Ultimate magazine theme for WordPress.

ইন্টারনেটের আবিষ্কার কিভাবে হয় ? কে এই ইন্টারনেটের আবিষ্কারক ?

0

ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক →

বর্তমান পৃথিবী অত্যন্ত আধুনিক । আগে যে দুরত্ব অদিক্রম করতে কয়েক দিন লেগে যেত বর্তমানে তা কয়েক ঘন্টায় সম্ভব হচ্ছে । যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্ননির জন্য পৃথিবীর আর্থিক অবস্থা পূর্বের তুলনায় অনেক ভালো । এই সবকিছুর কারন একটি নেটওয়ার্ক । যে কাজ মানুষ হাজার বছরেও করতে পারেনি সেই কাজটি এই নেটওয়ার্কই কয়েক বছরে করিয়ে দেখিয়েছে । মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ রক্ষায় এই নেটওয়ার্ক অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে । বৈজ্ঞানিকরা এমন অনেক আবিষ্কার করেছেন যা পৃথিবীকে পাল্টে দিয়েছে । কিন্তু এটি এমন একটি জিনিস যা পৃথিবীকে সম্পুর্ন রূপেই পাল্টে দিয়েছে । সেটি হল ইন্টারনেট । চলুন তাহলে এই ইন্টারনেট এর উৎপক্তি সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যায় । এই আধুনিক নেটওয়ার্কের উৎপক্তি ১৯৬১ সালে । ১৯৬২ সালে জেসিয়ার লিক্রিডার একটি সংস্থা স্থাপন করেন যার নাম দেন ডারপা (DARPA)  । (DARPA- এর ফুল ফর্ম ডিফেন্স এডভান্স রিসার্স প্রজেক্ট এজেন্সি)  এই সংস্থা দ্বারা উনি একটি নেটওয়ার্ক বানান যার নাম দেন ইন্টারলেটিক নেটওয়ার্ক । এই নেটওয়ার্ক স্থাপনের একমাত্র কারন ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা ।

১৯৭৪ সালে ডিয়ার্পার দুজন আধিকারী বিন্টকার্ভ এবং ববকান যুগ্ন্য ভাবে TCP অর্থাৎ ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল  প্রটোকল  বানান এবং ইন্টারলেটিক নেটওয়ার্কের নাম বদল করে ইন্টেরনেট ( INTERNET ) রাখেন । কিন্তু ইন্টারনেট তৈরি হওয়ার পরেও একটি কম্পিউটারকে আরেকটি কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করা সম্ভব ছিল না । ১৯৭৬ সালে ডঃ রবার্ট মেটকাফ Invented Ethernet, coaxial cables বানান যার সাহায্যে অনেক গুলো কম্পিউটার এঁকে অপরের সাথে কানেক্ট করতে সক্ষম হয় । এবং তার সাথে সাথে যে কোন ডেটা ট্রান্সফার করতে সফল হয় । ডঃ রবার্ট এর নাম দেন LENT অর্থাৎ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক । এর পর ১৯৭৯ সালে বিন্টকার্ভ এবং ববকান ইন্টারনেটকে কমার্শিয়ালাইজ করার কাজ শুরু করেন ।

১৯৮৩ সালের পয়লা জানুয়ারি ডারপা (DARPA)  চিফ মেম্বার বিন্টকার্ভ এবং ববকান ডারপা (DARPA)  নাম বদলে আরপা (ARPA)   নেটওয়ার্ক রাখেন । এবং তার সাথে সাথেই আইপি অর্থাৎ ইন্টারনেট প্রোটোকল তৈরি করেন । যার সাহায্যে প্রতিটি কম্পিউটারে একটি উইনিট আইডি তৈরি হয় এবং ইন্টারনেট প্রোটোকলের দ্বারা যে কোন মেশিন ইন্টারনেটকে এক্সিস করতে সক্ষম হয় । তখন পর্যন্ত ইন্টারনেট ডাটা ট্র্যান্সফার, ক্যালকুলেশন এবং টুটি গেম খেলার জন্য ব্যবহার করা যেত । ১৯৮৪ সালে ডঃ জনপোস্টাল ডোমেইন এক্সেইন্সেস বানান যাকে বর্তমানে আমরা . com – .org –  .in  নামে চিনি এর  সাহায্যে একটি ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব হয়েছিলো । এবং তারপর থেকে ওয়েব সাইট বানানো শুরু হয় । কিন্তু ইন্টারনেট তখনো শুধু মাত্র শহরের মধ্যেই সিমাবদ্ধ ছিল ।

১৯৮৮৯ সালে বিন্টকার্ভ এবং ববকান ইন্টারনেটকে কমার্শিয়ালাইজ করেন এবং আই এস পি অর্থাৎ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কম্পানি বানান । এবং এর সাহায্যে তারা পৃথিবীব্যপি ইন্টারনেটকে সাধারন মানুষের ব্যবহারের জন্য উপলদ্ধ করেন । এর আগে ইন্টারনেট কেবল ডিফেন্স এবং গভারমেন্ট সার্ভিসের মধ্যেই সিমাবদ্ধ ছিল । এই সার্ভিসকে ঐ সময় ডিলাভ ইন্টারনেট বলা হত । এরপর ১৯৯১ সালে বিজ্ঞানি টিমবার্নাস লি WWW অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বানান । যার সাহায্যে ওয়েবসাইট এক্সেস করা সমস্ত পৃথিবীব্যাপি সম্ভবপর হয় । ১৯৯১ সালের পর থেকে ইন্টারনেটে সমস্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় । এইতো গেলো ইন্টারনেটের জন্ম বৃতান্ত এখন আসি ইন্টারনেটের সাফল্যের কথায় । ১৯৯৫ সালে ইন্টারনেটের এভারেজ স্পিড ছিলো  28 kbps  এবং সেই সময় পৃথিবীর ১ কোটি ষাট লক্ষ মানুষ ইন্টারনেট বব্যহার করতেন । অর্থাৎ তখন সমস্ত মানুষের নিরিক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহারের সংখ্যা ছিল 0.2%  কিন্তু বর্তমানে ২০১৯ সালে ইন্টারনেটের এভারেজ স্পিড 7.2 mbps  এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রয়ায় ৩শ ষাট কোটি । অর্থাৎ বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত ।

১৯৯৯ সালে ওয়ার্লেস সিডলিটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয় । যাকে আমরা বর্তমানে wifi বলি  । এবং এই অফলাইন নেটওয়ার্কের সাহায্যে আমরা বর্তমানে ইন্টারনেটকে ওয়্যার ছাড়া  শেয়ার করতে পারি । ইন্টারনেটের সাহায্যে পৃথিবীতে অনেক নতুন নতুন জিনিসের আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে । আজ পৃথিবীর ফিন্যান্সিয়াল সিস্টাম অনেকটাই ইন্টারনেটের উপর নর্ভরশীল । বর্তমানে পৃথিবীতে ইন্টারনেট যদি ১ ঘন্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়  তাহলে পৃথিবীর ক্ষতি হবে ১ ট্রিপলিয়ান  এবং পৃথিবী ৬ দিন পিছিয়ে যাবে ।

আজকের এই ইন্টারনেট সম্পর্কিত তথ্যগুলো কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ।

আর ভাল লাগলে অনুগ্রহ করে শেয়ার করবেন ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »