Ultimate magazine theme for WordPress.

অভিবাসী গ্রহণে বিশ্বের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সব থেকে তীব্রভাবে বেড়েছে পেরু,একুয়েডর ও কলম্বিয়ার।

অভিবাসী গ্রহণে বিশ্বের মধ্যে সব থেকে কম আগ্রহী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাত ইউরোপীয় দেশ। এর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে উত্তর মেসিডোনিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

সম্প্রতি গ্রিক দ্বীপ লেসবসের মোরিয়া আশ্রয় শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে কয়েক হাজার অভিবাসী। এ অবস্থায় ইউরোপ তাদের জন্য নতুন একটি আশ্রয় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আর ঠিক এমন সময়ই গতকাল গ্যালাপের প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী অভিবাসীদের প্রতি সহিষ্ণুতা কমছে। খবর রয়টার্স।

গ্যালাপের জরিপ অনুসারে, অভিবাসী গ্রহণে বিশ্বের মধ্যে সব থেকে কম আগ্রহী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাত ইউরোপীয় দেশ। এর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে উত্তর মেসিডোনিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান। তবে অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সব থেকে তীব্রভাবে বেড়েছে পেরু, একুয়েডর , উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ায়। এসব দেশে সম্প্রতি প্রচুর ভেনিজুয়েলার অভিবাসী এসেছে। জরিপে অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার। এর পরই রয়েছে আইসল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের অবস্থান। মোট ১৪৫টি দেশ ও অঞ্চলে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে এ জরিপ সম্পন্ন করেছে গ্যালাপ।

জরিপে সাক্ষাত্কার প্রদানকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের দেশে অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে তাদের মনোভঙ্গি কেমন। এছাড়া অভিবাসীরা যদি প্রতিবেশী হওয়া কিংবা তাদের পরিবারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তারা কীভাবে দেখছেন। এক্ষেত্রে গ্যালাপের সূচকে উত্তর ম্যাসিডোনিয়ার স্কোর সর্বোচ্চ ৯-এর মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৪৯। অন্যদিকে কানাডার স্কোর ৮ দশমিক ৪৬। গ্যালাপের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জুলি রে বলেন, বৈশ্বিকভাবে অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের সূচকের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৩৪। কিন্তু ২০১৯ সালে তা ৫ দশমিক ২১-এ নেমে গেছে। মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এ পতনের জন্য প্রধানত দায়ী। কারণ ২০১৬ সালেও পেরুর স্কোর ছিল ৬ দশমিক ৩৩। কিন্তু এ স্কোর আশ্চর্যজনকভাবে ৩ দশমিক ৬১-এ নেমে গেছে। অন্যদিকে অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়া একটি ভালো কাজ—এমন মনোভাবের মানুষের সংখ্যা ৬১ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গ্যালাপের প্রথম অভিবাসী গ্রহণযোগ্যতা সূচক পরিচালিত হয় ২০১৫ সালে ইউরোপে অভিভাসন সংকটের পর। ওই সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দারিদ্র্যপীড়িত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন থেকে লাখ লাখ অভিবাসী ইউরোপে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এরপর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো অভিবাসীদের এ ঢল সামাল দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে অসংখ্য অভিবাসন প্রার্থী।

এ অবস্থায় স্থানীয় সময় বুধবার ব্লকটির নির্বাহীদের একটি পরিকল্পনা প্রকাশের কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব সদস্য দেশকে অভিবাসী গ্রহণের জন্য আইনগতভাবে বাধ্য করা হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে এরই মধ্যে দ্বিমত প্রকাশ করেছে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিসহ আরো বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ।

মূলত লেসবস দ্বীপের মোরিয়া আশ্রয় শিবিরের অগ্নিকাণ্ডের পরই এ প্রস্তাব সামনে আনা হচ্ছে। ওই আশ্রয় শিবিরে প্রায় ১২ হাজারের বেশি অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। অথচ শিবিরটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র তিন হাজারের মতো। এদিকে গ্যালাপের জরিপে অভিবাসী গ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে মাত্র দুটি ইউরোপীয় দেশ রয়েছে। দেশ দুটি হলো সুইডেন ও আয়ারল্যান্ড। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে অভিবাসীদের প্রতি দারুণ ইতিবাচক মনোভব রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »