Ultimate magazine theme for WordPress.

ইউরোপে যেতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা!

ইরাক থেকে দালালরা প্রথমে বাংলাদেশিদের তুরস্কে ঢোকানোর চেষ্টা করে। এ যাত্রায় সফল হলে ইউরোপে নিয়ে যেতে দালালদের কম কষ্ট করতে হয়। তবে তুরস্কে না যেতে পারলে সিরিয়ার অরক্ষিত বর্ডার দিয়ে সাগরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সুবিধাজনক সময়ে ইউরোপের যে কোনো দেশে প্রবেশ করানো হয়।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

স্বপ্নের ঠিকানা খুঁজতে প্রতিনিয়তই অসংখ্য বাংলাদেশি অবৈধভাবে পাড়ি দিচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। তবে ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের বেশিরভাগ রুটই এখন দালালদের নিয়ন্ত্রণে। যে কারণে এসব পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যেতে নানা অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের। তাই বহুল প্রচলিত বিভিন্ন মানব পাচার রুট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। এর ফলে নতুন পথে মানবপাচারে চেষ্টা করছে দালালরা। এমনই একটি রুট ইরাক। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে মানুষ পাচারের নতুন রুট তৈরি হয়েছে এ দেশটিতে। বাংলাদেশের উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবকরা সোনার হরিণ নামের ইউরোপে ঢোকার আশায় প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, শারজাহ বা কাতারের দোহা হয়ে ইরাক পাড়ি জমায়। ইরাকের ভিসা সহজ হওয়ায় এমন পদ্ধতি অবলম্বন করছে দালালরা।

ইরাকে প্রবেশ করার কয়েক দিনের মধ্যে সাগরপথে ইউরোপের সুবিধাজনক দেশে আশ্রয় নিতে সহায়তা করে দালালরা। জার্মানির বনে আটকে থাকা বাংলাদেশি নুরুল হক বলেন , ‘ইরাক থেকে দালালরা প্রথমে বাংলাদেশিদের তুরস্কে ঢোকানোর চেষ্টা করে। এ যাত্রায় সফল হলে ইউরোপে নিয়ে যেতে দালালদের কম কষ্ট করতে হয়। তবে তুরস্কে না যেতে পারলে সিরিয়ার অরক্ষিত বর্ডার দিয়ে সাগরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সুবিধাজনক সময়ে ইউরোপের যে কোনো দেশে প্রবেশ করানো হয়।

নুরুল হক জানান, এয়ার এরাবিয়ার মতো বড় এয়ারলাইন্স দিয়ে আদম পাচারের মতো জঘন্য অপকর্ম হচ্ছে বেশি। এ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে শারজাহ থেকে কাতার যায় বাংলাদেশি তরুণরা। এরপর কাতার থেকে ইরাকে পাড়ি জমায়। এছাড়া ফ্লাই দুবাই নামে আরেকটি এয়ারলাইন্স দিয়েও বাংলাদেশিরা ইরাকে যাচ্ছে। এ দুই এয়ারলাইন্স দিয়ে আদম পাচারের ঘটনা ঘটছে বেশি। এসব পথে ইউরোপে পাড়ি জমানো অনেক কষ্টের।

তারপরও কেনো এসব পথে মানুষ যাচ্ছে জানতে চাইলে নুরুল হক বলেন, এ রুটগুলোর মাধ্যমে ইউরোপে যেতে বাংলাদেশিদের আগে কোনো টাকা দিতে হয় না। কারণ দালালরা ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার পর টাকা নেবে এমন শর্ত দেয়। ফলে বিনা টাকায় ইউরোপে যাওয়ার আশায় এ রুটগুলোকে বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশিরা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নিম্ন শ্রেনী-পেশার যুবকরা দালালদের এমন শর্তগুলো মেনে নিচ্ছে।

দালালদের খপ্পরে পড়া রাজশাহীর বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, ইউরোপের বেশিরভাগ বাংলাদেশি অভিবাসী তুরস্ক, সিরিয়া বা লিবিয়া হয়ে বিভিন্ন দেশে ঢুকেছে। এখন নতুন করে ইরাক হয়ে গ্রিস, ইতালি বা ইউরোপের অন্য দেশে যাচ্ছে। তিনি জানান, নৌকায় করে ইউরোপে পাড়ি জমানো অনেক কষ্টকর। দিনের পর দিন নৌকায় কাটাতে হয়। মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।

কিন্তু ইরাকের রুটে সমুদ্রপথে বেশি যেতে হয় না। যার কারণে এ পথে মানবপাচার বাড়ছে। জাহাঙ্গীর বলেন, দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে ইউরোপে আসার পর নানা ঝামেলায় পড়ছে বাংলাদেশিরা। প্রথম সমস্যা ভাষা না জানা। ফলে প্রথম কয়েক মাস বেকার বসে থাকতে হয় তাদের। তিনি বলেন, নৌকায় করে ইউরোপে যাওয়া বাংলাদেশিদের ‘দিন আনে দিন খাই’র মতো অবস্থা। ফলে প্রথম দিন থেকেই কাজের খোঁজে নেমে পড়ে তারা। অনেক ক্ষেত্রেই ইউরোপের নানা সিস্টেমের কারণে এটা সম্ভব হয় না’।

এদিকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া দিয়েও মানুষ পাচার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে, আদম পাচারকারী সিন্ডিকেট বাংলাদেশিদের প্রথমে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি নিয়ে যায়। এরপর সুবিধাজনক রুট অনুযায়ী পাচার করে ইউরোপে। কেনিয়ার পাশাপাশি তিউনেশিয়া দিয়েও ইউরোপে প্রবেশের পথ সম্পর্কে জানা গেছে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে।

অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি জানান, ওয়ার্ক ভিসায় লিবিয়া গিয়ে এরপর তিউনেশিয়া চলে যায় অনেকে। এরপর তিউনেশিয়া থেকে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। জার্মানির বনে বিভিন্ন পেশায় জড়িত বৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, এভাবে নানা অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার কারণে দেশের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। পদে পদে বাধার মুখে পড়েন বৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও।

তারা এসব অবৈধ পথে বাংলাদেশিদের ইউরোপে প্রবেশে বন্ধে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান। তা না হলে অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে মানবসম্পদ নেয়াও বন্ধ করে দিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এর ফলে ফলে হুমকির মুখে পড়বে বাংলাদেশের শ্রমবাজার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »