Ultimate magazine theme for WordPress.

ইউরো অঞ্চলে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত সুইডেনের অর্থনীতি

করোনাকালে অন্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় সুইডেন অর্থনৈতিকভাবে স্পষ্টতই ভালো করছে। বিশেষ করে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি থেকে দেশটির অর্থনৈতিক সংকোচন হয়েছে অনেক কম। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ওই তিন দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৫, ১৩ দশমিক ৮ ও ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।

0

ক্রাইম টিভি বাংলা বিশেষ রিপোর্ট ——

বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণকালে লকডাউনে না গিয়েও অর্থনৈতিক সংকোচনের মুখে পড়েছে সুইডেন। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এর আগের তিন মাসের তুলনায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির অর্থনীতির সংকোচন হয়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্তত ৪০ বছরের মধ্যে প্রান্তিকীয় হিসাবে এত বড় সংকোচন আর দেখা যায়নি। তবে সুইডিশ পরিসংখ্যান দপ্তর বলছে, এমন সংকোচনের পরও আর্থিকভাবে সুইডেনের অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) অন্য দেশের তুলনায় ভালো। কারণ লকডাউনসহ ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একই প্রান্তিকে ইইউর অর্থনৈতিক সংকোচন হয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। খবর বিবিসি।

  সুইডেনের পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, ১৯৮০ সালের পর যেকোনো এক প্রান্তিকে দেশটির জিডিপিতে এটিই সবচেয়ে বড় পতন। নর্ডিয়া ব্যাংকের প্রধান বিশ্লেষক টর্বজর্ন ইসাকসন জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের পতনের আশঙ্কার বিষয়ে আগেই ধারণা করা হয়েছিল। তবে সত্যি বলতে, অন্য দেশের তুলনায় সুইডেনের এ অবস্থান অনেকাংশেই ভালো। বিশেষ করে কেউ দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোর দিকে তাকালেই এর সত্যতা দেখতে পাবেন।

মূলত মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে সুইডেন প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে সম্ভব স্থলে বাড়িতে বসে কাজ করা এবং গণপরিবহন পরিহারের পাশাপাশি ঐচ্ছিক সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এরই মধ্যে দেশটির প্রায় সব ব্যবসা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো, সুইডেনের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে রফতানিনির্ভর। ফলে বহির্বিশ্বে চাহিদার পতনে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক ধাক্কা খায়।

সুইডিশ কর্তৃপক্ষ বরাবরই বলে আসছে, কভিড-১৯ নিয়ে তাদের পরিকল্পনা বা কর্মপন্থার মূল উদ্দেশ্য মোটেই অর্থনীতির সুরক্ষা নয়। বরং তাদের লক্ষ্য ছিল টেকসই, দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়া। তবে সরকার আশা করেছিল যে সার্বিক লকডাউনে না গিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম তুলনামূলক চালু রাখা গেলে কর্মী ছাঁটাই ও ব্যবসায়িক ক্ষতির লাগাম টেনে ধরা যাবে।

কিন্তু সর্বশেষ এসব উপাত্তই বলে দিচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির পালা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সুইডেন কতটা অসহায়। কারণ অন্য স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশের মতোই ছোট ও উন্মুক্ত অর্থনীতির দেশটি কার্যত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। তাছাড়া ইউরোপের অন্য অঞ্চলের তুলনায় সুইডেনে লকডাউন ও ভাইরাসসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল থাকলেও দেশটির বহু নাগরিক বিক্রয়কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ও ব্যায়ামাগার এড়িয়ে চলেছেন।

সাম্প্রতিক মতামত জরিপে দেখা দেছে, মহামারীজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুইডেন সরকারের কর্মপন্থায় আস্থা কমছে। এখন অর্থনীতি দিন দিন আরো খারাপের দিকে গেলে লকডাউন ঘোষণা না করা এবং প্রাথমিকভাবে উচ্চ মৃত্যুহার নিয়ে দেশটিতে জাতীয় বিতর্ক আরো প্রকট হবে। তবে আশার কথা, জুলাইয়ের পর থেকে কভিড-১৯-এ প্রতিদিনের মৃত্যুহারে দ্রুত পতন হয়েছে। ফলে লকডাউনে না যাওয়ার মতো বিতর্কিত কর্মপন্থার সমর্থকরা আশা করছেন, গৃহীত পদক্ষেপ দেশটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

এদিকে রেকর্ড অর্থনৈতিক সংকোচন সত্ত্বেও সুইডেন এখনো মন্দায় প্রবেশ করেনি। কারণ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। সাধারণত পরপর দুই প্রান্তিকে কোনো অর্থনীতি সংকুচিত হলে সেটি মন্দায় পড়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর সুইডেনের অর্থনৈতিক সংকোচন হবে ৫ শতাংশ। তবে যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ইতালির মতো করোনায় বিপর্যস্ত দেশের তুলনায় এ সংকোচন বেশ কম। এদেক নরডিক দেশগুলোর মধ্যে সুইডেনের বেকারত্বের হার এখনো সবচেয়ে বেশি। মার্চের  ৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দেশটির বেকারত্বের হার এখন ৯ শতাংশ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »