Ultimate magazine theme for WordPress.

এবার শ্রমিক লীগ নেতার দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার বিধবা

সিলেটে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক♦

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জেরে দেশব্যাপী তোলপাড়ের মধ্যেই পাশের জেলা লক্ষ্মীপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলেন এক বিধবা। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এদিকে সিলেটে দলবদ্ধ ধর্ষণ, স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ প্রশমিত না হতেই গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এবার অভিযুক্ত শ্রমিক লীগের এক নেতা।

লক্ষ্মীপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার বিধবা, গ্রেপ্তার ২ : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে এক বিধবাকে (৩৮) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের পর ওই নারীর হাত-পা, মুখ ও চোখ রশি ও টেপ দিয়ে বেঁধে ঘরের পেছনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সকালে ভুক্তভোগী নারী রামগতি থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার চরপোড়াগাছা গ্রাম থেকে সোহেল ও জামাল নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

সোহেল চরপোড়াগাছা গ্রামের আবু আহম্মদের ছেলে। জামাল একই এলাকার সৈয়দ আহম্মদের ছেলে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর ওই নারী একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তিনি একাই বাড়িতে থাকেন। আসামিরা তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। সম্প্রতি এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বিধবা নারীর বাগিবতণ্ডাও হয়। তখন বিধবাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। এখনো তাঁর হাত-পায়ে প্লাস্টার (ব্যান্ডেজ) রয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার রাতে দরজা ভেঙে আসামিরা ঘরে ঢুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। নারীর স্পর্শকাতর স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছে। গত রবিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাত-পা, মুখ ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

রামগতি থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটে এবার ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার : সিলেটে দলবদ্ধ ধর্ষণ, স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়ের মধ্যেই এবার গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নগরের শামীমাবাদ এলাকায় গৃহবধূকে ধর্ষণের এ ঘটনায় অভিযুক্ত দিলওয়ার হোসেন ও তাঁর এক সহযোগীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দিলওয়ার শ্রমিক লীগ নেতা বলে জানা গেছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ শামীমাবাদ এলাকার একটি বাসায় থাকেন। একই ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া দিলওয়ার তাঁর দুই সহযোগীর সহযোগিতায় তাঁকে ধর্ষণ করেন। খবর পেয়ে মহানগর পুলিশের লামাবাজার ফাঁড়ির পুলিশ গত রবিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত দিলওয়ার ও তাঁর এক সহযোগী হারুন মিয়াকে আটক করে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ গতকাল সকালে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। গতকাল বিকেলে দিলওয়ারসহ দুজনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, ‘মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেছেন, দিলওয়ার তাঁকে ধর্ষণ করেছে এবং আরো তিনজন ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে।’

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাঁদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁরা এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক কিশোরীকে বাসার ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগকর্মী রাকিব হোসেন নিজু। এ ঘটনায় গত শুক্রবার নিজুকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা। পরে শনিবার সন্ধ্যায় জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা থেকে নিজুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রবিবার পুলিশ নিজুকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ : জয়পুরহাট পৌর শহরের হাজীপাড়ার এক শিশুকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গত রবিবার রাতে ফারুক হোসেন (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফারুক একই এলাকার বাসিন্দা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, গত রবিবার দুপুরে ফারুক প্রতিবেশী শিশুটিকে ফুসলিয়ে বাড়ির অদূরে আখক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে সন্ধ্যায় শিশুটির নানি জয়পুরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

জয়পুরহাট সদর থানার ওসি শাহরিয়ার খান বলেন, আসামি ফারুককে আদালতের মাধ্যমে গতকাল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ভিডিও ধারণ, ভাইরাল করার হুমকি : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারপিটের পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন তাঁর বন্ধু। ধর্ষণের কথা কাউকে বললে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার উপজেলার ধারাবাশাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা কোটালীপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত আলী হোসাইন হাওলাদার ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি পূর্ণবর্তী গ্রামের মহসিন হাওলাদারের ছেলে। তাঁর বন্ধু মাসুদ হাওলাদার একই গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদারের ছেলে।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মেয়েটির এক স্বজন জানান, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাজা হাওলাদার ও সরোয়ার তালুকদার মেয়েটির বাবাকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিয়েছেন।

কোটালীপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া বলেন, ‘দোষীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’

নারায়ণগঞ্জে স্কুলপড়ুয়া ফুফাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ : নানাবাড়িতে সেভেন আপ নিয়ে আসেন মামাতো দুই ভাই ও তাঁদের এক বন্ধু। সেভেন আপ পান করতেই ঘুমিয়ে পড়েন নানি। ঘুম ঘুম লাগছিল স্কুলপডুয়া ফুফাতো বোনের (১৪)। এই অবস্থায় তিনজন টেনেহিঁচড়ে পাশের কক্ষে নিয়ে যান অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েটিকে। এরপর দুজন হাত ধরে রাখেন আর জাহিদ নামের মামাতো ভাইটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। গতকাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুন ভুক্তভোগী মেয়েটির এই জবানবন্দি ২২ ধারায় রেকর্ড করেন।

অভিযুক্ত জাহিদ (২১) বন্দরের নবীগঞ্জ বড়বাড়ী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে। এ ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন জাহিদের ছোট ভাই আসিফ ও তাঁদের খালাতো ভাই রোহান। গত শনিবার এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মেয়েটির মা রবিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে মেয়েটি। অনেক দিন ধরেই আসামি জাহিদ তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী মেয়েটি জবানবন্দিতে জানায়, তার চিৎকারে প্রতিবেশী রমজান ও রহমান নামের দুজন এগিয়ে আসেন। তখন আসামিরা দৌড়ে পালিয়ে যান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোদাচ্ছের হোসেন জানান, মামলা গ্রহণ করে মেয়েটির ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেয়েটির মেডিক্যাল চেকআপও হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »