Ultimate magazine theme for WordPress.

আর্জেন্টিনা সাইন্স এবং টেকনোলজিতে বেশ উন্নত ।

0

আর্জেন্টিনা দেশটিতে আদি প্রস্তর যুগে মানব বসতির নিদর্শন পাওয়া যায়। এছাড়াও ১৬শ শতকে স্পেনীয় উপনিবেশীকরণের মাধ্যমে আধুনিক আর্জেন্টিনার সূচনা ঘটে । ১৭৭৬ সালে এখানে স্পেনীয় সাম্রাজ্যের অধীনে রিও দে লা প্লাতা উপরাজ্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে এই উপরাজ্যের উত্তরসূরী রাষ্ট্র হিসেবে আর্জেন্টিনার উত্থান ঘটে। প্রায় তিন শতাব্দী ধরে ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৮১০ সালে আর্জেন্টিনা স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৮১৮ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধবিজয় শেষ হয়। আর্জেন্টিনার রাজধানি হচ্ছে বুয়েনোস আইরেস যেখানে এই দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক বাস করেন ।

এই দেশের মুদ্রার নাম হচ্ছে পেসো । ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ সহ দক্ষিন আমেরিকাতে আয়তনের দিকথেকে ব্রাজিলের পরেই এর অবস্থান ।

প্রায় ৪ কোটি ৩৬ লাখ ১৭ হাজার মানুষের এই দেশটিতে বেশির ভাগ মানুষেরি আগমন ঘটেছিল ইউরোপ থেকে এই দেশের বেশির ভাগ মানুষি স্পেনিশ ভাষায় কথা বলে থাকেন তবে এখনে ইংরেজি ভাষার ও বেশ চর্চা করা হয় । আর্জেন্টিনার পার্শ্ববর্তি দেশ গুলো হচ্ছে যথাক্রমে – চিলি , ব্রাজিল, উরুগুয়ে , বলেভিয়া ,এবং প্যারাগুয়ে ।

সাইন্স এবং টেকনোলজিতে আর্জেন্টিনা বেশ উন্নত । বিশ্বের সর্বো প্রথম ফিঙ্গার প্রিন্ট মানে আঙ্গুলের ছাপ নেয়া এই আর্জেন্টিনা থেকেই চালু হয়েছিল এছারাও এই দেশথেকেই সর্বোপ্রথম প্রতিদিনের রেডিওর সম্প্রচার শুরু হয়েছিল ।

এক গবেষণা বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনার মানুষরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ২০ ঘন্টা রেডিও শুনে থাকেন যা বিশ্বের অন্য যেকনো দেশের তুলনায় সবচাইতে বেশি । প্রাকৃতিক সম্পদেও বলা চলে আর্জেন্টিনা বেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ ।বিশ্বের সর্বোমোট উদ্ভিত প্রজাতির প্রায় ১০ শতাংশ এই দেশটিতে পাওয়া যায় । আর্জেন্টিনার প্রধান ফসল হচ্ছে গম ।

পুরো বিশ্বে গম রপ্তানিতে আর্জেন্টিনার অবস্থান হচ্ছে পঞ্চম নম্বরে । এছারাও এই দেশটি পৃথিবির বুকে সবচাইতে বেশি গরুর মাংস উৎপাদন কারি দেশ । বছরে প্রায় ২.৩ – ৩, ৫ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে বিশ্বের বুকে গরুর মাংস উৎপাদনের দিক থেকে আর্জেন্টিনার অবস্থান হচ্ছে তৃতীয় ।

আর্জেন্টিনাতে রয়েছে বিশ্বের সর্বো বৃহৎ রাজ পথ – জুলাই ৯ এভিনিও । এই রাজপথটিতে মোট ১২ টি লেন রয়েছে। এই দেশটিতে আরো রয়েছে – পেরিটো মরেনো গ্লেসিয়ার । যা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মিষ্টি পানির উৎস হিসেবে পরিচিত।

এছারাও আর্জেন্টিনাতে রয়েছে ইগাজু জলপ্রপাত। যাকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর জল প্রপাত বলা হয়। প্রতি বছর এই জলপ্রপাত দেখার জন্য মিলিয়ন পর্যটকদের আগমন ঘটে এই যায়গায়।

লিওনেল মেসি , ম্যারাডোনা মত কিংবদন্তি প্লেয়ার ছারাও আর্জেন্টিনা জন্ম গ্রহন করেছিলেন কিউবান বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব, “আর্নেস্তো চে গুয়েভারা”। এছারাও এই দেশটিতে অনেক নোবেল পুরুস্কার অর্জন কারি ব্যাক্তিত্ব বিদ্যমান ।

মজার ব্যাপার হচ্ছে আর্জেন্টিনা মেসি নামটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলযে এক পর্যায় লিওনেল মেসির জন্মস্থান শহরে মেসি নাম না রাখার জন্য সরকারের পক্ষথেকে আদেশ জারি করাহয় ।

এর কারন হিসেবে বলা হয় একটি শহরে এত জন মেসি নামের মানুষ থাকা যেকনো সরকারের পক্ষেই সামাল দেয়া কষ্ট সাধ্য ব্যপার । আর্জেন্টিনার সবচাইতে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ফুটবল ।

সেদেশের অনেক মানুষি মনে করে থাকেন একমাত্র ফুটবলি হচ্ছে তাদের ভাগ্যের চাকা খুলবার চাবি । উল্লেখ্য এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিশ্ব কাপের ফাইনালে ৪ বার উত্তিন হয়ে শিরপা জিতার গৌরব অর্জন করে দুবার । এছারাও আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা কাপ জয়লাভ করেছে ১৪ বার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »