Ultimate magazine theme for WordPress.

১৩৯ জনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করলেন হায়দরাবাদের মহিলা

অভিযুক্তরা জোর করে তাঁর গর্ভপাতও করিয়েছে। এ ভাবে ১৩৯ জন প্রায় ১০ বছর ধরে প্রায় ৫ হাজার বার যৌন নির্যাতন করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন পুলিশকে।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক:

সময়টা প্রায় ১০ বছর। আর সেই সময়ের মধ্যে তাঁর উপরে প্রায় ১৩৯ জন যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। হায়দরাবাদ পুলিশের কাছে এমনই অভিযোগ করেছেন এক মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ৪২ পাতার এফআইআর। অভিযোগ পেয়েই তদন্ত শুরু করেছে পাঞ্জাগুট্টা থানার পুলিশ।

২৫ বছর বয়সী ওই মহিলা পুলিশের কাছে ১৩৯ জনের নামই জানিয়েছেন। ছাত্রনেতা থেকে রাজনৈতিক নেতার আপ্তসহায়ক, ব্যবসায়ী থেকে বিনোদন দুনিয়ার হর্তাকর্তা, সাংবাদিক থেকে আইনজীবী— বিভিন্ন পেশার মানুষের নাম রয়েছে সেখানে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৯-এর জুনে বিয়ে হয় ওই মহিলার। বিয়ের তিন মাস পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে যৌন নির্যাতনের শিকার তিনি। এই অত্যাচার চরমে ওঠায় ২০১০-এর ডিসেম্বরে বিবাহবিচ্ছেদ করে বাপেরবাড়ি ফিরে আসেন তিনি। শুরু করেন পড়াশোনা। যদিও স্নাতক স্তরে পড়াশোনা শুরু করেও শেষ করেননি ওই মহিলা।

কিন্তু এর মধ্যেই বিভিন্ন লোকের হাতে নির্যাতিত হন তিনি। পুলিশে করা অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, কিছু লোক তাঁর নগ্ন ও আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করত। এ ভাবে বেশ কয়েক বার তাঁকে গণধর্ষণ

করা হয়েছে। বাধা দিলে খুন করার হুমকিও দেওয়া হত। মহিলার অভিযোগ, অপরিচিত লোকের মধ্যে নিয়ে গিয়ে তাঁকে নগ্ন নাচ করতে বাধ্য করা হত। গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা ও জোর করে মাদকও খাওয়ানো হয়েছে বেশ কয়েক বার। এমনকি অভিযুক্তরা জোর করে তাঁর গর্ভপাতও করিয়েছে। এ ভাবে ১৩৯ জন প্রায় ১০ বছর ধরে প্রায় ৫ হাজার বার যৌন নির্যাতন করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন পুলিশকে।

স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠেছে, এত বছর ধরে কেন তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হননি? এ ব্যাপারে ওই মহিলা জানিয়েছেন, পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য একাধিক বার খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রের সাহায্যে ভয়ও দেখানো হয়েছে তাঁকে। কিন্তু সম্প্রতি এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর। নিজের জীবন কাহিনি ওই সংস্থাকে জানান তিনি। বছরের পর বছর অত্যাচার সহ্য করার পর, ওই সংস্থার সহযোগিতায় তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন পুলিশে।

তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(২), ৫০৯, ৩৫৪-সহ আরও বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাঞ্জাগুট্টা থানার হাউস অফিসার এম নিরঞ্জন রেড্ডি বলেন, ‘‘এ নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না। অভিযোগ পেয়েছি আমরা। সবে তদন্ত শুরু করেছি।’’

সুত্র – আনন্দবাজার পত্রিকা 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »