Ultimate magazine theme for WordPress.

থানায় আসামিকে পিটিয়ে হত্যা, তিন পুলিশের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক ♦

সাড়ে ছয় বছর আগে এক গাড়িচালককে থানায় নিয়ে পিটিয়ে হত্যার মামলায় পল্লবী থানার তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই আদেশে পুলিশের দুই সোর্সকে সাতবছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিচারক তার রায়ে বলেছেন, ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে কোনো মামলায় দেশে এটাই প্রথম রায়। আর তিন পুলিশ সদস্যকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এ আইনে সেটাই সর্বোচ্চ সাজা।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, পুলিশের এসআই জাহিদুর রহমান খান, এএসআই রাশেদুল ইসলাম ও এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিতে হবে, অনাদায়ে আরো ছয় মাস জেল খাটতে হবে তাদের।

অর্থদণ্ড ছাড়াও নিহতের পরিবারকে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আসামিদের প্রত্যেককে। ক্ষতিপূরণের এই টাকা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিবারকে দিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে কোনো আপিল চলবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন আদালত।

সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই সোর্স হলেন রাশেদ ও সুমন। কারাদেণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে রায়ে।

আসামিদের মধ্যে পল্লবী থানার তখনকার এসআই জাহিদুর রহমান খান ও পুলিশের সোর্স সুমন কারাগারে আছেন। এএসআই রাশেদুল জামিনে ছিলেন, রায়ের পর তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাসেল জামিনে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। তাদের পলাতক ঘোষণা করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে জনির মৃত্যুর অভিযোগ এনে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন নিহতের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল এসআই জাহিদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় মোট ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »