Ultimate magazine theme for WordPress.

বিয়ের নামে ইতালি প্রবাসীর প্রতারণা

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ইতালি প্রবাসীর বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিবাহিত স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। হুমকি দেয়া হয়েছে ডাকাত দিয়ে হত্যা করার।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দুই মেয়েসহ নির্যাতনের শিকার শারমিন সুলতানা। এতে তিনি জানান, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের ওয়ারুক গ্রামের ইতালি প্রবাসী শহিদুল হোসেন নারুই গ্রামের শারমিন সুলতানার বড় মেয়ে ছাবিকুন্নাহার নীলাকে বিয়ে করে।

নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর ১৫-২০ দিন স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন করে নীলা ও শহিদুল। এরপর শহিদুল ইতালিতে চলে যায়। বিয়ের পর ছয় মাস পর্যন্ত স্ত্রী নীলার সঙ্গে সে স্বাভাবিক যোগাযোগ রক্ষা করে। এরপরই সে বিয়েকে অস্বীকার করে।

দেশে ফিরে শহিদুল আবার বিয়ে করতে গেলে নীলা তার বাড়িতে গিয়ে অনশন করে। পরে এ ঘটনায় নীলা বাদী হয়ে শহিদুল গংদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন।

এ মামলায় শহিদুল ১৫ দিন জেলও খাটে। পরে শহিদুলের লোকজন নানা কলাকৌশলের আশ্রয় নিয়ে মামলাটি খারিজ করে নেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নীলার মা।

এখন উল্টো নীলার পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাছাড়া নীলার বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়ে তাকে হেয় করা হচ্ছে।
শারমিন সুলতানা বলেন, শহিদুলের ছোট ভাই মাহমুদুল হক বাদী হয়ে তার দুই মেয়ে ও তাকেসহ ৫ জনকে আসামি করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

তাছাড়া স্থানীয় আলী আজম ডাকাতকে দিয়ে তাদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে মাহমুদুল হক। নীলার বিষয়টি মীমাংসার নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নীলার পরিবারকে হেনস্তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বছর শিবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে এ নিয়ে এক সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি অলি মাস্টার, শহিদুলের চাচা সম্পর্কীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. জামাল উদ্দিন, শিবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল হক ও পুলিশ ফাঁড়ির এসআই এহসান ঘটনাটি ১ লাখ টাকা দিয়ে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চালান। এ নিয়ে আরেক দফা সালিশ হয়।

ওই সালিশে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনার রফাদফা করেন জেলা যুবলীগের এক নেতা কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই টাকা পাননি শারমিন সুলতানা। মেয়ের সঙ্গে হওয়া এ ঘটনার বিচার পেতে শারমিন স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুলের দ্বারস্থ হন।

শহিদুল ও তার ভাই মাহমুদুল হকসহ তাদের সাঙ্গোপাঙ্গদের হাত থেকে রক্ষা পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপ কামনা করেন নীলার মা শারমিন সুলতানা। এ সময় তিনি তাদের বিচার দাবি করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »