Ultimate magazine theme for WordPress.

কাতারে বিদেশী শ্রমিকদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

কাতারে এখনো বৃহৎসংখ্যক বিদেশী শ্রমিক মালিকপক্ষের শোষণের শিকার হচ্ছেন। তারা জোর করে শ্রমিকদের বেতন আটকে দিচ্ছে, কখনো বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছে, বেতন কমিয়ে দিচ্ছে এবং অনেক শ্রমিকের পক্ষে খেয়ে-পড়ে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। খবর এএফপি।

কাতারের ২৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষের ৯০ শতাংশ অভিবাসী শ্রমিক হওয়া সত্ত্বেও তারা বিস্তৃত নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এক দশক আগে কাতার যখন ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনকারী দেশ হিসেবে বাছাই হয়েছিল, তখন দেশটির শ্রম আইন নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখোমুখি হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন আইন পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয় উপসাগরীয় দেশটি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জানায়, স্বাধীন নিয়োগদাতা ও শ্রমিক সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো প্রায়ই শ্রমিকদের বেতন দিতে বিলম্ব করছে, আটকে দিচ্ছে বা জোর করে কেটে দিচ্ছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, তারা প্রতিবেদনের জন্য ৯৩ জনেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিকের সাক্ষাত্কার নিয়েছে, যারা ৬০টিরও বেশি কোম্পানি বা নিয়োগদাতার হয়ে কাজ করছে। অনেক সময় তারা শ্রমিকদের ওভারটাইম মজুরি দিতে বিলম্ব করছে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে।

কাতারি কর্তৃপক্ষ অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি ইলেকট্রনিক বেতন সুরক্ষা (ডব্লিউপিএস) ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বেতনবঞ্চিত শ্রমিকদের নজরদারিতে রাখা হয়। তবে ডব্লিউপিএসের নজরদারিতে বেরিয়ে আসে কীভাবে বেশ কয়েকটি বড় শ্রমিক সরবরাহকারী কোম্পানি শ্রমিকদের বেতনে ফাঁকি দিচ্ছে।

২০২০ সালে বাজেট উদ্বৃত্তি ঘোষণার পূর্বাভাস দেয়া অল্প কয়েকটি ধনাঢ্য দেশের একটি হচ্ছে কাতার। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এতে শ্রমিকদের বেতন দেয়া অনেক কোম্পানির পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ১৬ মার্চ ৭ হাজার ৫০০ কোটি রিয়াল ব্যবসায় প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল কাতার, যার মধ্যে ৩০০ কোটি রিয়াল শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের জন্য রাখা হয়েছিল।

এইচআরডব্লিউ বলছে, কাতারে মহামারী আঘাত হানার পর থেকে শ্রমিক শোষণ বেড়েছে। শ্রমিকরা এইচআরডব্লিউর কাছে স্বীকার করছেন যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে বেতন দেয়া বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। এতে খেয়েদেয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য।

মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়া ওই শ্রমিকদের জন্য ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এমন পদক্ষেপে শ্রমিকদের উল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।

জ্বালানি উত্তোলন, আতিথেয়তা ও এভিয়েশন খাত মহামারীতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কাতার এয়ারওয়েজ ও কাতার পেট্রোলিয়ামের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ে গেছে।

জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশনা মোতাবেক দ্রুত মজুরি আইন, ব্যাংক হিসাব সুরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কাতারের প্রতি আহ্বান রেখেছে এইচআরডব্লিউ।

ওযাচডগ প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের সময় এক হাজার দিনেরও কম। তবে জাঁকজমকপূর্ণ ওই স্টেডিয়াম ও আবাসন ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করে যাওয়া হাজারো শ্রমিকের জন্য দেশটির শ্রম আইন পরিবর্তনের পর্যাপ্ত সময় হাতে রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »