Ultimate magazine theme for WordPress.

অতৃপ্ত শারীরিক সম্পর্ক: পরকীয়ার প্রথম ধাপ

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক

সৈকত হাসান, (ছদ্ম নাম) একজন বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা। বয়স চল্লিশ ছুই ছুই। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন ১২ বছর আগে। দাম্পত্য জীবনেও পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। তার স্ত্রীও পেশায় একজন ব্যাংকার। ফলে দু’জনেই সারা দিন ব্যস্ত থাকেন। কর্মময় জীবন। এদিকে একমাত্র সন্তানের বয়সও নয় বছর চলছে। এরপর আর কোন সন্তান নেননি এই দম্পতি। কেন নেননি? এমন প্রশ্নের জবাবে সৈকত জানান, নেওয়া হয়ে উঠে নি। সবচেয়ে ভীতিকর যে, তারা বহু দিন ধরে শারীরিক সম্পর্কের বাইরে। অথচ এখন একসাথে থাকেন। একই ছাদের নিচে সংসার। একই রুমে বসবাস। কিন্তু ক্লান্তি, ব্যস্ততা, সময় সবকিছু মিলিয়েই যেন অতৃপ্ত তাদের শারীরিক সম্পর্ক।

আর এভাবেই একদিন নিজের সহকর্মীর দিকে ঝুঁকে পরেন তিনি। এখন প্রায়ই বাইরে সময় কাটান। মেজাজও থাকে ফুরফুরে। কিন্তু তার স্ত্রীরও বিষয়টা বুঝতে বাকি থাকে না। ফলে, ছোট-খাট কলহে বিষিয়ে উঠছে তাদের দাম্পত্য জীবন। আর এতে করে একমাত্র শিশুটির ব্যাহত হচ্ছে মানসিক বিকাশ। সৈকত হাসানের মতো লোকদের সংখ্যা যেন ক্রমেই বাড়ছে এই রাজধানীতে। রাজধানী ঢাকার অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে রয়েছে এই রকম নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প। পরকীয়া প্রেম বাঙ্গালির কাছে নতুন কিছু নয়। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিতেই তা ছিল।

কিন্তু গত কয়েক বছরে এই ধরণের পরকিয়ার মাত্রা অনেক গুণ বেড়েছে। গবেষণা গুলো অন্তত তাই বলে। আর এই বিষয়ে অনেকেই একাত্মতা প্রকাশ করেন। কিন্তু সমাজতাত্ত্বিকেরা বলছে ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, প্রাচীন বাঙালি সমাজে পরকিয়ার ধরণ, আর আধুনিক পরকিয়ার কিছু পার্থক্য রয়েছে। তখন অনেকেই শেষ বয়সে বিয়ে করতেন। আর পাত্রীর বয়সও থাকত অল্প। ফলে, অনেক সময় স্ত্রী শারীরিক ভাবে তৈরি হতে হতে স্বামী মারা যেত। আর তাই হয়তো স্ত্রী অনেকটা জৈবিক প্রয়োজনে পরকিয়ায় জড়াত।

কিন্তু আধুনিক পরকিয়ায় শারীরিক সম্পর্কের অতৃপ্তির একটা বিষয় কাজ করে। নাগরিক ব্যস্ততায় অনেকেই স্ত্রীকে সময় দিতে পারে না। আবার অনেক স্ত্রীও স্বামীকে সময় দিতে পারে না। তাছাড়া, কর্মজীবীদের অনেকেই ওই সময়ে অনেক ক্লান্ত থাকে। এভাবে সম্পর্কে অনেক সময় অযত্ন, অবহেলা চলে আসে। এতে করে আস্তে আস্তে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। শুরুতে মানসিক, পরে তা এক সময় শারীরিক দূরত্ব তৈরি করে। আর তাই অতৃপ্ত শারীরিক সম্পর্ককেই পরকিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

তবে কেউ কেউ এই ধরণের পরকিয়ার সম্পর্ককেও প্রেম হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। তাদের মতে, এটা একান্তই ব্যক্তির নিজস্ব রুচিবোধ ও ইচ্ছের বিষয়। অবশ্য সমাজে এটা নিষিদ্ধ এই বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন না। তবে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরকিয়াকে অনেকেই ঘৃণা করে থাকেন। তবে তারাও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে যত্ন নিতে বলেন। অতৃপ্ত শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি তারাও অস্বীকার কেন না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »