Ultimate magazine theme for WordPress.

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু সোনা উৎপাদনে ষষ্ট স্থানে

পেরু অতীতে দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তৃত ইনকা সাম্রাজ্যের কেন্দ্র ছিল। ১৬শ শতকে স্পেনীয় বিজেতাদের হাতে ইনকা সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। আন্দিজের স্বর্ণ ও রূপার খনির আকর্ষণে স্পেনীয়রা পেরুকে দক্ষিণ আমেরিকাতে তাদের সম্পদ ও শক্তির কেন্দ্রে পরিণত করে।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ডেস্ক : 

আজ আমরা দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ সম্পর্কে কিছু মজার জিনিস জানবো। যার নাম পেরু। এই দেশটি অনেকেরই কাছে অজানা একটি দেশ।  তো চলুন জেনে নেওয়া যাক পেরু সম্পর্কে কিছু  অদ্ভুত  এবং মজাদার তথ্য।

পেরু দক্ষিণ আমেরিকার মধ্য পশ্চিমে অবস্থিত ছোট একটি দেশ। প্রাকৃতিক সৌন্ধর্যের দিক দিয়ে পেরু অদ্ভুত একটি দেশ। বিশ্বের সুন্দর সুন্দর দেশ গুলির মধ্যে পেরু একটি। পেরু নামটি এসেছে স্পেনিশ শব্দ পেলু থেকে, যার অর্থ নদী। পেরুকে আধিকারিক ভাবে পেরু প্রজাতন্ত বলা হয়। এই দেশের রাজধানী এবং জনবহুল শহর হলো লিমা।

পেরুর ৮০% মানুষ শহরে থাকে। যার মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ রাজধানী লিমাতে থাকে। এই দেশটির উত্তরে ইকুয়েডর ও কলোম্বিয়া, পূর্বে ব্রাজিল,  দক্ষিণ-পূর্বে বলিভিয়া, দক্ষিণে চিলি এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা আবৃত। পেরু দেশটির আয়তন ১২ লক্ষ ৮৫ হাজার ২১৬ বর্গকিলোমিটার।

এই দেশের প্রধান ভাষা স্পেনিশ।  এছাড়াও কিছু আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে যেমন কচুয়া এবং আয়মারা। ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলির মধ্যে পেরুই সবচেয়ে আগে স্বাধীনতা লাভ করে।  ১৮২১ সালে পেরু স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

পেরুর ভোগোলিক আবহওয়া অনেকটাই অন্যরকম। কারণ সেখানে রয়েছে জনবিরল মরুভূমি, সবুজ মরুদ্দ্যান, বরফাবৃত পর্বতমালা, উচ্চ মালভূমি এবং গভীর উপত্যকা। পেরুর উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ পূর্ব বরাবর আন্দিস পর্বতমালা রয়েছে। আমাজন নদীর উৎপত্তি স্থল এই আন্দিস পর্বতমালার চূড়া থেকে। পেরুতে ৬০% আমাজনের জঙ্গল রয়েছে। এই জঙ্গল থাকার কারণে সেখানে প্রচুর পরিমানে গাছপালা দেখা যায়। পেরুর জাতীয় বৃক্ষ সিনকোনা। এই গাছটি অনেক উপকারী।  এই গাছটি থেকে ম্যালেরিয়ার ঔষধ তৈরি করা হয়।
পেরুতে প্রচুর পরিমানে খনিজ পদার্থ  পাওয়া যায়। সোনা উৎপাদনে পেরু ষষ্ট স্থানে এবং কপার উৎপাদনে পেরু তৃতীয় স্থানে রয়েছে। পেরুতে বিভিন্ন ধরণের আলু পাওয়া যায়। এই দেশটি কোকিন উৎপাদন করার জন্যও বিখ্যাত। ২০১৩ সালে সবচেয়ে বেশি কোকিন উৎপাদনকারী দেশ ছিল পেরু।
 পেরু বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে একসাথে ৬৫০ টি পাখি উড়তে দেখা গিয়েছে। এবং এটা একটা বিশ্ব রেকর্ড। সাধারণত সেখানে ৩৫০ থেকে ৪০০ পাখি একসাথে দেখা যেতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো উড়ন্ত পাখি আন্দেয়ান কাণ্ডের পেরুতে পাওয়া যায়। পাখিটি প্রায় ৪ ফুট লম্বা।  আকাশ থেকে সেখানকার মরুস্থলে অনেক পাখির চিত্র দেখা যায় , যা সত্যিই অদ্ভুত। পেরু থেকে পাখিরার মলমূত্র বিদেশে রপ্তানি করা হয়, যা সার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
পেরু দেশটিতে আরো কিছু অদ্ভুত এবং মজার নিয়ম রয়েছে যেমন সেখানে যদি কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে হয় তাহলে মেয়ের হবু স্বামীকে তার শ্বাশুড়ির কাছে পিটুনি খেতে হয়। আর সেখানে বিয়ের আগে পরিবারের সম্মতিতে ছেলে এবং মেয়েকে একসাথে থাকতে হয়। এছাড়াও এই দেশে বিয়ের আগে ছেলেকে কিছুদিন শ্বশুরের সাথে এবং মেয়েকে শ্বাশুড়ির সাথে কাটাতে হয়।  যদি কিছুদিন থাকার পরে ওদের মনে হয় যে ওরা থাকতে পারবে না তখন তারা আলাদা হয়ে যায়।ওদের প্রথম সন্তানকে সামাজিক সন্তান হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

এক নজরে পেরু:

রাষ্ট্রীয় নাম: রিপাবলিক অব পেরু।
রাজধানী: লিমা।
স্বাধীনতা ঘোষণা: ২৮ জুলাই, ১৮২১।
প্রধান ভাষা: স্পেনিশ।
মুদ্রা: সুল।
পার্লামেন্ট: কংগ্রেস অব দ্যা রিপাবলিক।
জনসংখ্যা: ৩ কোটি ২৯ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮৩৫ জন।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১৭%

জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৩ জন।
মাথাপিছু আয়: ৬,৫০০ মার্কিন ডলার।
প্রত্যাশিত গড় আয়ু: ৭৪.৯৮ বছর।
জাতিসংঘে যোগদান: ১৯৪৫ সালে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »