ প্রাণীটি এসেছে রেটিকুলাম ৪ নামক জ্যোতিষ্ক থেকে। প্রাণীটির উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট শরীর রোমহীন কালো বড় বড় চোখ এবং শরীর কৃশকায়। দেহ ব্যবচ্ছেদ করে নাকি ফুসফুস ও হৃৎপিন্ডর বদলে বিশাল এক পতঙ্গ পাওয়া গেছে।   তবে এতসব বিতর্কই শেষ নয়। এরিয়া ৫১ নিয়ে চলমান বিতর্কের সব চেয়ে বড়টি হল মানুষের চাঁদে যাওয়া নিয়ে নাটক। মানুষ চাঁদে গিয়েছে এ নিয়ে নাটকের কি আছে? আপনারা হয়ত তা বলবেন। কিন্তু দুনিয়াতে প্রচুর সন্দেহবাদী যাদের ধারনা মানুষ কখন চাঁদে যায়নি। পুরো নাটকটি সাজানো হয়েছে এই এরিয়া ৫১ এরভিতর। মানুষ প্রথম চাঁদে গিয়েছিল ১৯৬৯ সালে, এর পর আজ পর্যন্ত একবারও কেন মানুষ চাঁদে যায় না? মজার ব্যাপার হচ্ছে এত বিতর্ক চললেও আমেরিকান সরকার এসব কোনোকিছুই স্বীকার করেনি আজ পর্যন্ত। তাতে সন্দেহ না কমে বরং আরো বেড়েছে। এ নিয়ে আরেকটি পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনা করব।   এরিয়া ৫১ বিশ্বের কাছে এটি মার্কিন সরকারের এক বিশাল সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও অনেকে এটিকে “এরিয়া অফ কন্সপেরেসি” অথবা “ষড়যন্ত্রের এলাকা” বলে থাকে। ধারণা করা হয়, কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ু যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমেরিকা লোক চক্ষুর অন্তরালে উন্নত মানের যুদ্ধ বিমান এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির গবেষণা এবং পরীক্ষা চলতো এ অঞ্চলে। জায়গাটিতে জনসাধারনের প্রবেশ নিষেধ হলেও “ন্যাশনাল জিওগ্রাফি” এ অঞ্চলের কিছু ছবি প্রকাশ করে।  একটি টাইটানিয়াম এ ১২ স্পাই বিমানের প্রটোটাইপ রাডার পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে একটা ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৫০ এবং ১৯৬০ সালের দিকে অক্সকার্ট নামে একটা প্রকল্পের আওতায় তৈরি হয় A12 বিমান। এই বিমানটি ছিল U2 নামের একটি স্পাই বিমানের উত্তরসূরী এবং বর্তমান SR71 BLACKBIRD স্পাই বিমানের পূর্বরুপ।   বিমানটির বিশেষত্ব ছিলো, এটি রাডারের হাতে চিহ্নিত না হয়ে ঘন্টায় ২২০০ মাইল (৩৫৪০ কিঃমিঃ) বেগে উড়বার ক্ষমতা ছিল। ৯০০০০ হাজার ফুট উপর থেকে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার মাধ্যমে মাটিতে থাকা ১ফুট দৈঘ্য সমান বস্তুর ছবি তোলার ক্ষমতা ছিল এই বিমানটির। কিন্তু আমেরিকার সরকার একে আরো উন্নত করতে গিয়ে এক বিশাল দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে। দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে সরকার ব্যাপারটি লুকিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।  এ ১২ বিমানের ধ্বংসাবশেষ দুটি ইঞ্জিন, ছিন্নভিন্ন পেছনের ফিউজলাজ পরীক্ষামূলক বৈমানিক কেন কলিন্স (এরিয়া ৫১ এ যার ছদ্মনাম কেন কলমার) ন্যাশনাল জিওগ্রাফীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান ওই দিনের ঘটনা। তিনি ওই দিন বিমানটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে সম্পৃক্ত ছিলেন। হঠাৎ সব কিছু উলোটপালোট হয়ে পড়ে যখন তিনি খুব লো অ্যাল্টিচ্যুড এ বিমানের সাবসনিক ইঞ্জিনটিকে পরীক্ষা করতে শুরু করেন। ২৫০০০ ফিট উচ্চতায় আকস্মিকভাবে বিমানের মাথা উপরের দিকে উঠতে থাকে তারপর উল্টে যায় এবং অনুভূমিক ঘুরতে শুরু করেন। এ ধরণের পতনের হাত থেকে উড়োজাহাজকে রক্ষা করবার উপায় নেই। আর তাই তিনি বের হবার সিদ্ধান্ত নেন।  আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে রেসপন্স টিমকে প্যারাসুটের মাধ্যমে যখন মাটিতে নামতে সামর্থ হন তখন তিনি বিস্মিত হয়ে দেখেন স্থানীয়দের বেশে তিনজন লোক তার জন্য পিকআপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এরা কলিনকে ধ্বংসাবশেষের কাছে নিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু কলিন তাদেরকে নিয়ে উল্টো পথে রওনা দেন এবং তাদের জানান যে বিমানে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে এর কারন এই ধরণের গল্প আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হয়েছিল।   সরকারি কর্মকর্তারা একটু পরে এসে জায়গাটি পরিস্কার এবং ধামাচাপা দেবার কাজ শুরু করে। পরের দিন সকালের আগেই সমস্ত ধ্বংসাবশেষ একটা ট্রাকের মাধ্যমে এরিয়া ৫১ তে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী অর্ধশতকের মধ্যে কেউ এই জায়গাটিতে আর আসেনি।  এ-১২ এর সমস্ত প্রমাণ ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে সরানো হচ্ছে তবে অ্যারোস্পেস বিশেষজ্ঞ পিটার মারলিনের মতে ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ ডায়নামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার চিন্তা ভাবনা ছিল যাতে কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে তা চিহ্নিত করা সম্ভবনা হয়। আজ এ ঘটনাকে লুকিয়ে রেখে আর কোন সুবিধা পাওয়া যাবে না বিধায় সিআইএ এই ছবি গুলো প্রকাশ করেছে বলে মনে করেন ইতিহাসবিদ ডেভিড রবার্জ। ২০০৭ সালে অক্সকার্ট প্রকল্প সংক্রান্ত অনেক তথ্য প্রকাশ পায়। এর মধ্যে ছিলো এয়ার ফোর্সের কাছ থেকে নয়টার মধ্যে থেকে একটা A12 বিমান তারা অধিগ্রহন করেছে যা এখন সিআইএ এর প্রধান কার্যালয়ে শোভা পাচ্ছে।  ক্রেনের মাধ্যমে সমতল ট্রাকে এ-১২ এর ধ্বংশাবশেষ তোলা হচ্ছে যদিও সিআইএ ঘটনার কিছু ছবি প্রকাশ করেছে তথাপি এ ব্যাপারে কারা জড়িত ছিল বা কিভাবে এটি সম্পন্ন হলো সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। অ্যারোস্পেস ঐতিহাসিক পিটার মারলিন, দুর্ঘটনার জায়গাটি কয়েকবার প্রদর্শন করেছেন। তার মতে A12 এর ফিউজলাজ এবং পাখা ব্লো টর্চ দিয়ে কেটে আলাদা করে ট্রাকে তোলা হয়, সাথে তোলা হয় লেজ এবং আর যে সকল বড় বড় যন্ত্রাংশ ছিল সেগুলোকে। পড়ে থাকা ছোট ছোট যন্ত্রাংশ গুলোকে বক্সে ভরা হয়েছিল।  পরিস্কার করবার আগে যাতে বিমান থেকে দেখা না যায় তাই তারপুলিন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে পরিস্কার করার আগে যাতে কোন বিমান থেকে কিছু দেখা না যায় তাই তারপুলিন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। যখন দুর্ঘটনাটা ঘটে তখন অক্সকার্ট প্রকল্পটি খুব গোপনীয় প্রকল্প ছিলো, এটি প্রকাশ হলে আমেরিকার শত্রুরা বিকল্প বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়ে ফেলতো তাই সরকার এ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়।  ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা টাইটানিয়ামের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা টাইটানিয়ামের টুকরো আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চারিদিকে। পিটার মারলিন জানান, এলাকা ঘুরে এ ধরনের অনেক টুকরা তিনি দেখতে পেয়েছেন। তিনি এখানে বিমানের পাখা এবং ককপিটের কিছু অংশও পেয়েছেন যাতে এখনো ‘স্কাঙ্ক অয়ার্ক্স’ এর ছাপ দেয়া আছে। স্কাঙ্ক অয়ার্ক্স ছিল প্রতিরক্ষা বিভাগের একটা ভাগ।  ডামি এখানে A 12 এর একটা ডামি দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ান স্পাই স্যাটেলাইট থেকে রক্ষা করবার জন্য এরিয়া ৫১ এ যারা কাজ করত তারা ডামিটা তৈরি করে। এছাড়া এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখত ডিজাইনটা কতটা রাডারে ধরা পরে বা না পরে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এ বিমানটি বানাতে যে ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে তার উৎপত্তি রাশিয়াতে। বিমান তৈরিতে ৯৩ ভাগ টাইটানিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়েছিল। আর এ ধাতু গোপনে সংগ্রহ করা হয় রাশিয়া থেকে।  SR-71 BLACKBIRD ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ব্ল্যাকবার্ড স্পাই বিমান হিসেবে কাজ করে। এর উৎপত্তিও ঘটেছে এরিয়া ৫১ এ। A12 এর চাইতে এ বিমানটি আকারে বড়, আরো বেশি তেল বহন করতে পারে এবং ধার গুলো তীক্ষ্ণ হবার কারণে আরো বেশি স্থিতিশীল এবং নিজেকে লুকাতে পারে। এ বিমানে লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি যেতে লাগে মাত্র ৬৪ মিনিট।   এরিয়া ৫১ আজও গবেষণা করে যাচ্ছে আরো আধুনিক কোন সমরাস্ত্র তৈরির সংকল্প নিয়ে। কিন্তু আবার কয়েক যুগ না গেলে সে সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে পারবো না। যদিও এ ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে কিন্তু তবুও রবার্জকে এর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘দুঃখিত, আমি এ ধরণের কিছু জানি না।’   এ পর্যন্ত এরিয়া ৫১ নিয়ে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা সবই তুলে ধরলাম। এখন একবার চিন্তা করুন, কিছু মাত্র তথ্য প্রকাশ পেয়েছে তাই এত কিছু আর যদি সব কিছু জানা যেত তাহলে কত কিছুই না বের আসত এই এরিয়া ৫১ এর গর্ভ থেকে।   এবার তাহলে দেখে নেই ভিডিও ডকুমেন্টরি গুলি। প্রথম ভিডিও ডকুমেন্টরি বানিয়েছে Discovery চ্যানেল। Link দ্বিতীয় ভিডিও ডকুমেন্টরি বানিয়েছে History চ্যানেল। Link এই ভিডিও ডকুমেন্টরি দেখে নিশ্চয় অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। তবে মনে রাখবেন এখানে তাই দেখানো হয়েছে যা দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই এরিয়া ৫১ এর সব রহস্য আজ পর্যন্ত জানা সম্ভব হয় নায়। হয়ত কোন এক সময় আমরা শুনব কয়েক বছর আগেই এটা বানানো হয়েছিল এরিয়া ৫১ এ। যেমন কয়েক দশক পরে আমরা জেনেছি F117 এর কথা।  F117 হয়ত কোন একদিন শুনব মানুষ উড়াচ্ছে UFO আরো কত কিছুই তো হতে পারে। সে সব সম্ভাবনা পরে রইল ভবিষ্যতের জন্য।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »