Ultimate magazine theme for WordPress.

ইউরোপের ১৩ শতাংশ মৃত্যুর জন্য পরিবেশ দূষণ দায়ী -ইইউ এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি (ইইএ)।

২০১২ সালে পরিবেষগত কারণে ইউরোপে ৬ লাখ ৩০ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। বায়ু দূষণে ওই বছর ৪ লাখ মানুষ মারা যায়। শব্দ দূষণে মারা যায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। বাকিরা দাবদাহের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ু, পানি, শব্দ দূষণ এবং রাসায়নিকের ব্যবহার এমনকি সবগুলোর দ্বারা একসঙ্গে যেকোনো সময় আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইউরোপে ৮টি মুত্যুর মধ্যে একজনের মৃত্যু দূষণের কারণে হয়ে থাকে বলে জানিয়েছে ইইউ এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি (ইইএ)।
বলা হয়, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং রাসায়নিক ব্যবহার ১৩ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং দুর্বল লোকেরা দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
দুর্বল মানুষের নিরাপত্তায় শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় প্রতিবেদনে। ইইউ’র পরিবেশ কমিশনার ভার্জিনিজ সিঙ্কেভিসিয়াস বলেন, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে। সবাইকে এটা অনুধাবন করতে হবে যে, পৃথিবীর যত্ন নেয়ার মাধ্যমে শুধু বাস্তুতন্ত্র নয় জীবনও রক্ষা করছি আমরা।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। একে স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ‍ওপর বড় ধরনের মূল্যায়ন বলে আখ্যা দিয়েছে কোপেনহেগেন ভিত্তিক সংস্থাটি।
২০১২ সালে পরিবেষগত কারণে ইউরোপে ৬ লাখ ৩০ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। বায়ু দূষণে ওই বছর ৪ লাখ মানুষ মারা যায়। শব্দ দূষণে মারা যায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। বাকিরা দাবদাহের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ু, পানি, শব্দ দূষণ এবং রাসায়নিকের ব্যবহার এমনকি সবগুলোর দ্বারা একসঙ্গে যেকোনো সময় আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বায়ু দূষণে বিশ্বে প্রতিবছর কয়েক লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। বায়ু দূষণের কারণে সৃষ্ট স্ট্রোক, ফুসফুস ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো অসুখ এসব মৃত্যুর কারণ। বলা হয় বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় বায়ু দূষণে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা আরেক প্রতিবেদনে জানায়, শব্দদূষণে রক্ত চাপ এবং হরমোন জাতীয় সমস্যার কারণে হৃদরোগের হার বাড়ছে।
ইইএ’র প্রতিবেদনে কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী মারাত্মকভাবে বায়ুদূষণ, তীব্র দাবদাহ এবং তীব্র শীতের মতো বৈরী আবহাওয়ার শিকার হচ্ছে। কারণ হিসেবে নিম্নমানের বাসস্থান, কর্মপরিবেশকে দায়ী করা হয়।
প্রতিবেদনে ইতিবাচক কয়েকটি দিকও উঠে এসেছে। বলা হয়, ১৯৯০ সালে বায়ু দূষণে অকাল মৃত্যু হয়েছে ১০ লাখ মানুষের। বর্তমানে তা হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চলে পানির গুণগতমান ‍উন্নত হয়েছে।
ইইউ’র প্রতিবেদনে পূর্ব এবং পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য উঠে এসেছে। পরিবেশগত রোগ সমভাবে পুরো ইউরোডে ছড়িয়েছে। বলা হয়, পরিবেশগত কারণে সবচেয়ে কম মৃত্যুর হার ৯ শতাংশ নরওয়ে এবং আইসল্যান্ডে। ২৩ শতাংশ আলবানিয়ায়। বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনিয়ায় ২৭ শতাংশ। রোমানিয়ায় ১৯ শতাংশ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মন্ট্রিনিগ্রো, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া এবং সার্বিয়া। যুক্তরাজ্যে মৃত্যর হার ১২ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »