Ultimate magazine theme for WordPress.

মজাদার স্বাদের ৯ টি ভর্তা রেসিপি ।

আমারা আপাদের জন্য নিয়ে এলাম মজাদার ৯ টি ভর্তা রেসিপি। ভাল লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা রেসিপি ডেস্ক:

মাছে ভাতে বাঙ্গালী হলেও আমার ভাতের সাথে বিভিন্ন উৎসবে নানান রকম ভর্তা খেতে পছন্দ করি। তাই আজ আমারা আপাদের জন্য নিয়ে এলাম মজাদার ৯ টি ভর্তা রেসিপি। ভাল লাগলে সেয়ার করুন সবার সাথে।

১.মিষ্টি কুমড়ার ভর্তা

উপকরণঃ
মিষ্টি কুমড়া ২ কাপ,

পেঁয়াজ কুঁচি ২ টা,
লবণ পরিমাণমতো,

কাঁচামরিচ ৫-৬ টা (কুচি করা বা সেদ্ধ করা),
সরিষার তেল পরিমাণ মতো।

প্রণালীঃ মিষ্টি কুমড়া খোসা ছাড়িয়ে কেটে ধুয়ে পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। এরপর মিষ্টি কুমড়া বাদে সব উপকরণ এক সাথে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। এবার সিদ্ধ করা মিষ্টি কুমড়ার সঙ্গে সব উপকরণ খুব ভালো করে মেখে নিন। হয়ে গেল মজাদার মিষ্টি কুমড়ার ভর্তা।

২.অন্য রকম কাচা পেঁপে ও ডিমের ভুনা ভর্তা

অন্য রকম কাচা পেঁপে ও ডিমের ভুনা ভর্তা করতে যা যা লাগবেঃ
১- এক চা চামুচ হলুদ এর গুড়া।

২- স্বাদ মত লবন।

৩- পরিমান মত পানি।

৪- একটা ছোট মাঝারি সাইজের কাচা পেঁপে।

৫- ওয়ান থার্ড কাপ এর মত সরিষার তেল।

৬- ৮ থেকে ৯ টা আস্ত শুকনা মরিচ।

৭- রসুন কুচি দুই টেবিল চামুচ।

৮- পেয়াজ কুচি এক কাপ।

৯- লাল মরিচ এর গুড়া এক চা চামুচ।

১০- ডিম দুই টা।

১১- আধা কাপ ধনিয়া পাতা কুচি।

১২- কাচা মরিচ দুই টা।

১৩- বিট লবন হাফ চা চামুচ।

অন্য রকম কাচা পেঁপে ও ডিমের ভুনা ভর্তা বানানোর পদ্ধতিঃ প্রথমে একটা ছোট মাঝারি সাইজের পেঁপে নিতে হবে। পেঁপে টা পিস করে কেটে ভাল করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এখন একটা প্যানে পরিমান মত পানি নিতে হবে। তার মধ্যে হলুদ এর গুড়া ও পরিমান মত লবন দিতে হবে। দিতে ২ মিনিট নাড়িয়ে তাতে আগে থেকে কেটে রাখা পেঁপে দিতে হবে। দিয়ে প্যান এর ঢাকনা দিয়ে দিতে হবে এবং পেঁপে টাকে সিদ্ধ করতে হবে। প্রায় ৮ থেকে ৯ মিনিট এ পেপে সিদ্ধ হয়ে যাবে। যদি দেখেন সিদ্ধ হওয়ার পর এক্সট্রা পানি আছে তাহলে সেইটা ছেকে নিবেন অথবা ঢাকনা উঠিয়ে কিছুক্ষন তাপে রেখে পানি শুকিয়ে ফেলতে পারেন। আমি এইখানে পানি টা ছেকে ফেলে দিব।

ভর্তা এর জন্যঃ প্রথমে একটি প্যান নিয়ে তাতে সরিসার তেল নিতে হবে। আপনারা চাইলে সয়াবিন তেল ও ব্যবহার করতে পারেন। তবে সরিসার তেল এ ফ্লেভার বেশি ভাল আসবে। এর মধ্যে এর পর আস্ত শুকনা মরিচ দিতে হবে। শুকনা মরিচ দেয়ার পর কিছুক্ষন ভাজতে হবে। একদম কালো করে ভাজা যাবে না। হাল্কা ব্রাউন কালার হয়ে গেলে ভাজা বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর এর মধ্যে রসুন কুচি দিতে হবে, তারপর পেয়াজ কুচি দিয়ে ভাল মত ভাজতে হবে। এরপর দিতে হবে লাল মরিচ এর গুড়া। এরপর সব ভাল করে মিশিয়ে ভেজে এর মধ্যে আগে থেকে সিদ্ধ করা পেঁপে টা দিতে হবে। দিয়ে ভাল করে ভেজে নিতে হবে। সিদ্ধ করা পেপে টা হাত দিয়ে চটকে নিতে হবে ঠাণ্ডা হয়ে গেলে।

এরপর সব কিছু এক সাথে মিশিয়ে কিছুক্ষন ভাজার পর এর মধ্যে ডিম ফেটে দিতে হবে। হাস বা মুরগি এর ডিম ব্যবহার করতে পারেন আপনারা। তবে ডিম এ যদি এলারজি থাকে তাহলে ডিম নাও ব্যবহার করতে পারেন। ডিম দেয়ার পর পরিমান মত লবন দিয়ে ভাজতে হবে কিছুক্ষন। কিছুক্ষন ভাজা হয়ে গেলে এর মধ্যে ধনিয়া পাতা কুচি দিতে হবে এবং কিছু কাচা মরিচ দিতে হবে। এইটা আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করে। আপনারা ঝাল বেশি পছন্দ করলে বেশি দিতে পারেন কম পছন্দ করলে ঝাল এর পরিমান কম ও করতে পারে। এরপর ২ থেকে ৩ মিনিট ভাজা এর পর নামিয়ে নিয়ে হবে।

একটা সারভিং ডিশে পরিবেশন করুন মজাদার অন্য রকম কাচা পেপে ও ডিমের ভুনা ভর্তা। সারভিং ডিশে নিয়ে উপরে হালকা বিট লবন ছড়িয়ে দিবেন। গরম ভাত হোক আর পান্তা ভাত। সব কিছুর সাথেই খুব ভাল ভাবে যাবে এই অন্য রকম কাচা পেপে ও ডিমের ভুনা ভর্তা। এই অন্য রকম ভর্তা টা খুবই মজাদার এবং এইটা অনায়াসে আপনার ডায়েট এর এক ঘেয়েমি কাটিয়ে দিবে এবং সাথে সাথে দিবে আপনাকে উজ্জল ত্বক ও স্বাস্থ্য।

৩.সবজি মিক্সড ভর্তা

উপকরণঃ আলু ২টি, মিষ্টি কুমড়া আধা কাপ, পটোল ১ কাপ, পেঁপে ১ কাপ, বরবটি ১ কাপ, কাঁচকলা ২টি, লবণ পরিমাণমতো, সরিষার তেল ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি সিকি কাপ, ধনেপাতা কুচি ৪ টেবিল চামচ।

যেভাবে তৈরি করবেনঃ
১. সব সবজি চারকোনা করে কেটে নিন। শুধু কাঁচকলা লবণ-পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।

২. কাঁচকলা বাদে সব সবজি সামান্য লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। সবজির পানি ফেলবেন না। কাঁচকলা আলাদা সিদ্ধ করুন।

৩. এরপর সবজিগুলো একসঙ্গে ভর্তা করে সরিষার তেল, কাঁচা মরিচ কুচি, পেঁয়াজ কুচি ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে মেখে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

৪.ডিম আলু ভর্তা

উপকরণ:ডিম ৩ টি, আলু ২ টি, পেয়াজ কুচি আধা কাপ, ৭/৮ টি শুকনা মরিচ, ধনিয়া পাতা কুচি ৪ টেবিল চামচ, জিরা আধা চা চামচ, সরিষা তেল ৩ টেবিল চামচ, লবণ পরিমান মতো।

প্রণালী: ডিম ও আলু সিদ্ধ করে নিতে হবে।শুকনা মরিচ ভেজে নিতে হবে। জিরা ভেজে নিতে হবে। এবার পাত্রে পেয়াজ কুচি, মরিচ মেখে নিয়ে সিদ্ধ আলু, ডিম দিয়ে মেখে ধনিয়া পাতা, জিরা, সরিষা তেল লবণ মেখে নিন। ব্যাস হয়ে গেল মজাদার ডিম আলু ভর্তা।

৫। কাঁঠালের মুচি ভর্তা

উপকরণ:
কাঁঠালের মুচি গ্রেট করা

বরই ছেঁচে / গ্রেট করা
রসুন গ্রেট করা

কাঁচামরিচ কুঁচি
লবন, চিনি,তেঁতুল , সরিষার তেল
ধনেপাতা কুঁচি

প্রস্তুত প্রণালীঃ  সব উপকরণ একত্রে মেখে নিন ।(সামান্য পানি দিতে পারেন রুক্ষ ভাব দূর করতে)

৬. ইলিশ মাছের লেজ ভর্তা

ইলিশ মাছ খেতে অনেকেই ভালোবাসেন। তবে মাছের পেটের টুকরোগুলো খেতে পছন্দ করলেও লেজ খেতে চান না অনেকে। তাই ইলিশের লেজকে আরো সুস্বাদু করে খেতে চাইলে বানাতে পারেন লেজের ভর্তা।

উপকরণ: ইলিশ মাছের লেজ দু’টি, হলুদ আধা চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, মরিচ আধা চা চামচ, শুকনো মরিচ চার/পাঁচটি, লেবুর রস এক টেবিল চামচ, সরিষার তেল এক টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালী: ইলিশ মাছের লেজের টুকরোগুলোতে হলুদ, মরিচ ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভেজে কাঁটা ছাড়িয়ে নিন।এবার তেল ছাড়া শুকনো মরিচ টেলে নিন। শুকনো মরিচ ব্যবহার না করতে চাইলে কাঁচা মরিচও ব্যবহার করতে পারেন। মরিচ ভাজা হয়ে গেলে তুলে নিয়ে স্বাদমতো লবণ দিয়ে হাত দিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এর মধ্যে আধা কাপ পরিমাণ ভাঁজা বা কাঁচা পেঁয়াজ কুচি দিন। এরপর একে একে কাঁটা ছাড়া ইলিশ মাছ, এক টেবিল চামচ লেবুর রস, এক টেবিল চামচ সরিষার তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেলো মজাদার ইলিশ মাছ এর লেজ ভর্তা।

৭. মসুর ডালের ভর্তা

উপকরণ: মসুর ডাল ১ কাপ, পানি ৩ বা সাড়ে ৩ কাপ, রসুন কুঁচি আধা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ চা চামচ, লবণ আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ ফালি ২টি, তেল ১ চা চামচ।

প্রণালী: সব উপকরণ দিয়ে ডাল সেদ্ধ করতে হবে। ঘন থকথকে হলে নামাতে হবে।

৮. বেগুন ভর্তা

উপকরণ: বড় গোলবেগুন ১টি, সরিষা বাটা ১ চা চামচ, নারকেল মিহি বাটা ২ চা চামচ, টমেটো কুঁচি ১ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি আধা কাপ, মেথি আধা কাপ, সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ কুঁচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালী: বেগুনের গায়ে তেল মাখিয়ে পুড়িয়ে নিন। এবার পানিতে রেখে খোসা ছাড়িয়ে মেখে নিন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে মেথি ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুঁচি দিন। পেঁয়াজ একটু নরম হলে টমেটো সরিষা, নারকেল, কাঁচামরিচ ও লবণ দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে বেগুন দিন। কড়াইয়ের তেল ছেড়ে এলে এবং একটু আঠালো হলে নামিয়ে নিন।

৯. চিংড়ি শুটকির ভর্তা

উপকরণ: ছোট চিংড়ির শুটকি ২৫০ গ্রাম, কাচা/শুকনা মরিচ ৫-৬ টা ,পিঁয়াজ ২/১ কাপ,ধনে পাতা ২-৩ টে. চামচ।

প্রণালী: চিংড়ি শুটকি খুব ভাল করে বেছে ধুয়ে কড়াইয়ে অল্প তেলে মাঝারি আঁচে মচমচা করে ভাঁজুন।পিঁয়াজ, মরিচ, এক সাথে মাঝারি আঁচে বাদামী রং করে ভাঁজতে হবে।এরপর ধনে পাতা ভাল করে ধুয়ে কুচি করে কাটুন।এবার পাটায় ভাজা পিঁয়াজ কুচি, মরিচ ও ভাজা চিংড়ি শুটকি বেটে নিন যাতে খুব মিহি না হয়।এবার বাটা চিংড়ি, পিঁয়াজ, মরিচের সাথে ধনে পাতা কুচি/বাটা হাতে মলে মিশিয়ে ফেলুন। ব্যস হয়ে গেল মজার চিংড়ি শুটকি ভর্তা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »