Ultimate magazine theme for WordPress.

সহনশীল রাজনীতির আহ্বান ডেমোক্র্যাটদের –

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক: 

ডেমোক্রেট দলের কনভেনশনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি অনেকটাই একমুখী ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভালো-মন্দের কথা নিয়েই রাজনৈতিক শিরোনামগুলো আবর্তিত হচ্ছিল। গত সপ্তাহে ডেমোক্রেট দলের জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে রাজনীতির এ আলাপ অনেকটাই বদলে গেছে। ট্রাম্প মন্দ করার কারণে লোকজন বিরক্ত হয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেবে—এ চিন্তা থেকে যেন দলটি বেরিয়ে এসেছে। ভার্চ্যুয়াল কনভেনশনের মাধ্যমেও ডেমোক্রেট দল নিজেদের কর্মসূচি উপস্থাপন করতে পেরেছে। ট্রাম্পের বিভেদ আর অস্থির রাজনীতির পাল্টা নিজেদের একটি সহনশীল রাজনৈতিক প্রস্তাবনা জনগণের সামনে সাফল্যের সঙ্গে উপস্থাপন করতে পেরেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা ভিন্ন। তাঁদের নড়াচড়া খুব একটা হচ্ছে না। এমন হওয়ার সুযোগও নেই। আমেরিকার রাজনীতিতে মধ্যপন্থী লোকজন বেশি। যারা কখনো এদিকে ঝুঁকে থাকেন, কখনো ওদিকে। এঁদের উদ্দীপ্ত করার মধ্য দিয়েই আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হতে পারে। দেরিতে হলেও এ মধ্যপন্থী আমেরিকানদের কাছে কনভেনশনের শুরুর দিন থেকেই ডেমোক্রেট দল তাদের সংযোগ করতে পেরেছে কার্যকরভাবে।

ট্রাম্প মন্দ করার কারণে লোকজন বিরক্ত হয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেবে—এ চিন্তা থেকে যেন দলটি বেরিয়ে এসেছে

খালি অডিটোরিয়ামে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের আগে কখনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। পরিস্থিতির কারণে তাই করতে হয়েছে জো বাইডেনকে

খালি অডিটোরিয়ামে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের আগে কখনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। পরিস্থিতির কারণে তাই করতে হয়েছে জো বাইডেনকে
ছবি: রয়টার্স

ভার্চ্যুয়াল কনভেনশন ডেমোক্রেট দলের জন্য ভালোই হয়েছে। ২০১৬ সালের জাতীয় কনভেনশনের কথা মনে করলে দেখা যায়, সেখানে বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থকেরা নীরব ছিলেন না। দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে তাঁদের সরব উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ডেমোক্রেট দলের বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থকেরা শেষ পর্যন্ত হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো উৎসাহ দেখাননি। অনেকে ভোটকেন্দ্রেই যাননি।

এবারের কনভেনশনে এমন কিছু ঘটেনি। ঘটার সুযোগও ছিল না। কনভেনশনের অন্তত চার মাস আগে থেকে বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থক ও দলের অতি উদারনৈতিক পক্ষকে এক করার জন্য দল একটি ওয়ার্কিং কমিটির মাধ্যমে প্রয়াস চালায়। উদারনৈতিকদের বেশ কিছু দাবি ডেমোক্রেট মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত জো বাইডেনের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়। কনভেনশনে বার্নি স্যান্ডার্স বক্তব্য দিয়েছেন। নিজের অতি উদারনৈতিক পক্ষকেও আহ্বান জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় করার জন্য সব অনৈক্য পাশে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য।

বিজ্ঞাপন
ডেমোক্রেট দলের জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য দেওয়ার পর মঞ্চে জো বাইডেন ও তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেন

ডেমোক্রেট দলের জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য দেওয়ার পর মঞ্চে জো বাইডেন ও তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেন
ছবি: এএফপি

আমেরিকার উদারনৈতিক রাজনীতিতে এখন বার্নি স্যান্ডার্সই মূল নেতা। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া স্যান্ডার্সকে আমেরিকার যুব-তরুণেরা যেমন করে পছন্দ করে, অন্য কারও ক্ষেত্রে তেমন দেখা যায় না। ডেমোক্রেট দল তাদের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে দলের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় বড় কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে মানবিক ও সহনশীলতার প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেনকে উপস্থাপন করতে পেরেছে ডেমোক্রেট দল। প্রথম দিন থেকে শেষ দিনের বক্তব্য পর্যন্ত আমেরিকার রাজনীতিতে মানবিকতা, সহনশীলতার আহ্বানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন থেকে বারাক ওবামা, সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, হিলারি ক্লিনটন—এঁদের সবাই রাজনীতির ইতিবাচক দিকটাকেই সামনে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ কাজে তাঁরা সফলও হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে মানবিক ও সহনশীলতার প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেনকে উপস্থাপন করতে পেরেছে ডেমোক্রেট দল। প্রথম দিন থেকে শেষ দিনের বক্তব্য পর্যন্ত আমেরিকার রাজনীতিতে মানবিকতা, সহনশীলতার আহ্বানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণার পর মঞ্চে জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিস

আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণার পর মঞ্চে জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিস
ছবি: রয়টার্স

জাতীয় নির্বাচনী মঞ্চে সিনেটর কামালা হ্যারিস কীভাবে উপস্থাপিত হবেন, এ নিয়েও উৎকণ্ঠা ছিল। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন হিসেবে কনভেনশন মঞ্চে যোগ্যতার সঙ্গে নিজের অবস্থান তিনি তুলে ধরেছেন। নিজের জীবনের সফল সংগ্রাম এবং বড় একটা রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিজের কর্মক্ষমতার চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন। জো বাইডেন নির্বাচিত হলে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কামালা হ্যারিস প্রয়োজনে জো বাইডেনের যোগ্য উত্তরসূরি ও নিজেকে দক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এর মধ্যেই।

জাতীয় নির্বাচনী মঞ্চে সিনেটর কামালা হ্যারিস কীভাবে উপস্থাপিত হবেন, এ নিয়েও উৎকণ্ঠা ছিল। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন হিসেবে কনভেনশন মঞ্চে যোগ্যতার সঙ্গে নিজের অবস্থান তিনি তুলে ধরেছেন

যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে গত ছয় মাসে। করোনার সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণ হয়নি। আমেরিকার লোকজন এখনো ব্যাপকভাবে কর্মহীন। দীর্ঘ লকডাউনের পর আমেরিকার সবকিছু খুলে দেওয়া হলেও নগর, মহানগর স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। অনেক ছোট বড় প্রতিষ্ঠিত মার্কিন কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির নানা তথ্য দিয়ে এর অগ্রগতি দেখানো হলেও আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন অনেক কিছুই স্পষ্ট না হয়ে উঠলেও আগামী এক বছরে আমেরিকার অর্থনীতির সংকটগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আমেরিকা এখন খুব একটা সুবিধায় নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি দেশের মানুষের যেমন এক ধরনের সংশয়ের সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর একই ভাবমূর্তি আমেরিকার জন্য ইতিবাচক নয়। যদিও বহির্বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো ট্রাম্পকে নিজেদের লোক হিসেবেই মনে করছে। এর কোনো সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন পাচ্ছে কিনা, এ নিয়ে বিতর্ক আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসে পুঁজিবাদ আর বাজার অর্থনীতির নিষ্ঠুরতা যেমন আছে, তেমনি মানবিকতা ও সহনশীলতাকেও সব সময় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গত চার বছরে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর মানবিক অবস্থান থেকে আরও বেশি সরে গেছে বলে যেসব উদারনৈতিক নাগরিক মনে করেন, তাঁদের জন্য ডেমোক্রেট দল কনভেনশনের মাধ্যমে বিকল্প উপস্থাপন করতে পেরেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সুত্র – প্রথম আলো 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »