Ultimate magazine theme for WordPress.

মালিতে সেনা অভ্যুত্থান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আটক

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক: 

মালিতে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তারা প্রেসিডেন্ট বেবাকার কেইতা ও প্রধানমন্ত্রী বোবো সিসেসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আটক করেছে। তাদের রাজধানী বামাকোর অদূরে একটি সেনা ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে বিদ্রোহী সেনারা কাতি ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। খবর বিবিসি ও এএফপি।

মূলত মালিতে কেইতা সরকারকে আগে থেকেই বেশ সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কারণে কেইতা সরকারের বিরুদ্ধে বাড়ছিল জনরোষ। এছাড়া বেতন ও জিহাদিদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংঘর্ষ নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। এ অবস্থায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কেইতাকে আটক করা হয়, যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

এদিকে অভ্যুত্থান ও আটক হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন প্রেসিডেন্ট কেইতা। পাশাপাশি তিনি সংসদ ভেঙে দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ভাষণে বলেন, সেনাবাহিনীর একটি অংশ নিজেদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের অবসান ঘটাতে চায়। এ অবস্থায় আমার জন্য পদত্যাগ ছাড়া বিকল্প পথ খোলা নেই, আমি কোনো রক্তপাত চাই না।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে বামাকোয় সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে গুলি ছুড়ে অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন জুনিয়র কিছু কর্মকর্তা। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন আরো সেনাসদস্য। অভ্যুত্থানের পর থেকেই সেনাসদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে টহল দেয়ার পাশাপাশি মাঝে মধ্যেই ফাঁকা গুলি ছুড়ছেন।কেইতা ২০১৮ সালের দ্বিতীয়বারের মতো মালির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন তার ওপর অনেকের ক্ষোভ বাড়ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বেশ কয়কবার বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। বিশেষ করে দেশটির জনপ্রিয় ইমাম মাহমুদ ডিকোর নেতৃত্বে কেইতাকে পদত্যাগের জন্যও বলা হয়। এর বিপরীতে কেইতা তাকে যৌথ সরকার গঠনসহ নানা প্রস্তাব দেন। কিন্তু মাহমুদ ডিকো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে মঙ্গলবারের অভ্যুত্থানের পর রাজধানীতে সেনাবাহিনীতে অভ্যর্থনা জানাতে বেশকিছু মানুষ জড়ো হয়।

তবে এ অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল। এরই মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস আটক মালির নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে। একই সঙ্গে এখনই সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। এ বিষয়ে সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদে বুধবার (গতকাল) একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের কথা ছিল। এ বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ জানায় ফ্রান্স ও নাইজার। এছাড়া এ অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দি আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট কেইতা ও তার প্রধানমন্ত্রীর আটকের ঘটনায় তিনি খুবই মর্মাহত। দি ইকোনমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস বলেছে, এমন সময়ে এ সেনা বিদ্রোহ ঘটল, যখন কয়েক মাস ধরে সংকট নিরসনে দেশটির সব পক্ষকে নিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছিল।

এ অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর অফিস। সাহেল অঞ্চলে ইসলামী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফ্রান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হলো মালি।

এদিকে টেলিভিশনে অভ্যুত্থানের নেতারা উপযুক্ত সময়ে রাজনৈতিক পালাবদলের পাশাপাশি নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মালি বিমান বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ইসমাইল ওয়াগুয়ে ও তার সহযোগী কর্মকর্তারা বলেন, তারা ইতিহাস ও জনগণের সামনেই এ অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »