Ultimate magazine theme for WordPress.

আশুলিয়ায় দফায় দফায় দল বেঁধে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক♦ 

সাভারের আশুলিয়ায় টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে (২০) ডেকে এনে দল বেঁধে দফায় দফায় ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকা ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাঁচ তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলো রাজশাহীর রাজাপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম (১৮), আশুলিয়ার রোস্তমপুর এলাকার পাপ্পু সাহা (১৯), মিলন (২২), জ্যোতির্ময় সাহা (১৯) ও অন্তর (২০)। ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে ডেকে এনে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ শেষে তার মোবাইল রেখে দেয় সাত তরুণ। এরপর ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ও মোবাইল ফেরত দেওয়ার কথা বলে পুনরায় ডেকে এনে গত বুধবার রাতে তাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় গতকাল সকালে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ঢাকার মিরপুর থেকে আশুলিয়ায় ডেকে আনে ওই এলাকার সাইফুল ও অন্তর। পরে কৌশলে তাকে স্থানীয় একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় তারা। এরপর সেখানে থাকা তাদের আরও পাঁচ বন্ধুসহ সাতজন মিলে ওই নারীকে দল বেঁধে ধর্ষণ করে। এ সময় মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও  ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইলটিও রেখে দেয় ধর্ষণকারীরা। পরবর্তীকালে মোবাইল ফেরত দেওয়ার কথা বলে গত বুধবার ওই নারীকে ডেকে এনে আবারও দল বেঁধে ধর্ষণ করে তারা। এরপরও ধারণ করা ধর্ষণের সেই ভিডিও ফাঁস করার কথা বলে তাকে আবারও আশুলিয়ায় আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে উপায় না পেয়ে স্বামীকে ঘটনাটি খুলে বলে ভুক্তভোগী ওই নারী। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই নারীর দেওয়া তথ্যমতে রাতভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাঁচ তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রাশিদ জানান, এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তার ও ধারণকৃত ভিডিওটি উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আশুলিয়ার তৈয়বপুরে তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে হেলাল উদ্দিন শেখ (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। গতকাল সকালে আশুলিয়া থানার এসআই জয়ন্ত কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে সাভারে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাতেই নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা করেন।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে এক শিশু ও দুই কিশোরীসহ ছয়জনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ফেনীতে ভাতিজিকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সৎ বাবার বিরুদ্ধে কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এবং ভুঞাপুরে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে প্রতিবেশী দাদা গ্রেপ্তার হয়েছে। সুনামগঞ্জে যুবকের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুরে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নোয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে :

ফেনী : সোনাগাজীতে কিশোরী ভাতিজিকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে তমিজ উদ্দিন নয়ন (৫০) নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায়  কিশোরীর মা বাদী হয়ে নয়নকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করেন। অভিযুক্ত নয়ন উপজেলার ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। সম্পর্কে তিনি ভুক্তভোগীর বাবার চাচাতো ভাই। তবে অভিযুক্ত নয়নের স্ত্রী রাশেদা আক্তারের দাবি, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা ষড়যন্ত্র করে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে  হয়রানি করছে। সোনাগাজী থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার জানান, কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল : ভূঞাপুরে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে প্রতিবেশী দাদা ও চাচা মিলে ধর্ষণ করার অভিযোগে দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা হলে ওইদিন রাতেই উপজেলার বাসুদেবকোল এলাকা থেকে গোলাম মোস্তফা (৫০) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভূঞাপুর থানার ওসি মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, গত সোমবার কাজের কথা বলে চতুর্থ শ্রেণির ওই শিশুকে ঘরে ডেকে নেয় প্রতিবেশী দাদা মোস্তফা ও চাচা ইসমাইল। এরপর দুজনে মিলে মেয়েটিকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ঘাটাইলে সৎ বাবার বিরুদ্ধে কিশোরী মেয়েকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দিগর এলাকার ওই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার হবিবুর রহমান (৫৫) নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন কিশোরীর মা। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয় বলে তার স্বজনদের ভাষ্য। ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) মো. ছাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সুনামগঞ্জ : দোয়ারাবাজার উপজেলায় যুবকের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মানিক মিয়া ছালিক (২৬) নামে অভিযুক্ত ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার রাতে পাশের দ্বীনেরটুক গ্রামে তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় উপজেলার খাইরগাঁও গ্রামের ওই তরুণী। এরপর বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত মানিককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে তার দুলাভাই ও স্থানীয়রা। দোয়ারাবাজার থানার ওসি মুহাম্মদ নাজির আলম জানান, আসামিকে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে জগন্নাথপুরে তরুণীকে ধর্ষণ ও তরুণীর বাবা আনোয়ার মিয়াকে মারপিটের ঘটনায় প্রধান আসামি শামীম আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেলতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা। এ নিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঝালকাঠি : পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় সজল রায় (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের ঠুটাখালী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সজল রায় একই এলাকার কালিপদ রায়ের ছেলে। নাজিরপুর থানার ওসি মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, স্থানীয় চাঁদকাঠি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির প্রতিবন্ধী ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল সজল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মেয়েটিকে বাড়িতে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করে সে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে গত ৩ অক্টোবর মেয়েটির মা বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল সজল। বৃহস্পতিবার সজল বাড়িতে আসার খবর পেয়ে রাতে ঠুটাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালী : হাতিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইউছুফ ডুবাই (৪০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হরনী এলাকার ওই ঘটনায় গতকাল দুপুরে মামলা করার পর ইউছুফকে আটক করে পুলিশ। অভিযুক্ত ইউসুফ ওই এলাকার আনিস মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহারে বলা হয়, কয়েক মাস আগে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধর্ষণ করে একই এলাকার ইউছুফ। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত চার মাস যাবৎ ওই নারীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছে সে। এক পর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে জেলা শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করিয়ে গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করে ইউছুফ। হাতিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, আসামিকে আজ আদালতে পাঠানো হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »