Ultimate magazine theme for WordPress.

রহস্যে ঘেরা যতো স্থান

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক♦

রহস্যকে কখনো বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করা যায়না। এই আধুনিক বিজ্ঞানপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ যুগেও বিশ্বে এমন কিছু স্থান আছে, যা নিয়ে রহস্য আজও কাটেনি। কীভাবে এর সৃষ্টি, কীভাবে এর রহস্য তৈরি হলো- সেই ইন্দ্রজালময় রহস্য এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। তাই আমরা বিশ্বের এমন কিছু জায়গার সঙ্গে পরিচিত হবো, যার ইতিহাস আর কাহিনী আমরা বেশিরভাগই জানিনা।

ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালী

এই ভ্যালি বরফের দেশ এন্টার্কটিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। মনুষ্যহীন এই উপত্যকাটি বিশ্বের অন্যতম একটি শুষ্ক মরুভূমি। গড় বৃষ্টিপাত খুবই কম। এই ভ্যালিটি মূলত মেরুঅঞ্চলের বরফ দিয়ে ঢাকা। হয়তো কিছু শৈবালের দেখা পেলেও বড় গাছ পাওয়া যাবেনা। বিজ্ঞানীদের মতে, এই স্থানের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের অনেকটা মিল রয়েছে।

মাউন্ট রোরাইমা

ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত সমতলবিশিষ্ট এই পর্বতমালার স্থানীয় নাম টিপুই। স্থানটি খুবই দুর্গম আর মেঘে ঢাকা। শুকনো মৌসুমেও টিপুই মেঘে ঢাকা থাকে। ১৫৯৬ সালে মাউন্ট রোরাইমাকে ভূ-বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করে। এর আয়তন ৩১ বর্গ কিলোমিটার আর চারদিক ৪০০ মিটার লম্বা ক্লিফ দ্বারা বেষ্টিত। মজার ব্যাপার হলো এটি ভেনিজুয়েলা, ব্রাজিল আর গায়ানার সীমান্তে অবস্থিত। তবে শুধু ভেনিজুয়েলা সীমান্ত দিয়ে এখানে প্রবেশ করা যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার চলমান পাথর উপত্যকা

ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়া চলমান পাথরগুলো দেখলে মনে হয় এরা নিজে নিজেই স্থান পরিবর্তন করে। কেউ এটা নিজ চোখে নড়তে না দেখলেও পাতলা কাদার স্তরে ছাপ দেখে বোঝা যায় এটি জায়গা পরিবর্তন করে। কিন্তু এতো ভারি পাথর কীভাবে নড়াচড়া করে তা আজও জানা যায়নি। ছাপ দেখে বোঝা যায় যে পাথরগুলো তখনই স্থান পরিবর্তন করে যখন উপত্যকায় পাতলা কাদামাটির আস্তরণ থাকে। ১৯৪৮ সালে এটি বিজ্ঞানীদের নজরে আসে।

নরকের দরজা

এটি একটি জ্বলন্ত গর্ত। তুর্কেমেনিস্তানের ডারভায শহরে অবস্থিত জ্বলন্ত জায়গাটি নরকের দরজা নামে পরিচিত। ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত গর্তটি একটানা দাউ দাউ করে জ্বলছে। প্রথমে এখানে গ্যাস খনির সন্ধান মেলে। তারপর গবেষণায় দেখা যায় সেখানে অল্প পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে। তাই বিষাক্ততা কমাতে সেই গ্যাস জ্বালিয়ে শেষ করে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। গর্ত করে সেই আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার পর থেকে এখনো জ্বলছে সেই গর্ত।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত রহস্য হলো বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। এক বলা হয় শয়তানের ত্রিভূজ। এর অবস্থান আটলান্টিক মহাসাগরের বিশেষ অঞ্চলে। যেখানে এখন পর্যন্ত বেশকিছু জাহাজ ও বিমান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে। যার কোনো হদিসও আর মেলেনি। কেউ এটাকে দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা চালকের অসাবধানতা বলেন। আবার অতিপ্রাকৃত শক্তির কবলে পড়ে এমনটা হয় বলেও ভাবেন অনেকে।

আওকিঘারা

আওকিঘারা জঙ্গল জাপানের একটি রহস্যময় ভয়ংকর ভূখণ্ড। এর অবস্থান জাপানের ফুজি পর্বতের পাদদেশে। আয়তন সাড়ে তিন হাজার হেক্টর। এটি কোঁকড়ানো ও মোচড়ানো গাছপালায় দিয়ে ভরা। স্থানীয় জনগণের ধারণা যে এখানে ভুতের বাস আছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আত্মহত্যার স্থান এই জঙ্গল। আজ পর্যন্ত এখানে পাঁচ শতাধিকের বেশি লোক আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এই জঙ্গলে নিজের প্রাণনাশ কেনো, সেই উত্তর মেলেনি কখনো।

মগুইচেং

চীনের ঝিনজিয়াং অঞ্চলের মরুভূমি মগুইচেং। আক্ষরিক অর্থ শয়তানের নগরী। স্থানটি একদমই পরিত্যক্ত ও জনশূন্য। এখানে বেশ অস্বাভাবিক আর ভৌতিক ঘটনা ঘটে বলে শোনা গেছে। এই যেমন- রহস্যময় শব্দ, বিষন্ন সুর ও গিটারের মৃদু ধ্বনি, বাচ্চাদের কান্না এবং বাঘের গর্জন কেউ কেউ শুনেছেন। তবে এর উৎস অজানা।

চুম্বক পাহাড়

এই পাহাড়ের রয়েছে অদ্ভুত চুম্বক শক্তি। নামের মতো করেই নিউ বার্নসউইকের মঞ্চটন এই চুম্বক পাহাড়টি নিজের যথার্থতার প্রমাণ দিয়েছে। ১৯৩০ সালে এর আবিস্কার। তখন দেখা যেতো পাহাড়টির কাছ দিয়ে কোনো গাড়ি গেলে বেশ অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। কোনো গাড়ি এর উপর দিয়ে পার হবার সময় কোনো কারণ ছাড়াই পিছনের দিকে চলে যেতে থাকতো। এই বিষযে গবেষকরা সিদ্ধান্তে আসেন যে এই পাহাড়ের আশেপাশে কোনো বিশাল চুম্বক রয়েছে হয়তো। লোহার কিছু এর পাশ দিয়ে গেলে সে টেনে নিতে শুরু করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »